“আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে হোক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা চালু রাখতে হবে,” বলেন তিনি।
বিএনপি নির্বাচিত হলে দেশের মানুষের জন্য কী করবে, সে কর্মপরিকল্পনা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন দলের নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জবাবদিহি নিশ্চিতে সংবাদমাধ্যমকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে তিনি বলেছেন, এমন সমালোচনা চান তিনি, যাতে দেশের সমস্যাগুলো সমাধান করা যায়।
শনিবার দুপুরে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা ইনশাল্লাহ দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে, যাতে আপনাদের কাছ থেকে এমন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা আমরা পাই, যেটা আমাদেরকে সাহায্য করবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে।
“শুধু সমালোচনা সমালোচনা করার জন্য নয়। আপনাদের কাছ থেকে এমন সমালোচনা যেন আমরা পাই, যাতে আমরা দেশের মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে, সেই সমস্যাগুলো যাতে আমরা সমাধান করতে সক্ষম হই। আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে সেই প্রত্যাশা আপনাদের কাছে রাখছি।”
তারেক রহমান বলেন, “আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে।
“গত ২৫ তারিখে যখন আমি দেশে এসে একটি কথা বলেছিলাম, মার্টিন লুথার কিং যেমন ৬২ বছর আগে বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’। আমি বলেছিলাম, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’।
সেই প্ল্যানের মধ্যে একটি অংশ আছে বাংলাদেশের যে অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী, তাদেরকে ঘিরে। সেটি হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’।”
যুক্তরাজ্যে দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর ৩০ ডিসেম্বর তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান।
এর ১০ দিনের মাথায় শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। এর পরদিন প্রথম কর্মসূচিতে ঢাকার একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন তিনি।
দেশের দৈনিক পত্রিকা, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিকরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে’
সংঘাতে না জড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনে নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের বিভিন্ন মত পার্থক্যগুলো যাতে আমরা আলোচনা করতে পারি, আলাপ করতে পারি। আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেটা আমরা ১২ তারিখ (ফেব্রুয়ারি) থেকে ইনশাল্লাহ শুরু করতে যাচ্ছি।
“আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে হোক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা চালু রাখতে হবে, আমাদের জবাবদিহিতাটা চালু রাখতে হবে যেকোনো মূল্যে।”
জাতীয় ও স্থানীয় যে কোনো পর্যায়ে হোক, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারলে নিশ্চয়ই অবস্থার পরিবর্তন ঘটানোর বিষয়ে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
৫ অগাস্টের আগের পরিস্থিতিতে আর নয়
তারেক রহমান বলেন, “আমাদের সমস্যা ছিল, আমাদের সমস্যা আছে। অবশ্যই আমরা ৫ আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। আমি আমার অবস্থান থেকে যদি চিন্তা করি, আমার এক পাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা, একই সাথে আমার এক পাশে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের একটি জানাজা আর আমার আরেক পাশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের একটি ঘটনা। কাজেই আমার মনে হয় এটি শুধু বোধহয় আমার একার জন্য নয়।”
‘মতপার্থক্য যেন মতবিভেদে না যায়’
হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার রাজনীতে জিইয়ে না রাখার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “একটি মানুষ, একটি দল বা যেভাবে আমরা বিবেচনা করি, তার পরিণতি কী হতে পারে আমরা দেখেছি ৫ আগস্ট।”
মতপার্থক্যটাকে সেখানেই রেখে না দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করা সক্ষম বলে তুলে ধরে তিনি বলেন, “কিন্তু কোনোভাবেই সেটি যাতে মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়। মতবিভেদ হলে বিভেদ হলে জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে, আমরা দেখেছি। আজকে সেজন্যই অনেকের মুখে অনেক কথা শুনি, হতাশার কথা আমরা শুনি, কিন্তু তারপরও আশার কথা হচ্ছে যে, তাদের কাছে ভবিষ্যতের চিন্তাও আছে, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আছে।”
অগ্রাধিকার নিয়ে যা বললেন
অনেক দিন ধরে সংস্কার নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, তিনি সংস্কারকে তিন ভাগে দেখেন। একটি হচ্ছে সংবিধান, একটি আইন এবং অন্যটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, নিরাপত্তা এ সব নিয়ে।
তিনি বলেন, “আমরা সাংবিধানিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, আইনগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমার মনে হয়েছে, মানুষের প্রতিদিনকার প্রত্যেকটি মানুষ সকল সমাজের প্রত্যেকটি শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের প্রতিদিনকার যেই চাওয়া-পাওয়াগুলো, প্রয়োজনগুলো সেটা নিয়ে বোধহয় আমরা আলাপ আলোচনা একটু কম করেছি।
“আমার কাছে মনে হয়েছে সেই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় আলোচনা করা উচিত, সেই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের আলোচনা করা উচিত। আমরা শুধু রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সেমিনার করছি, সিম্পোজিয়াম করছি আলোচনা করছি, তর্ক বিতর্ক করছি। অবশ্যই ওগুলো প্রয়োজন আছে, কিন্তু ‘অ্যাট দা সেইম টাইম’ আমরা যদি মানুষের প্রতিদিনকার তার চিকিৎসা ব্যবস্থা কী হবে, তার কর্মসংস্থান কী হবে, তার পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা ব্যবস্থা কী হবে, রাস্তায় বের হলে নিরাপদে সে ফিরে আসতে পারবে কি না…. এই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় আমাদের আলোচনা আরেকটু বেশি হওয়া উচিত। এই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় আমাদের কর্মসূচি-পরিকল্পনা আরেকটু বেশি হওয়া উচিত, আমাদের চিন্তাভাবনা আরেকটু বেশি হওয়া উচিত।”
‘নতুন প্রজন্ম দিকনির্দেশনা চায়’
দেশে ফিরে ঢাকার বাইরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “আমি সাভারে গিয়েছিলাম, আরও কয়েকটি জায়গায় গিয়েছিলাম, আমার কাছে মনে হয়েছে নতুন প্রজন্ম একটি ‘গাইডেন্স’ চাইছে, নতুন প্রজন্ম একটি আশা দেখতে চাইছে। শুধু নতুন প্রজন্ম না, আমার কাছে মনে হয়েছে প্রত্যেকটি প্রজন্মই মনে হয় কিছু একটি গাইডেন্স চাইছে।”
মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য আন্দোলন সংগ্রামের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজনীয় তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “আমরা রাজনীতিবিদরা যদি ১৯৭১ সাল, ১৯৯০ সাল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট- এই সবগুলোকে আমাদের সামনে রেখে, আমরা যদি দেশের স্বাধীনতা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি, তাহলে নিশ্চয়ই আমার কাছে মনে হয় একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা জাতিকে একটি সঠিক ‘ডাইরেকশনে’ নিয়ে যেতে সক্ষম হব।”
কর্মসংস্থান
কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, সবার জন্য চিকিৎসা সুবিধা, তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের জন্য কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন এবং প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, উদ্যোক্তা তৈরি, আইটি পার্কগুলোকে নতুনভাবে সুবিধা দিয়ে গড়ে তোলাসহ কর্মসংস্থানে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলে তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “আমাদের ২০ কোটির মতো মানুষ এই দেশে এবং এই ২০ কোটি মানুষের মধ্যে একটি বড় অংশ হচ্ছে তরুণ সমাজের সদস্য। এই তরুণ সমাজের সদস্যদেরকে বিভিন্নভাবে আমাদেরকে উপায় বের করতে হবে… কীভাবে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায় … সেটি দেশের ভেতরে হোক, সেটি দেশের বাইরে হোক।”
তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হলে স্বাধীনতা যুদ্ধ, নব্বই ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যেকটি প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
নিরাপত্তা
নারী-পুরষের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে গত বছরে ৭ হাজারের মতো মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে। আমার কাছে বিষয়টি খুব অস্বাভাবিক লাগে। আমার ধারণা, আপনারা যদি একটু চিন্তা করেন, আপনাদের প্রত্যেকের কাছে বিষয়টি অস্বাভাবিক লাগবে। কিন্তু ঘটনাটি ঘটছে…কোনো বছর বেশি, কোনো বছর কম। এই অস্বাভাবিক ঘটনাটি কেন ঘটবে?”
সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, খুব অবস্থাপন্ন লোক, যারা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল তারা যে মারা যাচ্ছেন, তা না। কিন্তু যে মানুষগুলো মারা যাচ্ছে সেই মানুষগুলো, হয়তোবা তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনের উৎস, মারা যাওযার পরে সেই পরিবারের কী হচ্ছে অথবা লোকটি যদি পঙ্গু হয়ে যায়, তাহলে তার পরিবারের কী হচ্ছে। এই বিষয়টি বোধহয় আমাদেরকে নজরে আনা উচিত।”
কৃষক ও নারী প্রসঙ্গ
বিএনপি চেয়ারম্যানের বক্তব্যে দেশের কৃষক ও নারীদের প্রসঙ্গও ছিল।
সংবাদপত্রে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের অসহায়ত্বের খবর প্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার বিগত সরকারের কথা বলব, আমার দলের বিগত সরকারের কথা বলব, সেই সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
“এত বিশাল সংখ্যাক কৃষক, যারা ২০ কোটি মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থা করছে, অন্নের সংস্থান করছে, সেই এত বড় সমাজটাকে কীভাবে সাপোর্ট দেওয়া যায়? তাদের হয়ত সেভাবে বলার সুযোগ নেই।”
কাজেই তাদের কথা জানতে হবে, বলেন তারেক রহমান।
নারীদের শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। এই নারীরাই শিক্ষিত হয়েছে, এদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। আমি যে ফ্যামিলি কার্ডটি বলেছিলাম সেটির লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হচ্ছে সেটাই এই নারী সমাজকে গড়ে তোলা।”
এই অনুষ্ঠানে সম্পাদকদের মধ্যে ছিলেন দৈনিক যায়যায়দিনের শফিক রেহমান, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, মানব জমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজের নুরুল কবির, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী।
এছাড়া দৈনিক ইনকিলাবের এএমএম বাহাউদ্দিন, আমার দেশের মাহমুদুর রহমান, যুগান্তরের আবদুল হাই শিকদার, সংবাদের আলতামাশ কবির, ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শামসুল হক জাহিদ, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এর ইনাম আহমেদ, কালের কন্ঠের হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের আবু তাহের, বণিক বার্তার হানিফ মাহমুদ, দৈনিক সমকালের শাহেদ মোহাম্মদ আলী, প্রতিদিনের বাংলাদেশ এর মারুফ কামাল খান সোহেল, দেশ রূপান্তরের কামাল উদ্দিন সবুজ, নয়া দিগন্তের সালাহ উদ্দিন বাবর, ডেইলি সানের মো. রেজাউল করিম, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, মানবকন্ঠের শহীদুল ইসলাম, সুরমার (লন্ডন) শামসুল আলম লিটন, দেশ বার্তার সালেহ বিপ্লব, নিউ নেশনের মোকাররম হোসেন।
নয়া দিগন্তের মাসুমুর রহমান খলিলী, প্রথম আলোর সাজ্জাদ শরীফ, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহনাজ করিম, জনকন্ঠের খুরশীদ আলম, বাংলা বাজার পত্রিকার রাশেদুল হক, যুগান্তরের এনাম আবেদীন, আমাদের সময়ের নজরুল ইসলাম, দৈনিক নাগরিক সংবাদের সুমন প্রামাণিক, দিকপালের সম্পাদক শাহীন রাজা, নাগরিক প্রতিদিনের হাসনাইন খরশীদ।
ছিলেন বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আল দীন, প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ, ইউএনবির প্রধান সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ খান, সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সুবহান, বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ, ঢাকা মেইলের সম্পাদক হারুন জামিল, ঢাকা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল ইসলাম।
বিবিসির সম্পাদক সাব্বির মোস্তফা, বিশেষ প্রতিনিধি কাদির কল্লোল, আল জাজিরার তানভীর চৌধুরী, রয়টার্সের রুমা পাল, এএফপির শেখ সাবিহা আলম।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মাহবুব আলম, জেনারেল ম্যানেজার নুরুল আজম পবন, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক জেডএম জাহেদুর রহমান।
বেসরকারি টেলিভিশনের শীর্ষ প্রধানদের মধ্যে ছিলেন সময় টিভির জুবায়ের আহমেদ, চ্যানেল আইয়ের শাইখ সিরাজ, বাংলা ভিশনের আবদুল হাই সিদ্দিকী, এনটিভির ফখরুল আলম কাঞ্চন, মোস্তফা খন্দকার, ইটিভির আবদুস সালাম, যমুনা টিভির ফাহিম আহমেদ, ডিভিসির লোটন একরাম, একাত্তর টিভির শফিক আহমেদ, এটিএনের হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, বৈশাখী টিভির জিয়াউল কবীর সুমন, নিউজ টোয়েন্টিফোরের শরীফুল ইসলাম খান, গ্রীন টিভির মাহমুদ হাসান, গাজী টিভির গাউসুল আজম দীপু, এটিএন নিউজের শহীদুল আজম, মাছরাঙার রেজানুল হক রাজা, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জহিরুল আলম, আরটিভির ইলিয়াস হোসেন, মোহনা টিভির এমএ মালেক, স্টার টিভির ওয়ালিউর রহমান মিরাজ, এখন এর তুষার আবদুল্লাহ, ইন্ডিপেনডেন্টের মোস্তফা আকমল, মাইটিভির ইউসুফ আলী।
ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার, আবদুল আউয়াল ঠাকুর, এম এ আজিজ, নুরু উদ্দিন নুরু, একেএম মহসিন, শাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, খাজা মাইন উদ্দিন, জাহেদুল ইসলাম রনি, হাফিজুর রহমান, গিয়াস উদ্দিন রিপন, হাফিজুর রহমান সরকার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমীন, মিড়িয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমার রুমন, শাম্মী আখতার, শায়রুল কবির খান, আবু সায়েম, বিএনপির সাইমুম পারভেজ, শামসুদ্দিন দিদার, চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার এবং চেয়ারম্যানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামসুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল ও চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।
তারেক রহমানকে যা বললেন সম্পাদকরা
“তারেক জানেন না তিনি আসলেই কত জনপ্রিয়। আমি যখন জেলে গেলাম তখন জেল বন্দিরা সবাই তার কথা আমাকে জিজ্ঞাসা করতো। সবচেয়ে বড় কথা পুলিশরাই জিজ্ঞাসা করতো, যারা আমার রক্ষক তারাই জিজ্ঞাসা করত উনি কেমন জানি? আমি বলতাম উনি তো লন্ডনে বহু দূরে আছেন আর আমি আপনাদের এখানে আছি। এতোটাই শ্রদ্ধা করেন তারেক রহমানকে।”
মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘‘আমি এক তারেক রহমানকে চিনতাম ২৩ বছর আগে…আমি প্রথম ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াতে প্রথম সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম….। আমি এখন দেখি ২৩ বছর বাদে তারেক রহমান বদলে গেছেন, আমুল পরিবর্তন হয়ে গেছে তার মধ্যে। অনেকে এটা বিশ্বাস করেন না। আমি কাছের থেকে জানি দেখেছি শুনেছি।”
‘‘আমরা লিখতে চাই, আমরা বলতে চাই। মিডিয়া ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর অনেকটাই স্বাধীন অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। নিয়ন্ত্রিত এই কারণে বলছি মব ভায়োলেন্সের কারণে আমরা অনেকটাই সাহসী হতে পারছি না। আমাদের হাত পা বাধা হয়ে যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, ‘‘মিডিয়া অফিসে যখন আগুন দেওয়া হয়, সংবাদপত্র অফিসে যখন আগুন দেওয়া হয় তখন কিন্তু আমার ভাবতে কষ্ট লাগে যে, আমরা জাহান্নামে আছি না বেহেশতে আছি। কষ্ট হয় গণতন্ত্রের কথা বলি আমরা। কিন্তু আমরা এখানে ওই দলবাজির চিন্তা করি যে দলের মধ্যে গিয়ে চিন্তা করি যে এটা কি আমাদের কাগজ না অন্যদের কাগজ? নাকি আমাদের বিরোধী? আমার মনে হয় তারেক রহমান সাহেব যে বদলে গেছেন বলছি এই কারণে তিনি দেখে এসেছেন, পাশ্চাত্য দুনিয়ায় কিভাবে মিডিয়া চলে। তার মধ্যে অনেক পরিবর্তন আছে।”
‘‘তারেক রহমানের কাছে আমাদের প্রত্যাশা। এক ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক করে তিনি কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে এসেছেন। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে সম্মিলিতভাবে করতে হবে। দলের মধ্য থেকেই যদি করার চেষ্টা করা হয় তাহলে অতীতের পথেই কিন্তু ভুল হবে এবং সেই ভুল থেকে আমরা অনেকে আবার এমন একটা অবস্থায় চলে যাব যেখান থেকে আমাদের ফিরে আসা কঠিন হবে। আজকের বাংলাদেশ অস্তিত্ব সংকটে যেভাবে পড়ে যাচ্ছে সেই সংকট থেকে, যে উগ্রবাদ আমাদের গ্রাস করার চেষ্টা করছে সেই উগ্রবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে তারেক রহমান ছাড়া এই মুহূর্তে আর কোনো বিকল্প নেই।”
‘সঞ্চালক জানান, আমরা একটা নিরাপত্তা বেষ্টনি এখানে তৈরি করেছিলাম। তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে সেই বেষ্টনী উঠিয়ে দিয়েছেন কারণ তিনি এই দূরত্ব রাখতে চান না।’
আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ফ্যাসিস্ট আমলে নিরযাতিত সাংবাদিকদের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘‘আমাদের গাজী ভাই মরহুম গাজী ভাই(রুহুল আমিন গাজী) তাকে ভুয়া মামলায় ক্যানসার আক্রান্ত গাজী ভাইকে ভুয়া মামলায় জেলখানায় রেখে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, আমাদের ম্যাডামের (খালেদা জিয়ারে) মতো। দুর্ভাগ্যের বিষয় হল আজকে যারা মিডিয়ার স্টলও এখানে বসে আছেন তারা কেউ গাজী ভাইয়ের জন্য টু শব্দ উচ্চারণ করেন নাই। এটাই বাস্তবতা। আসাদ ভাইকে( আবুল আসাদ) আমাদের মধ্যে প্রবীণতম সম্পাদক তাকে ছাত্রলীগের গুন্ডারা অফিসে ঢুকে দাড়ি ধরে নামিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছে এবং বছরের পর বছর তিনি জেলে থেকেছেন… তিনিও অসুস্থ। তার স্ত্রী মারা গেছেন। তিনি তার স্ত্রীর পাশে থাকতে পারেন নাই। কারণ জেল থেকে বেরনোর পরেও তাকে পালিয়ে পালিয়ে থাকতে হয়েছিল। আসাদ ভাইয়ের জন্যে কোন এলেট সম্পাদক আওয়াজ তোলেন নাই। এটাই বাস্তবতা। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের বাস্তবতা ছিল ১৬ বছর।”
‘‘আমি নাম বলব শফিক রহমান ভাইয়ের, আমরা পাশাপাশি ছেলে জেলে ছিলাম। ৮০ বছর বয়সে শফিক ভাইকে মাটিতে শুয়ে থাকতে হয়েছে। টয়লেটে যেতে পারতেন না। কারণ ওই টয়লেটে কোমড ছিল না। বেশ কিছুদিন। শীতের মধ্যে মাটিতে পড়ে থাকতে হয়েছে, উনি উঠতে পারেন নাই। তারপরে যখন আমার পাশের রুমে আসলেন ওনাকে ধরে ধরে আমরা ব্রেকফাস্ট করতে, দুপুরে খেতে যেতাম। শফিক রহমানের জন্য কেউ আপনারা দাঁড়ান নাই এটাই ছিল ফ্যাসিবাদের চরিত্র। আরেকজনের নাম বলি, কনক সরোয়ার তার অপরাধ ছিল তিনি আজকের প্রধান ব্যক্তি তারেক রহমান সাহেবের একটা বক্তৃতা তিনি লাইভ চালিয়েছিলেন এই অপরাধে তাকে এক বছর প্রায় জেলে থাকতে হয়েছে…. শুধু তাই না তার বোনকে ভুয়া মামলায় মাসের পর মাস জেলে থাকতে হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের বিবেক জাগ্রত হয় নাই। এটাই বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের ইতিহাস।”
তিনি বলেন, ‘‘আমি জনাব তারেক রহমানকে একটা ছোট্ট পরামর্শ দিয়েই বক্তব্য শেষ করব। শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি জানতেন না মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে হয়েছে এবং তিনি ফিরে এসেও জানার চেষ্টা করেন নাই মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে হয়েছে। তাকে আওয়ামী লীগের লোকজন যা বলেছে এবং ভারতীয় পক্ষ যা বলেছে সেটাকেই তিনি ধরে নিয়েছিলেন….এটাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছিল। এজন্যই তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন।”
‘‘জনাব তারেক রহমান আপনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না। আপনি জানেন না, এখানে কি হয়েছে। আপনার বিশিষ্ট লোকজন আপনাকে যা বলেছে এটাই আপনি শুনেছেন। এখন যারা মিডিয়ার নতুন বন্ধুরা আপনাকে যেটা বলছে সেটাই আপনি শুনছেন এবং সেটাই আপনি মনে করছেন এটাই বাংলাদেশের ১৭ বছরের ইতিহাস। এটা না ১৭ বছরের ইতিহাস না। সেই ইতিহাস আমি বর্ণনা করবো ভবিষ্যতে যদি আপনি এরকম কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন এবং সেই অনুষ্ঠানে আমাকে ১৫ মিনিট সময় দেন।”
নিউজ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, এমন সময়ে সবাই সমবেত হয়েছি যখন একটা পুরনো স্বৈরতান্ত্রিক একটা ব্যবস্থা গণঅভ্যুত্থানের মুখে পতন ঘটেছে। যেই জন্যে মানুষের এত আত্মদান, সেই আত্মদানের ভিত্তিতে মানুষের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ে উঠবার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি আমরা। কিন্তু সেটা এখনো গড়ে ওঠে নাই।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে আমরা রাজনীতির সংস্কৃতির নানা ধরনের প্রবণতা দেখেছি। এটার মধ্যে ডান, বাম, মধ্যবর্তী সকল রাজনৈতিক ধারা সক্রিয় ছিল। আবার এগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন, সাধারণভাবে একটা শান্তিপূর্ণ সামাজিক রাজনৈতিক অবস্থা দেখতে চান-এমন লক্ষ লক্ষ মানুষ ছিল। তাদের আত্মদান আছে। এই সময়ে পরস্পরকে দোষারোপ না করে রাজনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দিকে এগোনোর আলোচনা হলে সময়ের প্রতি সুবিচার হবে।
নূরুল কবীর আরও বলেন, পৃথিবীতে এমন কোনো জায়গায় কখনোই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় নাই, যেখানে গণমাধ্যমের আইনগত, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছিল না। ফলে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম আর মিডিয়ার গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা এই দুইটা হাত ধরাধরি করে চলেছে। আমরা যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর চাই তাহলে অবশ্যই গণতান্ত্রিক রাজনীতির পাশাপাশি একটা গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ থাকতে হবে।
কালের কণ্ঠের সম্পাদক জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, “আমরা দেখেছি যে গোয়েন্দা শাসিত মিডিয়া, আমরা দেখেছি যে একটা রিক্রুটমেন্টের ক্ষেত্রেও গোয়েন্দাদের ডিক্টেশন আমাদের বাধ্য হয়ে হজম করতে হয়েছে। সেই অবস্থার পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না। আমরা সত্যিকারের মত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই যেটা শহীদ জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়ার সময় আমরা পেয়েছি।”
‘‘আমি তখন ছাত্র ছিলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ছিলাম দৈনিক বাংলার। সেই দৈনিক বাংলা প্রতিহিংসার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যেটা সরকারি পত্রিকা ছিল না ট্রাস্টের পত্রিকা ছিল। যেটা সরকারি বিজ্ঞাপনে চলত, রাজস্ব বাজেটে চলতো না। আমরা দৈনিক বাংলাকে ফেরত চাই আগের অবস্থায় দৈনিক বাংলা চাই।”
তিনি বলেন, ‘‘আজকে এখানে আপনি মিলিত হয়েছেন। এটা ভালো। ঘন ঘন ইন্টার অ্যাকশন হলে আপনারা উপকৃত হবেন, আমরা উপকত হব। আমরা কেউ কারো প্রতিপক্ষ নই। সবাই আমরা দেশপ্রেমিক, সবাই আমরা দেশের ভালো চাই।”
‘‘আমাদের উদ্দেশ্যে সাংঘর্ষিক নয়, আমরা পরিপুরকম, আমরা ওয়াচডগ হিসেবে বস্তুনিষ্ঠ ভাবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আপনাদের ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিতে চাই। ”
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, ‘‘১৭ বছর টানা বিদেশে থাকাটা খুব কঠিন বিষয়। যখন আপনি নিশ্চিত করে জানেন যে চাইলেও আপনি একদিনের জন্য বা দুদিনের জন্য দেশে ফিরতে পারবেন না। আমার কিছুদিন বিদেশে থাকার অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি জানতাম যে, আমি চাইলে দেশে যেতে পারব।”
‘‘আপনি আসতে পেরেছেন? স্বপ্ন নিয়ে এসেছেন, একটা পরিকল্পনার কথা বলেছেন, পরিকল্পনা আছে আপনার। আমি শুধু বলতে চাই যে, আপনার সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হোক, পরিকল্পনাটা বাস্তবায়ন হোক। আপনাকে শুভেচ্ছা জানাই, অভিনন্দন জানাই, ভালো থাকুন।”





