সংবিধান সংস্কারে কী ভাবছে বিএনপি ?

bangladesh-constitution-190824-01-1724054173

বিএনপির নবনির্বাচিতরা সংসদ সংসদ হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যের শপথ নেননি।

দীর্ঘদিনের আলোচনা, তর্কবিতর্ক ও তীব্র মতবিরোধ পেরিয়ে গণভোট জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পথ তৈরি করে দিলেও তা এখন শপথ সংকটে পড়েছে।

বিএনপির নবনির্বাচিতরা সংসদ সংসদ হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যের শপথ নেননি।

এর প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট শরিকরা প্রথমে শপথ নেবে না বলে বেঁকে বসলেও পরে দুই শপথই নিয়েছেন তারা।

সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ীরা মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনের কাছে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

আইনজ্ঞদের কেউ বলছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে শপথের বিষয়টি যুক্ত করা ‘বেআইনি’। বিএনপি শপথ না নেওয়ায় কার্যত সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করার আর ‘সুযোগ নেই’ বলে মনে করছেন কেউ।

আবার কেউ বলছেন, সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে বিএনপি শপথ না নেওয়ায় জুলাই সনদ বাতিল হয়ে যায় না।

এ অবস্থায় সংবিধান সংস্কারের ভবিষ্যৎ কী? বিএনপি কী জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করবে?

দলের কয়েকজন নেতা বলেছেন, জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করতে আন্তরিক বিএনপি। এক্ষেত্রে সংসদ অধিবেশন শুরুর অপেক্ষায় আছে দলটি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জুলাই সনদ নিয়ে আলাদা সেল করা হতে পারে বলেও বিএনপির এক নেতা বলেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শুক্রবার রাতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতিগত দিক নিয়ে কাজ করতে হবে। সংসদ শুরু হলে আমরা আলাপ আলোচনা করবো। ইতোমধ্যে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জুলাই সনদের বিষয়ে বিএনপি আন্তরিক।”

সরকারের ভেতরে কী উদ্যোগ আছে এ প্রশ্নে ক্ষমতাসীন দলের মহাসচিব বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা শুরু হলে এটা বলা যাবে।”

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন বিষয়ে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং এই আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এই আদেশে আরও বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে এবং তা সম্পন্ন করার পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেছেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং বাস্তবায়নের জন্য যে আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা সংবিধান অনুযায়ী সংসদ গঠনের ৩০ দিন পর বাতিল হয়ে যাবে।”

গেল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়েছে। মঙ্গলবার নবনির্বাচিতরা শপথ নিয়েছে।

সেদিনই গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও ফলাফল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে। সেই রিটে গণভোট বাতিল চাওয়া হয়েছে।

‘সংবিধান সংস্কার এখন মই দিয়ে চাঁদে ওঠার মতো’

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং সংস্কার বাস্তবায়ন এখন ‘মই দিয়ে চাঁদে ওঠার মতো’ ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক।

তার মতে, যেহেতু বাংলাদেশের আইনের কোথাও, বিশেষ করে সংবিধানের কোথাও এমন কোনো বিধান নেই, সে কারণে এটা সম্ভব নয়।

এই সংবিধান বিশেষজ্ঞ বলেন, “কোনো দেশে এমন কোনো ঘটনা হয়েছে? এই আইনের বা আদেশের ব্যাপারে কোথাও কখনো কিছু লেখা হয় নাই। সংবিধানে এসব কথা কিছু বলা নাই। কোনো দেশের, কোনো সংবিধানে এসব কথা বলা নাই।

“আপনি সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে প্রশ্ন করলেন মানে, আপনি প্রশ্ন করলেন লাফ দিয়ে চাঁদে যাওয়া যায় কিনা? বিশেষজ্ঞরা উত্তর দিল, হ্যাঁ আপনি অনেকদিন ধরে প্র্যাকটিস করেন। জোরে লাফ দিলে চাঁদে পৌঁছে যাবেন। আমাদের আলোচনাটা হচ্ছে এই।

“সংবিধান সংস্কার পরিষদও ‘মই দিয়ে চাঁদে যাওয়ার মতো’ বার বার চেষ্টা করা। সেটা বাঁশের মই, না স্টিলের মই, না পাটকাঠির মই হলে চাঁদে যাওয়া যাবে, সেটার চেষ্টা।”

এই পরিস্থিতি হওয়ার কারণ হিসেবে অনভিজ্ঞ লোকজন দিয়ে কমিশন গঠনের চেষ্টা করাকে দায়ী করেন তিনি।

শাহদীন মালিক বলেন, “সংবিধান সংস্কার কমিশনে একটা আইনজীবী ছিল? যে রাজনৈতিক দল যতগুলি আলোচনা করেছে, দলের নেতাদের মধ্যে আইনজীবী কে ছিলেন? ৩০ দলের যে আলোচনায় যারা অংশগ্রহণ করেছিল, তার মধ্যে আমি তো কোনো আইনজীবী দেখি নাই।

“অতএব এইটা খামোখা, এটা নিয়ে আলোচনা করে যারা, যেটা কেউ বাঁশের মই দিয়ে চাঁদে যেতে চাইতেছে, কেউ স্টিলের মই চাঁদে যেতে চাচ্ছে, কেউ টিনের মই দিয়ে চাঁদে যেতে চাচ্ছে।”

নির্বাচিতদের দুই পথে শপথ নেওয়ার আলোচনার মধ্যে সোমবার যমুনা টিভির এক আলোচনা অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয় পাওয়ার পর আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আলাদাভাবে দুটো শপথ নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ব্যাখ্যা করলে বোঝা যায়, বিষয়টি অন্যরকম।

“এটা কোনোরকম ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ছাড়া জাস্ট মেনে নেওয়ার মতো কোনো বিষয় না। খুব বেআইনিভাবে কিছু কাজ হয়েছে। দ্বিতীয় আরেকটি শপথের বিষয় যুক্ত করা হয়েছে, যেটার আসলে কোনো এখতিয়ারই নেই।”

তবে জামায়াতের পরাজিত প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির বলেছেন, শপথ না নেওয়ার মাধ্যমে বিএনপি মূলত ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ লঙ্ঘন করেছে।

যদিও সুপ্রিম কোর্টর আরেকজন আইনজীবী আরিফ খান বলেছেন, “বিএনপি শপথ নিতে চাচ্ছে না, এটা কিন্তু বলে নাই।”

শপথের আগের সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যের শপথ নিয়ে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ ধরে তিনি বলেন, “সকল অধ্যাদেশ ও আদেশ, যা ইন্টেরিম সময়ে পাশ হয়েছে সেগুলো প্রত্যেকটা আগে সংসদে উত্থাপন করতে হবে। করলে এটা আইনে পরিণত হবে। সংসদ গঠন করার পর ওইগুলো যতক্ষণ পর্যন্ত সংসদে পাশ না হবে, ততক্ষণ কিন্তু এগুলো আইন না।”

সংসদ ভবনে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার আগ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেন, তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না।

সেই সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন দীর্ঘ দিন ধরে ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

সেদিন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেছিলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ ফরম থাকলেও আমরা (বিএনপি) কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। এছাড়া সংবিধানে বিষয়টি এখনও অন্তর্ভুক্ত বা ধারণ করা হয়নি।

“গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা আগে সংবিধানে ধারণ করতে হবে। একইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের কে শপথ পড়াবেন, সেটারও বিধান করতে হবে।”

‘সংবিধান সংস্কার এখন বিএনপির হাতে’

সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। সেই ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদে যে কোনো বিল তারা পাস করার এক্তিয়ার রাখে।

আর জামায়াত জোটের ৭৭ জন নির্বাচিত সদস্য একই সাথে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তারা চাইলেও কোনো বিল পাস করতে পারবে না।

অপরদিকে বিএনপি শপথ না নেওয়ায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কার্যক্রমও ঝুলে আছে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণা করার ৩০ দিনের মধ্যে যে পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের প্রধান অধিবেশন আহ্বান করা হবে অনুরূপভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হবে।

শাহদীন মালিক বলেন, “সংসদে এই অধ্যাদেশটা আইন হিসেবে চলতে থাকবে…এরকম কোনো ক্ষমতা সংসদের নাই। অধ্যাদেশ সম্পর্কে সংবিধানে যেটা বলা আছে, ৩০ দিনের মাথায় সব অধ্যাদেশ মরে যাবে, কার্যকারিতা হারাবে। সংসদ অধ্যাদেশে কার্যকারিতা দিতে পারে না। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদে এর ব্যাখ্যা দেওয়া আছে।”

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং বাস্তবায়ন নিয়ে এখন কী হবে এমন এক প্রশ্নের জবাবে ঐকমত্য কমিশনের এক সদস্য  বলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং বাস্তবায়নের ব্যাপারটা এখন রাজনৈতিক নেতাদের কাছে চলে গেছে। বল এখন তাদের কোর্টে, তারা যা চায় তাই হবে। তারা চাইলে হবে, না চাইলে সম্ভব না।”

এ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন প্রধান ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সবই নির্ভর করছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের, বিশেষ করে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনপ্রাপ্ত সরকারি দলের উপর। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের মাধ্যমে সংবিধানের যে-কোনো অনুচ্ছেদ, এমনকি মূলনীতিও সংশোধন করা যায়।

“যা ইতোপূর্বে পঞ্চম (১৯৭৯), অষ্টম (১৯৮৮) ও ১৫তম (২০১১) সংশোধনীর ক্ষেত্রে ঘটেছে। অতএব নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় হওয়ায় সংবিধান সংশোধনসহ জুলাই সনদের কতটুকু বাস্তবায়িত হবে তা নির্ভর করছে বিএনপির সদিচ্ছার ওপর।”

জামায়াত জোট কী বলছে?

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করার পর গেল ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষর হয়। কিন্তু অভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতাদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি সনদে তখন স্বাক্ষর করেনি।

সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধের কারণে ২৮ অক্টোবর জাতীয় ঐকমত্য পরিষদ সরকারের কাছে সুপারিশমালা জমা দেয়।

এর পর জুলাই সনদ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বাদ দেওয়া ও গণভোটের সময় নিয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়।

এই মতবিরোধের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়ে গণভোটের অধ্যাদেশ জারি হয়। সংসদ নির্বাচনের পর শপথের আগের দিন এনসিপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে।

বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন জামায়াত ও এনসিপি নেতারা।

বুধবার জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সংবাদিকদের বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার বিষয়টি জুলাই অভ্যুত্থানকে ‘অপমান করার শামিল’।

বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে, সংবিধানের দোহাই দিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নেননি, যা সংস্কারের সঙ্গে প্রতারণা এবং গণভোটের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল।

“যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে, সরকারি দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে তাদের সবার সঙ্গে প্রতারণা করেছে।”

যা বলছে বিএনপি

সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য না নেওয়ার ব্যাখ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, যে বিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিতদের সংসদ সদস্যের শপথ পড়িয়েছেন, তাতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের বিষয়টি নেই। সে কারণে তারও শপথ পাঠ করানোর এক্তিয়ার নেই।

“সে বিবেচনায় তিনি (সিইসি) আমাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করানোর জন্য অ্যাপ্রোচও করেননি, আমরাও শপথ গ্রহণ করিনি।”

তবে বিএনপির নতুন সরকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, “জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটি বিষয়—জুলাই জাতীয় সনদ রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, একটি ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে—সেটা আমরা অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালনে অঙ্গীকারবদ্ধ।”

শুক্রবার দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের অনেক সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে বিএনপি দলীয়ভাবে আগে থেকে আন্তরিক। সংসদ অধিবেশন শুরু হলে প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিএনপির একজন নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জুলাই সনদ নিয়ে আলাদা সেল করা হতে পারে। একজন উপদেষ্টার নেতৃত্বে এই সেল সরকার, সংসদ ও দলের মধ্যে সমন্বয় রেখে সনদ বাস্তবায়নের পথরেখা তৈরি করবে।

বিএনপির ইশেতহারে নির্বাচনে বিজয়ী হলে নির্বাহী বিভাগ, সরকার, সংসদের মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

দ্বি-কক্ষ সংসদ গঠনে বিএনপি গত বছর থেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। বিএনপি সংসদের আসন সংখ্যার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনের কথা বলেছে।

দলের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, “সংসদ অধিবেশন শুরু হলে, আলোচনা শুরু করবে বিএনপি।

“অধিবেশনে সংসদ ও গণপরিষদ দুটো একসাথেই চলবে। এক্ষেত্রে বিএনপির সংসদ সদস্যরা গণপরিষদের শপথ নিতে পারেন।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, “সংসদে আলোচনার মধ্যে দিয়ে চূড়ান্ত করা হবে, নিশ্চিত। তবে যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে এবং সরকার সম্ভবত নাগরিক সমাজকে আবার এই বিষয়ে যুক্ত করতে পারে।”

Pin It