ক্ষমা চেয়েও পদত্যাগের চাপে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

starmar-090226-01-1770659151

যৌন অপরাধী এপস্টেইন ঘনিষ্ঠ ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসাবে নিয়োগ করা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। সম্প্রতি এই নিয়োগের দায় নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দুই সহযোগীর পদত্যাগ তার নেতৃত্বে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েও পার পাচ্ছেন না। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে ম্যান্ডেলসন বিতর্ক এবং এর জেরে একের পর এক জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের পদত্যাগের ঘটনায় সৃষ্ট নৈরাজ্যের মধ্যে স্টারমারের ওপর পদত্যাগের চাপ থেকেই যাচ্ছে।

সোমবার স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন স্কটিশ লেবার পার্টির নেতা আনাস সারওয়ার। সোমবার তড়িঘড়ি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান, যা ডাউনিং স্ট্রিটে স্টারমারের নেতৃত্বকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সিনিয়র এই লেবার রাজনীতিবিদ সাংবাদিকদের বলেন, “এই বিক্ষিপ্ত পরিস্থিতির অবসান হওয়া দরকার এবং ডাউনিং স্ট্রিটের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসা প্রয়োজন।”

সারওয়ার জানান, ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট থেকে ‘অসংখ্য ভুল’ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে একজন ‘ভদ্রলোক’ হিসেবে অভিহিত করলেও সারওয়ারের মতে, স্টারমার আগামী মে মাসে অনুষ্ঠেয় স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টির জয়ের সম্ভাবনা নস্যাৎ করছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এখন দেশের স্বার্থ সবার আগে দেখা উচিত।

জেফরি এপস্টেইনকে নিয়ে লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনের মিথ্যা কথায় বিশ্বাস করে তাকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আগেই ক্ষমা চেয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এরপর ওই বিতর্কের জেরে পদত্যাগ করেন তার চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি।

এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকার পরও ২০২৪ সালে ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ঘটনায় ম্যাকসুইনির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক বেড়ে চলেছে।

এ পরিস্থিতিতে চাপের মুখে নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করেন স্টারমারের শীর্ষ উপদেষ্টা ম্যাকসুইনি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা লর্ড ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের বন্ধুত্বের কথা জানার পরও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছিলেন বলে অভিযোগ আছে।

কেবল ম্যাকসুইনিই নয়, স্টারমারের যোগাযোগ প্রধান টিম অ্যালানও পদত্যাগ করেছেন। ম্যাকসুইনির পদত্যাগের একদিন পরই অ্যালান পদত্যাগ করেন। ঘনিষ্ঠ এই নেতাদের পদত্যাগই এখন স্টারমারের নেতৃত্বে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্কটিশ লেবার নেতা সারওয়ারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্টারমারের উপর্যুপরি ভুল ও জেফরি এপস্টেইন-পিটার ম্যান্ডেলসন কেলেঙ্কারির কারণে স্কটল্যান্ডে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে দেখা গেছে, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি) এবং রিফর্ম পার্টির পেছনে পড়ে লেবার পার্টি এখন তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

সারওয়ার জানান, তিনি সোমবার সকালেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তাকে পদত্যাগ করার কথা জানিয়েছেন। তবে এই বিষয়ে তাদের মধ্যে ‘মতৈক্য হয়নি’ বলে জানান তিনি।

ওদিকে, ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র বলেছেন, স্টারমার পদত্যাগ করবেন না। তিনি কাজে মনোনিবেশ করছেন। তাছাড়া, স্টারমারের মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন মন্ত্রীও স্টারমারকে সমর্থন জানিয়েছেন।

স্কটিশ লেবার নেতা সারওয়ারের পদত্যাগের দাবি শুনে মন্ত্রিসভার এই সদস্যরা স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন। উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি প্রথম ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে স্টারমারের প্রতি জনসমক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন।

এক পোস্টে তিনি বলেন, “১৮ মাস আগে কিয়ার স্টারমার বিশাল ম্যান্ডেট পেয়েছেন। যুক্তরাজ্যকে পরিবর্তন করার লক্ষ্য থেকে আমাদের বিচ্যুত হওয়া উচিত নয়।”

তবে মন্ত্রিসভার একজন সদস্য গার্ডিয়ান পত্রিকাকে বলেছেন, এই মুহূর্তে নেতৃত্বের লড়াই শুরু করা হবে এক ধরনের ‘পাগলামি’।

ওদিকে, ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার এলুনেড মরগান আপাতত এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে, সাবেক উপ লেবার নেতা আঙ্গেলা রায়নার এমপি দেরকে এক হওয়ার ডাক দিয়েছেন।

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে স্কটল্যান্ডের ৫৭টি আসনের মধ্যে ৩৭টিতে জয় পেয়েছিল লেবার পার্টি। সেই সাফল্যের পর মে মাসের নির্বাচন নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন সারওয়ার।

কিন্তু বর্তমান কেলেঙ্কারি ও স্টারমারের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা সেই পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। সারওয়ারের দল মনে করছে, স্টারমার পদে বহাল থাকলে স্কটল্যান্ডে লেবার পার্টির জয়ের কোনও সম্ভাবনা থাকবে না।

Pin It