মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্প জামাতা কুশনারের সঙ্গে আলোচনার পর ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট জানান, এই আলাপে ‘নতুন কিছু ধারণা’ উঠে এসেছে যা সত্যিকারের শান্তির কাছাকাছি যেতে সহায়ক হতে পারে।
রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনার পর জেলেনস্কি জানান, এই সংলাপে ‘নতুন কিছু ধারণা’ উঠে এসেছে যা সত্যিকারের শান্তির কাছাকাছি যেতে সহায়ক হতে পারে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে প্রায় এক ঘণ্টা ফোনালাপের পর জেলেনস্কি তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেন, “আমরা কাজের নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। সত্যিকারের শান্তিকে কীভাবে কাছে আনা যায় সে বিষয়ে আলোচনার কাঠামো, বৈঠক এবং সময়সূচি নিয়ে কিছু নতুন ধারণা এসেছে।”
খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে জানান জেলেনস্কি।
বিবিসি জানায়, এর একদিন আগে ফ্লোরিডায় মার্কিন ও ইউক্রেইনীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে হালনাগাদ করা ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেছিলেন জেলেনস্কি। এই শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে বর্তমানে নিবিড় দর-কষাকষি চলছে।
এতে ইউক্রেইনের পূর্বাঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে একটি অসামরিক অঞ্চল তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। তবে জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেছেন, যে অঞ্চলগুলো থেকে ইউক্রেইনীয় সেনা সরে আসবে, সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব ইউক্রেইনীয় পুলিশকেই পালন করতে হবে।
পরিকল্পনাটিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল, যদি রাশিয়া ভবিষ্যতে আবারও আক্রমণ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র, নেটো এবং ইউরোপীয় দেশগুলো সমন্বিতভাবে সামরিক জবাব দেবে, এমন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।
ইউক্রেইনে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার হামলা চালায় রাশিয়া। সেই যুদ্ধ শেষ করতে ট্রাম্প ও তার দূতরা ইউক্রেইন ও রাশিয়া— উভয় পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জেলেনস্কি মার্কিন দূত উইটকফ ও ট্রাম্প জামাতা কুশনারের উত্থাপিত ‘ভালো ধারণা’র প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, এটি ইউক্রেইনের কূটনীতির জন্য খুবই ‘সক্রিয় দিন’ছিল।
তিনি মার্কিন দূতদের সঙ্গে নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তবে জেলেনস্কি স্বীকার করেন, এখনও কিছু সংবেদনশীল বিষয়ে কাজ বাকি। তিনি জানান, ইউক্রেইনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ এবং দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের দলের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে।
ইউক্রেইনের শিল্পসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের বিষয়ে জেলেনস্কি বলেন, সেখানে একটি ‘মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল’গঠনের ধারণা আলোচনায় রয়েছে।
বর্তমানে দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রায় ৭৫% এবং পার্শ্ববর্তী লুহানস্ক অঞ্চলের প্রায় ৯৯% নিয়ন্ত্রণ করছে রাশিয়া। এই দুই অঞ্চল ‘ডনবাস’ নামে পরিচিত।
চলমান শান্তি আলোচনায় জেলেনস্কির ওপর ডনবাস পুরোই রাশিয়াকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্প।
তবে জেলেনস্কি ভূখণ্ড ছাড়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং যে কোনও সমঝোতার ক্ষেত্রে ইউক্রেইনের জন্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছেন।
ওদিকে, মস্কো জানিয়েছে, তারা মার্কিন প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সাথে বিশ্লেষণ করছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বৃহস্পতিবার বলেন, “রুশ দূত কিরিল দিমিত্রিভ যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে প্রস্তাবগুলো নিয়ে এসেছেন, আমরা তা খতিয়ে দেখছি। প্রেসিডেন্টের (পুতিন) সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”
কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকার মধ্যেও যুদ্ধের ময়দানে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেইনীয় বাহিনী বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার রস্তভ অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে ক্রুজ মিসাইল হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, তারা দোনেৎস্ক অঞ্চলের ‘স্বিয়াতো-পোক্রোভস্কে’ এলাকা দখল করে নিয়েছে।
জেলেনস্কি বড়দিন উপলক্ষে ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই কূটনৈতিক তৎপরতা ২০২৬ সালের শুরুতে একটি স্থিতিশীল সমাধানের পথ প্রশস্ত করবে।





