এর আগে গত ২ নভেম্বর পুনরায় জামায়াতের সভাপতি নির্বাচিত হন শফিকুর রহমান।
জামায়াতে ইসলামী দুই বছর মেয়াদে তাদের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নির্বাচন করেছে। দলের সেক্রেটারি জেনারেল পদে মিয়া গোলাম পরওয়ার পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রায় ১৩ বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া এ টি এম আজহারুল ইসলাম ফিরেছেন দলের কেন্দ্রীয় পদে, তাকে ১ নম্বর নায়েবে আমির করা হয়েছে।
প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হওয়া এই নেতা ২০১২ সালের ২২ অগাস্ট গ্রেপ্তারের সময় দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন।
শুক্রবার জামায়াতের ফেইসবুক পেইজে এক পোস্টে কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা গঠনের তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ২ নভেম্বর পুনরায় জামায়াতের সভাপতি নির্বাচিত হন শফিকুর রহমান। গত সপ্তাহে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এখন তিনি জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা।
শুক্রবার শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ভার্চুয়াল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরা স্শরীরে অংশগ্রহণ করেন। কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার (পুরুষ ও নারী) সদস্যরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
জামায়াতের পোস্টে বলা হয়, “বৈঠকে আমিরে জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সাথে পরামর্শ করে ২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য দলের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নির্বাচিত করেন ও তাদের শপথ পরিচালনা করেন।”
বৈঠকে ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠন করা হয়। এর মধ্যে নারী সদস্য রয়েছেন ২১ জন। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় তৃতীয় পর্যায়ে সদস্য নির্বাচিত ৫৯ জন। এর মধ্যে নারী সদস্য রয়েছেন ১৭ জন।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১২ সালের ২২ অগাস্ট মগবাজারের বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তখন থেকেই কারাগারে ছিলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, নির্যাতনের ছয় ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে ২০১৪ সালে আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০১৯ সালে প্রথমবার আপিল শুনানি করে সেই রায় বহাল রেখেছিল তখনকার আপিল বেঞ্চ।
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতার পালাবদলের পর গত বছর ২ সেপ্টেম্বর কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আজহারকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়। এর কিছুদিন পর তাকে কারা তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিচারাধীন দশটি মামলা প্রত্যাহারের আদেশ এবং যুদ্ধাপরাধের মামলায় খালাসের রায় কারাগারে পৌঁছানোর পর যাচাই-বাছাই শেষে আজহারুল ইসলামকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ফাঁসির দড়ি থেকে ফিরে গত সপ্তাহে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। সর্বশেষ শুক্রবার দলের এক নম্বর নায়েবে আমিরের পদে জায়গা করে নিলেন তিনি।
আজহারুল ইসলাম ছাড়া অন্য নায়েবে আমিররা হলেন যথাক্রমে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান ও সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সাবেক সংসদ সদস্য আ ন ম শামসুল ইসলাম।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরা হলেন-
১. এ টি এম মা’ছুম
২. রফিকুল ইসলাম খান
৩. হামিদুর রহমান আযাদ
৪. আবদুল হালিম
৫. মুয়াযযম হোসাইন হেলাল
৬. মুহাম্মাদ শাহজাহান
৭. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের
জামায়াতের ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের আছেন-
১. এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি
২. মুজিবুর রহমান এমপি
৩. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এমপি
৪. মিয়া গোলাম পরওয়ার সাবেক এমপি
৫. এ টি এম মা’ছুম
৬. রফিকুল ইসলাম খান
৭. হামিদুর রহমান আযাদ
৮. আবদুল হালিম
৯. মুয়াযযম হোসাইন হেলাল
১০. মোহাম্মদ শাহজাহান
১১. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের
১২. আবদুর রব
১৩. সাইফুল আলম খান মিলন
১৪. মো. শাহাবুদ্দীন
১৫. মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি
১৬. মতিউর রহমান আকন্দ
১৭. মো. মোবারক হোসাইন
১৮. মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল
১৯. মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন
২০. শফিকুল ইসলাম মাসুদ
২১. মোহাম্মাদ রেজাউল করিম
দলের ৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনও গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন-
১. এ টি এম মা’ছুম (প্রধান নির্বাচন কমিশনার)
২. মুয়াযযম হোসাইন হেলাল
৩. আবদুর রব
৪. মোবারক হোসাইন
৫. আ ফ ম আবদুস সাত্তার
সারাদেশে ১৪টি অঞ্চলে অঞ্চল পরিচালক হিসেবে মনোনীতরা হলেন-
১. রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল: আবদুল হালিম
২. বগুড়া অঞ্চল: এটিএম আজহারুল ইসলাম
৩. রাজশাহী অঞ্চল: রফিকুল ইসলাম খান
৪. কুষ্টিয়া-যশোর অঞ্চল: মোবারক হোসাইন
৫. খুলনা অঞ্চল: মো. ইজ্জত উল্লাহ
৬. বরিশাল অঞ্চল: মুয়াযযম হোসাইন হেলাল
৭. ময়মনসিংহ অঞ্চল: মো. শাহাবুদ্দীন
৮. ঢাকা মহানগরী অঞ্চল: মিয়া গোলাম পরওয়ার
৯. ঢাকা উত্তর অঞ্চল: সাইফুল আলম খান মিলন
১০. ঢাকা দক্ষিণ অঞ্চল: আবদুর রব
১১. ফরিদপুর অঞ্চল: হামিদুর রহমান আযাদ
১২. সিলেট অঞ্চল: এহসানুল মাহবুব জুবায়ের
১৩. কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চল: এটিএম মাছুম
১৪. চট্টগ্রাম অঞ্চল: মুহাম্মাদ শাহজাহান





