চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদ শনিবার

1773846538-b0d4dfdab819f6da693774ab0a395111

জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ভৌগোলিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বাংলাদেশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাবে না। অমাবস্যার পর প্রতিপদ শুরু হয়, যা বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে বাংলাদেশ সময় শুরু হবে। এ সময়ে সূর্য আকাশে থাকার কারণে নতুন চাঁদ খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। ফলে দেশজুড়ে ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে পরদিন, শনিবার (২১ মার্চ)।

জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুযায়ী, নতুন চাঁদের জন্মমুহূর্ত একই সময়ে ঘটে, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যমান হয় না। খালি চোখে চাঁদ দেখতে হলে নির্দিষ্ট বয়স, সূর্য থেকে কৌণিক দূরত্ব এবং সূর্যাস্তের পর দিগন্তের ওপর উচ্চতায় থাকা প্রয়োজন। সাধারণত পশ্চিম আকাশে সূর্যাস্তের পর চাঁদ প্রথম দেখা যায়।

ডাইরেক্টরি পঞ্জিকা অনুযায়ী, বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল ৮টা ১৭ মিনিটে অমাবস্যা শুরু হয় এবং ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে শেষ হয়।

এরপর প্রতিপদ শুরু হয় এবং ২০ মার্চ (শুক্রবার) রাত ৪টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। অর্থাৎ ২০ মার্চ থেকে চাঁদের দ্বিতীয় দিন শুরু হবে এবং সন্ধ্যায় দেশের যেকোনো স্থান থেকে দ্বিতীয়ার চাঁদ দেখা যাবে, যদি আকাশ মেঘমুক্ত থাকে।ভৌগোলিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর কাদের বলেন, নতুন চাঁদ থেকে পরবর্তী নতুন চাঁদ পর্যন্ত গড়ে ২৯ দশমিক ৫ দিন লাগে, যা সিনোডিক মাস হিসেবে পরিচিত। নাসার তথ্য অনুযায়ী, এই মাসের দৈর্ঘ্য ২৯ দিন ১২ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট ৩ সেকেন্ড।

এই হিসাব অনুযায়ী চন্দ্রবর্ষ ৩৫৪–৩৫৫ দিন হয়, যা সৌরবর্ষের চেয়ে প্রায় ১১ দিন কম। তাই প্রতিবছর ঈদের তারিখ ১০–১১ দিন এগিয়ে আসে।

বাংলাদেশ সৌদি আরবের পূর্বে অবস্থিত। স্থানীয় সময়ের পার্থক্যের কারণে সৌদি আরবে চাঁদ বাংলাদেশ থেকে একদিন আগে দেখা যায়। সৌদি আরবে ১৮ মার্চ চাঁদ দেখা যায়নি, ফলে সেখানে রমজান ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং ২০ মার্চ ঈদ উদযাপন করা হবে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, ২০ মার্চ বাংলাদেশে দ্বিতীয়ার চাঁদ দেখা যাবে এবং ২১ মার্চ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদ উদযাপন হবে। তুরস্ক ও সিঙ্গাপুরও পূর্বেই ২০ বা ২১ মার্চের জন্য ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে একদিনের পার্থক্য কমানো সম্ভব। তবে শরীয়তে স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় বাংলাদেশে ঈদ সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পরে উদযাপিত হয়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে চাঁদের অবস্থান ও দৃশ্যমানতা নির্ভুলভাবে গণনা করা যায়। দীর্ঘমেয়াদে যদি বৈশ্বিক ক্যালেন্ডার ব্যবহৃত হয়, তাহলে একই দিনে ঈদ উদযাপন সম্ভব। তবে বর্তমানে দেশের ভৌগোলিক ও ধর্মীয় প্রথার কারণে এই পার্থক্য বজায় রয়েছে।

Pin It