জুতার কারণেও হাঁটু ও কোমরের ব্যথা হতে পারে

shoe-100126-1768034239

অতিরিক্ত কুশন দেওয়া জুতা ব্যবহারে ধীরে ধীরে হারাতে দেহের ভারসাম্য।

ভুল মাপের বা অতিরিক্ত কুশনযুক্ত জুতা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে— এ কথা হয়ত অনেকেই জানেন না।

আমরা প্রায়ই পায়ের যত্নকে অবহেলা করি, অথচ পা শরীরের ভিত্তি।

চামড়াজাত পণ্য ও জুতা প্রতিষ্ঠান ‘অরোরা’র স্বত্বাধিকারী আশরাফ উদ্দিন বলেন, “ভুল ধরনের জুতা পায়ের পেশির ওপর অস্বাভাবিক চাপ ফেলে, যা দীর্ঘদিনে পুরো শরীরকে প্রভাবিত করে।”

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “সবসময় আঁটসাঁট, শক্ত বা অতিরিক্ত কুশনযুক্ত জুতা পরলে পায়ের পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন এভাবে ‘আটকে’ থাকলে পায়ের স্বাভাবিক শক্তি হারায়। পা কেবল ভার বহনের অঙ্গ নয়, এটি একটি ‘সেন্সরি অর্গান’। মাটির সঙ্গে সংযোগ রেখে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়, যা শরীরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে।”

অতিরিক্ত ‘সাপোর্টেড জুতা’ এই সংযোগ ব্যাহত করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এতে পায়ের ছোট পেশিগুলো (ইন্ট্রিনসিক মাসল) নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে- জানান এই চিকিৎসক।

দুর্বল পায়ের প্রভাব শুধু পায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। এতে গোড়ালি ও হাঁটুর ওপর বাড়তি চাপ পড়ে- যা হাঁটুর ব্যথা, কোমরের সমস্যা এবং মেরুদণ্ডের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

একটি দুর্বল অংশ থেকে ধীরে ধীরে সমস্যা ছড়িয়ে পড়ে পুরো শরীরে।

সমাধানের উপায়

আশরাফ উদ্দিনের মতে, “পরিত্রাণের পথ হল ধীরে ধীরে পায়ে মাটির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। সুযোগ পেলে খালি পায়ে হাঁটুন বা ‘মিনিমালিস্ট’ জুতা ব্যবহার করুন।

এতে পায়ের ছোট পেশিগুলো সক্রিয় হয়, ‘আর্চ’ বা পায়ের পাতার মাঝের অংশ মজবুত হয় এবং ভারসাম্য উন্নত করে।

ফলে পা শক্তিশালী হয়, যা শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ভিত্তি গড়ে।

যেভাবে শুরু করবেন

“হঠাৎ করে ভারী বা অতিরিক্ত ‘সাপোর্টেড’ জুতা ছাড়বেন না। ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ুন। ব্যায়ামে মাত্র পাঁচ মিনিট খালি পায়ে থাকুন”- পরামর্শ দেন ডা. নয়ন।

‘ওয়ার্ম-আপে’ লাঞ্জ, স্কোয়াট বা হালকা নড়াচড়া করুন। খালি পায়ে আঙুল ছড়িয়ে মাটি ‘ধরে রাখার’ চেষ্টা করুন।

শুরুতে অস্বস্তি বা হালকা জ্বালাভাব হতে পারে—এটি দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার স্বাভাবিক লক্ষণ।

নরম বা অতিরিক্ত কুশনযুক্ত জুতা সব সমস্যার সমাধান নয়। শক্ত পা মানেই শক্ত শরীর। পা’কে কাজ করতে দিন, মাটি অনুভব করতে দিন।

এই সচেতনতাই দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করবে। ভুল জুতার অভ্যাস পরিবর্তন করে শরীরের ভিত্তিকে মজবুত করা সম্ভব।

Pin It