দশ মিনিটে ঘরের সাজ বদল
আরামদায়ক ঘরের জন্য বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না।
শীতে অনেকেই দিনের বেশির ভাগ সময় নিজের ঘরে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য পান। ঘরে আরামদায়ক ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ রাখতে বড় পরিবর্তনের চিন্তা করেন কেউ কেউ।
তবে ছোট পরিবর্তনও ঘরের পরিবেশকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিতে পারে।
মাত্র দশ মিনিটের সহজ পরিবর্তনেও ঘর অনেকটা প্রশান্ত এবং স্নিগ্ধ মনে হয়।
বিছানার পাশে টেবিল সাজানো
বিছানার পাশে টেবিল শুধু জিনিস রাখার জায়গা নয়, এটি ঘরের আবহকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ।
অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন বলেন, “বেডসাইড টেবিলের ছোট পরিবর্তন, যেমন- নতুন ফুলের তোড়া রাখা বা প্রিয় বই রাখলে, পুরো ঘরের আবহ পরিবর্তিত হয়। টেবিলটি এমনভাবে সাজানো উচিত যাতে এটি ঘুমের আগে এবং পরে মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “প্রাকৃতিক উপাদান, যেমন- ছোট গাছ বা পাথর রাখলে ঘরের পরিবেশ আরও তাজা মনে হয়।”
প্রধান স্থানগুলো পরিষ্কার
রান্নাঘর, বসার ঘরে বেশি ব্যবহৃত স্থানের জিনিসপত্রে ছোট ছোট পরিবর্তনে সেই স্থানটি অনেকটা আলাদা হয়ে যায়। এক্ষেত্রে ওপরে থেকে মুছে ফেলা পদ্ধতি ব্যবহার করেন অনেকেই।
এটির মানে, যে কোনো একটি জায়গা, যেমন- রান্নাঘরের তাক বা টেবিলের ওপর থেকে অতিরিক্ত জিনিস সরিয়ে শুধু প্রয়োজনীয় জিনিস রাখার প্রক্রিয়া।
দেখার অনুপস্থিতি কমে গেলে, মানসিক চাপও কমে।
বিছানার চাদর পরিবর্তন
শীতের রাতে ঘরের আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করতে বিছানার কাপড় গুরুত্বপূর্ণ। পুরানো চাদর বা কভার বদলে নতুন রং, ধরন কাপড় ব্যবহার করা ঘরের আবহকে সম্পূর্ণ নতুন করে দেয়।
নতুন কম্বল ব্যবহারে ঘর আরও উষ্ণ মনে হয়।
গুলশান নাসরিন বলেন, “চাদর বা কম্বলের রং পরিবর্তন করলেও চোখের স্বস্তি বৃদ্ধি পায় এবং রাতে ঘুম আরামদায়ক হয়।”
তাক ও খোলা শেলফের সাজসজ্জা
খোলা তাক বা শেলফে বই, ছবি, গাছ বা অন্যান্য জিনিস রাখলে, ছোট পরিবর্তনেও ঘরের পরিবেশ অনেকটা শান্ত এবং গোছানো মনে হয়।
তাকের জিনিসগুলোকে রং বা আকার অনুযায়ী সাজালে এবং অতিরিক্ত জিনিস সরিয়ে ফেলা, ঘরকে অনেকটা প্রশান্ত করে তোলে।
কখনও কখনও সব জিনিস সরিয়ে নতুনভাবে সাজালেও ঘরের পরিবেশ পুনরায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
তারগুলো লুকানো
আধুনিক সময়ে বৈদ্যুতিক তার যেন, ঘরের একটি অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এগুলো চোখের জন্য অস্থিরতার অনুভূতি তৈরি করে।
প্রয়োজনবিহীন তারগুলো এক জায়গায় রেখে এবং বাকি তারগুলো আসবাবপত্র বা দেয়ালের কাছে আটকে দিলে স্থানটি পরিষ্কার দেখায়।
আলোর পুনর্বিন্যাস
আলোর ব্যবহার ঘরের আবহকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। কোনো ঘরে ওভারহেড লাইট বন্ধ করে, ল্যাম্প বা ছোট আলো ব্যবহার করলে ঘর আরও আরামদায়ক মনে হয়।
আবার ঘরের এক কোণে ছোট ল্যাম্প রাখলে, পুরো ঘরের আবহ পরিবর্তিত হয়।
এই অন্দসজ্জাবিদের মতে, “আলোর স্তর কমালে মানসিক চাপ কমে এবং ঘরে থাকার অভিজ্ঞতা সুন্দর হয়।”
প্রবেশদ্বারের সাজসজ্জা
প্রবেশদ্বার হল ঘরের প্রথম ছাপ, যা অতিথি ও পরিবারের সদস্যদের অনুভূতিতে প্রভাব ফেলে।
প্রবেশদ্বারের স্থান সবসময় পরিষ্কার রাখাই প্রধান সাজ। চাবি, ব্যাগ, জুতা রাখার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করতে হবে।
এতে ঘরের বাকি অংশকে আরও শান্ত ও সুশৃঙ্খল দেখা যাবে।
ঘরে গাছপালা রাখার গুরুত্ব
ছোট গাছ ঘরের পরিবেশকে সতেজ রাখতে পারে। গাছের পট ঘরে সবুজ আভা তৈরি করে।
ঘরের হতাশা কমাতে প্রকৃতির বিকল্প নেই। কম সূর্যের আলোতে বাঁচে এমন গাছের কর্ণার করা যেতে পারে বা টেবিল, বেসিন, তাকে ছোট দুয়েকটি গাছের টব রাখা যায়৷


