আওয়ামী লীগের নেতারা ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটিকে গোপনে, চুরি করে এনে শেখ মুজিবের নামের আগে বসিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ভাসানী জনশক্তি পার্টির উদ্যোগে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৫৪তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আজ যারা বঙ্গবন্ধু বলছে, বঙ্গবন্ধু বললে শেখ মুজিবকে অপমান করা হবে। কারণ ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি প্রথম বাংলা ভাষায় এসেছে কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি বাংলা পাক্ষিক পত্রিকায়।
ওই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন বঙ্গচন্দ্র রায়। পত্রিকার নাম ছিল ‘বঙ্গবন্ধু’। এটাই এক নম্বর বঙ্গবন্ধু। দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধুও শেখ মুজিব ছিলেন না।
দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু ছিলেন মুন্সি মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ। অবিভক্ত ভারতবর্ষের সব সম্প্রদায়ের মানুষের মুক্তির জন্য যিনি লড়াই করেছিলেন, তাকে ১৯১০ সালে যশোরে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতারা সেই বঙ্গবন্ধু শব্দটি চুরি করে এনে গোপনে শেখ মুজিবের নামের আগে বসিয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী চাইলে ‘কিং’ হতে পারতেন।
কিন্তু তিনি কিং না হয়ে ‘কিং মেকার’ হয়েছেন। তিনি ইচ্ছা করলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী কিংবা গভর্নরও হতে পারতেন। কিন্তু তিনি এর কোনোটিই হননি। তিনি শেখ মুজিবকে হওয়ার রাস্তা করে দিয়েছেন। তার হাতে মশিউর রহমান যাদু মিয়াসহ অনেক বরেণ্য নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে।
নিজের জন্য তিনি কিছুই করেননি।
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আরও বলেন, রাজনীতির শৈল্পিক কৌশল এবং আর্টিস্টিক টেকনিক এই অঞ্চলে প্রথম প্রতিষ্ঠা করেছেন মওলানা ভাসানী। তিনি শেখ মুজিবকে অনেক স্নেহ করতেন। কিন্তু শেখ মুজিব সেই স্নেহের মর্যাদা দিতে পারেননি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, যখন সাফল্য আসে, তখন হাততালি দুই হাত দিয়ে দিতে হয়। আর যখন দুঃসময় আসে, তখন সান্ত্বনা দিতে কাঁধে এক হাত রাখলেই যথেষ্ট। বাংলাদেশের বর্তমান সময়ে কাঁধে এক হাত রাখার খুব প্রয়োজন। এই প্রয়োজনের তাগিদেই মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে আজ আরও বেশি মনে পড়ে।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নাজমুল হক নান্নুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।





