পর্তুগালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬-এর দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি)। এতে সোশ্যালিস্ট পার্টির সমর্থিত মধ্যবাম রাজনীতিক অ্যান্টোনিও জোযে সেগুরো বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন এবং দেশটির নবম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, সেগুরো মোট ৩৪ লাখ ৮২ হাজার ৪৮১ ভোট পেয়ে মোট ভোটের প্রায় ৬৬ দশমিক ৮২ শতাংশ অর্জন করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কট্টর ডানপন্থী দল ‘সেগা’-এর নেতা আন্দ্রে ভেনতুরা পান ১৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৭১ ভোট, যা মোটের ৩৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।
প্রথম দফার নির্বাচনে কোনো প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় সংবিধান অনুযায়ী দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়। এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে গণতন্ত্রে দেশের জনগণের আস্থারই প্রতিফলন।
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি অ্যান্টোনিও জোযে সেগুরো আগামী ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করবেন। এ দিন থেকেই তিনি ২০২৬–২০৩১ মেয়াদের জন্য তার দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। পর্তুগালের সংবিধান অনুসারে, একজন রাষ্ট্রপতি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
যদিও রাষ্ট্রপতির পদটি সাংবিধানিকভাবে সীমিত ক্ষমতার প্রতীকমূলক একটি পদ, তবুও এতে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভূমিকা রয়েছে। তিনি সংসদ ভেঙে দিতে পারেন, প্রয়োজনে আগাম নির্বাচন আহ্বান করতে পারেন এবং কিছু ক্ষেত্রে আইন প্রণয়নে ভেটো দেওয়ার মতো ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারেন।
বিজয়ের পর এক বক্তব্যে সেগুরো বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা এবং সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা হবে আমার প্রধান অগ্রাধিকার।’ তিনি আরও জানান, ‘পর্তুগালকে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে তুলে ধরে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল পর্তুগিজ জনগণের মধ্যমপন্থা, প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতি ও চরমপন্থা প্রত্যাখ্যানের প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে।





