ভারতের কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে উপমহাদেশের সঙ্গীতজগতে। ১২ এপ্রিল মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই গায়িকা।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাল্টি-অর্গান ফেলিওরের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
তেমনই ১০টি তথ্য জেনে নেওয়া যাক-
মাত্র ৯ বছর বয়সে পেশাদার গায়িকা
মাত্র ৯ বছর বয়সে পেশাদারভাবে গান গাওয়া শুরু করেছিলেন আশা ভোঁসলে। ওই বয়সে যখন শিশুরা খেলাধুলায় মগ্ন, তখন তিনি স্টুডিয়োতে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাস রচনা শুরু করেছিলেন।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে ৩১ বছর বয়সী গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করে পালিয়ে যান আশা। গণপতরাও ছিলেন তার ব্যক্তিগত সচিব।
২০০৬ সালে আশা ভোঁসলে নিজেই জানিয়েছিলেন- তার ক্যারিয়ারে ১২,০০০-এরও বেশি গান রেকর্ড হয়েছে। এই সংখ্যা একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রেও নিশ্চিত। ২০টিরও বেশি ভারতীয় ও বিদেশি ভাষায় তিনি গান গেয়েছেন।
বাংলা গানেও অনন্য অবদান
১৯৫৮ সালে হিজ মাস্টার্স ভয়েস ব্যানারে প্রথম বাংলা গান রেকর্ড করেন আশা ভোঁসলে। সুধীন দাশগুপ্ত ও বিনোদ চট্টোপাধ্যায়ের সুরে সেই গান রেকর্ড করা হয়। ২০১৮ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান বাংলাবিভূষণ প্রদান করে।
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের সাহসী সিদ্ধান্ত
আশা ভোঁসলে মোট সাতবার ফিল্মফেয়ার সেরা প্লেব্যাক পুরস্কার জিতেছিলেন। ১৯৭৯ সালে পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি বড় বোন আরেক প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের মতোই ঘোষণা করেন- নতুন প্রতিভার সুযোগ দিতে তিনি আর মনোনয়নের জন্য বিবেচিত হতে চান না।
আশাকে উৎসর্গ করে ব্রিটিশ ব্যান্ডের গান প্রকাশ
ব্রিটিশ অল্টারনেটিভ রক ব্যান্ড ‘কর্নারশপ’ ১৯৯৭ সালে ‘ব্রিমফুল অফ আশা’ শিরোনামের গানটি আশা ভোঁসলেকে উৎসর্গ করে প্রকাশ করে। ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি ইউকে সিঙ্গেলস চার্টের শীর্ষে ওঠে।
মৃত্যুর বছরেও গরিলাজের অ্যালবামে
২০২৬ সালে ব্রিটিশ ভার্চুয়াল ব্যান্ড ‘গরিলাজ’র নবম স্টুডিও অ্যালবাম ‘দ্যা মাউন্টেইন’-এ ‘দ্যা শ্যাডোয়ি লাইট’ ট্র্যাকে তার কণ্ঠ শোনা যায়। এটি আশা ভোঁসলের অন্যতম শেষ কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়।
আরডি বর্মনের সঙ্গে প্রেম ও বিবাহ
১৯৮০ সালে বিখ্যাত সুরকার রাহুল দেব বর্মনকে বিয়ে করেন আশা। যিনি তার চেয়ে ছয় বছরের ছোট ছিলেন। এই বিয়েতে বর্মন পরিবারের বিরোধিতা ছিল। ১৯৯৪ সালে আরডি বর্মনের মৃত্যু হয়।
অভিনয়েও সাফল্য
২০১৩ সালে ‘মাই’ চলচ্চিত্রে অভিনেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছিলেন।
শেষ বিদায়
তার পার্থিব দেহ সোমবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ২টা পর্যন্ত মুম্বাইয়ের বাসভবনে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হবে। বিকেল ৪টায় শিবাজী পার্কে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।




