ইরানের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরের কাছাকাছি ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক ঘাঁটিতে সৈন্য-সামন্ত জড়ো করছে। কাছাকাছি নিয়ে এসেছে সবচেয়ে ব্যয়বহুল রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’কে। ওই অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা যখন বেজে ওঠার অপেক্ষায়, তখন এক অদ্ভুত ‘যুদ্ধে’ লিপ্ত হতে হয়েছে রণতরীটির সেনাদের। এই যুদ্ধ টয়লেট নিয়ে।
অর্থাৎ এখানে দুই শতাধিক টয়লেট বিকল হয়ে পড়ার পাশাপাশি যেগুলো আছে, সেগুলোর ব্যবহারেও ‘বাড়তি সতর্ক’ থাকতে হচ্ছে।
দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর ১৩ বিলিয়ন ডলারের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ একটি বড় ধরনের কার্যগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এটি কোনো শত্রু ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে নয়, বরং ত্রুটিপূর্ণ ভ্যাকুয়াম প্লাম্বিং ব্যবস্থার কারণে।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে সহায়তা দিতে দীর্ঘ সময় ক্যারিবীয় অঞ্চলে মোতায়েন থাকার পর বর্তমানে জেরাল্ড ফোর্ড তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
২০২৫ সালের ১৮ মার্চ একটি অভ্যন্তরীণ প্রকৌশল স্মারকে জানানো হয়েছে, মাত্র চার দিনের মধ্যে জাহাজটিতে ২০৫টির বেশি টয়লেট বিকল হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক হয়ে ওঠে যে, নাবিকদের শৌচাগার ব্যবহারের জন্য ৪৫ মিনিট পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।
সমস্যার মূল কারণ হলো, ভঙ্গুর ভ্যাকুয়ামভিত্তিক ব্যবস্থায় নকশা ও প্রকৌশলগত ত্রুটি। প্রায় চার হাজার ৬০০ জনের ক্রুর জন্য তুলনামূলকভাবে খুব অল্পসংখ্যক টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে। নকশাগত ত্রুটির ফলে একটি মাত্র ভালভ বিকল হলেই পুরো বিভাগের সব টয়লেট অচল হয়ে যেতে পারে, যা একটি সাধারণ ত্রুটিকে জাহাজজুড়ে বিপর্যয়ে রূপ দেয়।
বর্তমানে জাহাজটি শত্রুভাবাপন্ন জলসীমায় মোতায়েন থাকায় স্থায়ী সমাধানের কোনো ‘সম্ভাবনা নেই’।
অবশ্য প্রকৌশল প্রধানের অভিযোগ, নাবিকরা প্রতিদিন ব্যবস্থাটিকে ‘ভুলভাবে ব্যবহার ও ক্ষতিগ্রস্ত’ করছেন। অতিরিক্ত কাজের চাপে থাকা হাল টেকনিশিয়ানরা পাইপলাইন সম্পূর্ণভাবে ফেটে যাওয়া ঠেকাতে প্রতিদিন ১৯ ঘণ্টারও বেশি সময় কাজ করছেন।
জেরাল্ড ফোর্ড কয়েক মাস ভেনেজুয়েলার কাছে অবস্থান করে তেলবাহী জাহাজ জব্দে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছে।
জানা গেছে, চলতি বছর ভার্জিনিয়ার নরফোক নেভাল শিপইয়ার্ডে এটি মেরামতের জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে জরুরি প্রয়োজনের কারণে ইরানের কাছে তেহরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য রণতরীটিকে মোতায়েন করা হয়েছে।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, যখন একটি ১৩ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধজাহাজ প্লাম্বিং সমস্যায় কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সফলভাবে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে?




