পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মঙ্গলবার দিল্লি সফরে যাচ্ছেন। ঢাকা এই সফরকে ‘শুভেচ্ছা সফর’ হিসেবে বর্ণনা করলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এতে দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে।
সফরকালে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির সঙ্গেও তার আলাদা বৈঠকের কথা রয়েছে।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি কোনো বাংলাদেশি মন্ত্রীর প্রথম দিল্লি সফর।
কর্মকর্তারা জানান, নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঢাকা দিল্লির সঙ্গে পূর্বের কিছুটা টানাপোড়েন কাটিয়ে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে সম্পর্ককে পারস্পরিক লাভজনক অবস্থানে নিতে চায়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার দুপুরে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। পরে তিনি মরিশাসে ভারত মহাসাগর সম্মেলনে অংশ নিতে যাবেন।
বিবিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে একই বিমানে চেপে মরিশাসে যাচ্ছেন।
৯ এপ্রিল সকাল আটটা থেকে এয়ার মরিশাসের ওই বাণিজ্যিক বিমানে একটানা সাত-আট ঘণ্টার ওই দীর্ঘ সফরেও দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে একান্তে কথাবার্তা বলার বিস্তর সুযোগ থাকবে যথারীতি।
বিশেষ করে মাত্র দু’তিনমাস আগেও যে ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কে রীতিমতো অস্বস্তি আর শীতলতা ছিল, সে দেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জয়শংকরের একসঙ্গে দীর্ঘ বিমানযাত্রার সিদ্ধান্তই বলে দেয় দুই দেশই তাদের সম্পর্ক ‘রিক্যালিব্রেট’ করতে চাইছে।
বিবিসি জানতে পেরেছে, ৭ এপ্রিল দিল্লিতে পা রাখার পর ৯ এপ্রিল সকালেই দিল্লি থেকে খলিলুর রহমান সরাসরি মরিশাসের উদ্দেশে রওনা হবেন, যেখানে তিনি নবম ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। একই বিমানে যাবেন জয়শংকরও।
দুই দেশের কর্মকর্তারাই বিষয়টি বিবিসির কাছে নিশ্চিত করেছেন।
ওই সম্মেলন যৌথভাবে আয়োজন করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আর দিল্লির শীর্ষস্থানীয় থিংকট্যাঙ্ক ‘ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন’ – আর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর নিজেও সেখানে যোগ দিচ্ছেন।
এই ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্টের পদে আবার আছেন আরএসএস তথা বিজেপি নেতা রাম মাধব।
সুতরাং, দিল্লির পরে মরিশাসেও আবার দুদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ও কর্মকর্তাদের মধ্যে কথাবার্তা বলার সুযোগ থাকবে।
অন্যভাবে বললে, দিল্লিতে মাত্র আটচল্লিশ ঘন্টার কম সময় অবস্থান করলেও খলিলুর রহমানের ‘ভারত সফর’ কার্যত চার-পাঁচদিনের মেয়াদ পেতে চলেছে – যার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়েছে ঠিক মাসদেড়েক হলো। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম কোনো হাই-প্রোফাইল দ্বিপাক্ষিক সফরে সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আগামী ৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার) দিল্লিতে আসছেন।
দিল্লিতে পা রাখার পর দিনই (৮ এপ্রিল) তিনি একের পর এক বৈঠকে বসবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে।
খলিলুর রহমানের এই সফরটিকে ভারতও অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে, তবে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো বৈঠক হবে কিনা তা পরিষ্কার নয়।
বিবিসি জানতে পেরেছে, ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গেও ড. খলিলুর রহমানের আলাদা একটি বৈঠক আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে – তবে সেটি শেষ পর্যন্ত হবে কি না তা নিশ্চিত নয়।
ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফর নিয়ে এখনো কোনো বিবৃতি আসেনি – তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো আভাস দিচ্ছে গঙ্গা চুক্তি নবায়নের আলোচনা শুরু করা, বিভিন্ন কানেক্টিভিটি প্রকল্পর অগ্রগতি, ভারত থেকে জ্বালানি সরবরাহ এবং পারস্পরিক বাণিজ্য সুবিধাগুলো পুনর্বহাল করার ব্যাপারে এই সফরে কথাবার্তা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





