কৌশলগত ব্যর্থতায় লক্ষ্য বদলাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: বিশ্লেষক

1775044604-592bb7402f3d426ab37b6729357034b4

যুদ্ধে বড় বড় ক্ষেত্রে অগ্রগতি করতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্র তার ঘোষিত লক্ষ্যগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনছে, এমনটাই মনে করেন দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এলমাসরি বলেন, যুদ্ধের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘খুবই অসংগত’ ছিলেন এবং ‘অস্পষ্ট, কখনো কখনো পরস্পরবিরোধী লক্ষ্য’ নির্ধারণ করেছিলেন।

তিনি বলেন, তখন থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বার্তাকে একত্রিত করতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে ইরানে সরকার পরিবর্তন, চুক্তি করা এবং হরমুজ প্রণালীর বিষয়গুলোতে তাদের অবস্থান বারবার বদলাতে দেখা যাচ্ছে।

এলমাসরি বলেন, ‘শুরুর দিকে তারা শাসন পরিবর্তনের কথা বলছিল, এটা স্পষ্টভাবে এই অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। কিন্তু এখন তারা এক ধরনের স্বীকারোক্তি দিচ্ছে যে বর্তমান শাসন অব্যাহত রয়েছে এবং সেটা কোথাও যাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়েও ট্রাম্পের অবস্থান বদলেছে। এখন তিনি বলছেন, হয়তো চুক্তির প্রয়োজনই নেই।

একইভাবে হরমুজ প্রণালী নিয়ে অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছে।
এলমাসরির মতে, ‘এই ভাষাগত পরিবর্তনগুলো আসলে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক কৌশলগত ব্যর্থতারই ফল, তারা এই যুদ্ধে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।’

ইরান যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প

ইরান ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দিতে বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট তার এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রাত ৯টায় (ইস্টার্ন টাইম) ভাষণ দেবেন ট্রাম্প।

এর আগে, হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরান ছাড়বে। ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর এক মাস পূর্তির মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও অর্থনীতি বিষয়ক টেলিভিশন চ্যানেল সিএনবিসির বরাতে ট্রাম্প বলেন, আমরা চলে যাব, কারণ এটা করার কোনো কারণ নেই। আমরা খুব শিগগিরই সরে যাচ্ছি।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানকে কোনো চুক্তি করতেই হবে এমন নয়। এটি একটি নতুন শাসনব্যবস্থা, তারা এখন অনেক বেশি সহজলভ্য, বলেন তিনি।

পারমাণবিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে ট্রাম্পের ভাষ্য, দীর্ঘ সময়ের জন্য তাদের সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। তখন চুক্তি হোক বা না হোক, আমরা সেখান থেকে চলে আসব।

অন্যদিকে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে এবং কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালী স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে।

তিনি বলেন, আমরা খুব বেশি দিন সেখানে থাকছি না। আমরা এখন তাদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিচ্ছি।
ট্রাম্প আরও বলেন, তাদের যে আক্রমণাত্মক সক্ষমতা অবশিষ্ট আছে, সেটি পুরোপুরি ধ্বংস করতে কিছু কাজ বাকি রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, পারস্য উপসাগরের এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি পুনরায় চালুর দায়িত্ব অন্যান্য দেশই নিতে পারে।

পারসিয়ান গাল্ফ সংলগ্ন এ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়।

যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান এটি অবরুদ্ধ করায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে।
এছাড়া, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করা একটি ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ইসফাহান শহরের কাছে বড় ধরনের বিস্ফোরণ অনেক কিছুতে আঘাত হেনেছে।

বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, ট্রাম্পের এ ভাষণ বৃহস্পতিবার সকালে প্রচারিত হবে বলে জানা গেছে।

Pin It