এর আগে এ রেকর্ডটি ছিল ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো ১৩ মিশনের নভোচারীদের দখলে। তারা পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরত্ব পেরিয়েছিলেন।
মানুষ পৃথিবী থেকে মহাকাশে কত দূর যেতে পারে, অর্ধশতকের সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন আর্টেমিস টু মিশনের চার নভোচারী।
এর আগে ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো–১৩ মিশনের নভোচারীরা পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরত্ব পেরিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ সময় সোমবার মধ্যরাতে আর্টেমিস টু মিশনের নভোচারীরা সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যান।
আরো প্রায় ৪ হাজার ১০২ মাইল এগিয়ে গিয়ে পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল দূরত্বে পৌঁছানোর পর তারা চাঁদকে ঘুরে এসে বাড়ির পথ ধরবেন।
অ্যাপোলো ১৩-এর রেকর্ড ভাঙার পর আর্টেমিস টু মিশনের কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন বলেন, “আমরা পৃথিবী থেকে মানুষের এ যাবৎকালের সবচেয়ে দূরবর্তী পথ পেরিয়েছি। মহাকাশ গবেষণায় আমাদের পূর্বসূরীদের অসাধারণ পরিশ্রম ও সাফল্যকে সম্মান জানিয়েই আমরা এ কৃতিত্ব পেলাম।
“আমাদের এই প্রিয় পৃথিবী তার টানে আমাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা মহাকাশের আরও গভীরে আমাদের যাত্রা অব্যাহত রাখব।”
সবশেষে তিনি বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “তোমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন এই রেকর্ডটি খুব বেশিদিন টিকে না থাকে। তোমরা যেন শিগগিরই রেকর্ডটি ভেঙে আরও দূরে যেতে পার।”
এরপর এক হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তে হ্যানসেন বলেন, তারা চাঁদের দুটি নতুন গহ্বরের নামকরণ করতে চান, যা তারা মহাকাশযান থেকে খালি চোখে দেখতে পাচ্ছেন।
চাঁদের ‘ওম’ গর্তের কাছে অবস্থিত একটি গহ্বরেন নাম রাখা হয়েছে তাদের ওরিয়ন মহাকাশযানের সম্মানে ‘ইন্টেগ্রিটি’।
‘গ্লুশকো’ নামের এক উজ্জ্বল গর্তের পাশে অন্য গহ্বরের নাম তারা ক্যারল রাখার প্রস্তাব দিচ্ছেন। আর্টেমিস টু মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের প্রয়াত স্ত্রী ক্যারল টেলর ওয়াইজম্যানের স্মরণে তাদের এই নাম রাখার প্রস্তাব।
পেশায় নার্স ক্যারল ২০২০ সালে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মারা যান।
কথাগুলো বলার সময় জেরেমি হ্যানসেনের গলা আবেগে কেঁপে উঠছিল। তার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চার নভোচারী একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন।
এ দৃশ্য দেখে হিউস্টনে নাসার কন্ট্রোল রুমেও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।





