‘ট্রাম্পকে নিয়ে তর্কের পর’ বাবার গুলিতে মেয়ে নিহত

lucy-harrison-110226-01-1770830760

ব্রিটিশ তরুণী লুসি হ্যারিসন নিহতের এই ঘটনা ঘটে গতবছর। মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনার দিন ট্রাম্পকে নিয়ে বাবার সঙ্গে মেয়ের তর্ক হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে তর্কের জেরে বাবার গুলিতে নিহত হয়েছেন মেয়ে লুসি হ্যারিসন।

ব্রিটিশ তরুণী লুসি থাকতেন যুক্তরাজ্যের চেশায়ারের ওয়্যারিংটনে। গুলির ঘটনাটি ঘটে গতবছর ১০ জানুয়ারি। ডালাসের কাছে প্রসপারে ২৩ বছর বয়সী লুসিকে বুকে গুলি করা হয়।

চেশায়ার করোনারের আদালত ঘটনার তদন্ত শুরু করার পর লুসির প্রেমিক স্যাম লিটলার জানিয়েছেন, ওই দিন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে বাবা-মেয়ের মধ্যে ‘বড় ধরনের তর্ক’ হয়েছিল।

পুলিশ ২৩ বছর বয়সী লুসির হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্তে নামলেও কলিন কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি লুসির বাবা ক্রিস হ্যারিসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ না তোলায় সে সময় তার বিরুদ্ধে কোনও মামলা হয়নি।

ফলে যুক্তরাজ্যে চেশায়ারের করোনারের আদালত লুসি হ্যারিসনের মৃত্যু নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, লুসির ছোটবেলায় তার বাবা ক্রিস হ্যারিসন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং তিনি মদ্যপানের আসক্তির জন্য পুনর্বাসনেও ছিলেন।

ক্রিস হ্যারিসন আদালতে পাঠানো এক বিবৃতিতে স্বীকার করেছেন যে, ঘটনার দিন তিনি পুনরায় মদ্যপান করেছিলেন।

লুসির প্রেমিক লিটলার জানান, ট্রাম্পকে নিয়ে তর্কের সময় লুসি তার বাবাকে প্রশ্ন করেছিলেন, “তিনি যদি সেই পরিস্থিতিতে পড়তেন এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হতেন তাহলে বাবার অনুভূতি কেমন হত?

“জবাবে ক্রিস বলেছিলেন যে, তার আরও দুই মেয়ে আছে,যারা তার সঙ্গে থাকে। তাই এতে তিনি খুব বেশি বিচলিত হতেন না। এতে লুসি মর্মাহত হয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে যান।”

সেদিনই লুসি ও লিটলার যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর বিমানবিন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কিছুক্ষণ আগে ক্রিস তার মেয়েকে বেডরুমে নিয়ে যান। এর ১৫ সেকেন্ড পরেই একটি প্রচণ্ড শব্দ শোনা যায়।

ক্রিস হ্যারিসন দাবি করেন, তিনি মেয়েকে তার বিছানার পাশে রাখা ৯ এমএম সেমি-অটোমেটিক পিস্তলটি দেখাতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, “আমি যখন তাকে দেখানোর জন্য বন্দুকটি তুলি, হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দ হয়। আমি বুঝতে পারিনি কী ঘটেছে।”

তদন্তে পুলিশ কর্মকর্তা লুসিয়ানা এসক্যালেরার সাক্ষ্যে জানানো হয়, ঘটনার পর ক্রিসের নিঃশ্বাসে মদের গন্ধ পাওয়া গিয়েছিল।

ছুটিতে লিটলারও লুসির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। লিটলার বলেন, লুসি তার বাবার বন্দুক থাকা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। যখনই লুসির বাবা লুসিকে তার কাছে একটি বন্দুক থাকার কথা বলতেন, তখন লুসি এ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করতেন।

ব্রিটিশ আদালতে লুসির মা জেন কোটসের আইনজীবী বলেন, ক্রিস হ্যারিসনই ওই ঘরে থাকা একমাত্র ব্যক্তি যিনি লুসিকে গুলি করেছেন।

লুসি হ্যারিসন ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘বোহু’তে কর্মরত ছিলেন। তার মা তাকে ‘জীবনের চালিকাশক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, সে যে বিষয়গুলো নিয়ে ভাবত তা নিয়ে বিতর্ক করতে পছন্দ করত।

বুধবার এই তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর কথা রয়েছে করোনারের আদালতের।

Pin It