ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি সংসদ চলছিল। সোমবার বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়।
অধিবেশনের এক পর্যায়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ দেন ডেপুটি স্পিকার।
সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘সম্মানসূচক’ সম্বোধন করেননি কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত। স্পিকার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে তাৎক্ষণিক ভুল স্বীকার করেন হাসনাত।
এই সংসদ সদস্য বলেন, সালাউদ্দিন সাহেবকে প্রশ্ন করলে কখন নোটিশ দেওয়া কথা বলে ফেলেন; সেই বিষয়টি নিয়ে আমরা সংকুচিত থাকি। আমরা পুলিশ সংস্কার নিয়ে কথা বলছি; পুলিশের সুশৃঙ্খলতা নিয়ে কথা বলছি।
হাসনাতের বক্তব্য দেওয়ার সময় পাশ থেকে অন্য এমপিরা কথা বলতে থাকেন।
বিশেষ করে ‘সালাউদ্দিন সাহেব’ বলে সম্বোধন করায় অন্য এমপিরা তাকে ‘মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ বলে ডাকার কথা বলেন।
এনসিপির সংসদ সদস্য বলেন, তৃণমূলের পর্যায়ের পুলিশের ইন্সট্রুমেন্টাল সমস্যা রয়েছে। যেমন পুলিকে যখন কোনো কেসের বিষয়ে তদন্তের জন্য পাঠানো হয় তখন তাকে কিন্তু থানা থেকে খরচ দেওয়া হয় না। আর যেটা দেওয়া হয় সেটা কিন্তু অপ্রতুল। আমরা যখন পুলিকে একটা কাজ দিচ্ছি তখন বাজেট দিচ্ছি না।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, পুলিশে একটা কালচার প্রচলিত আছে- ম্যানেজ করে নাও। ম্যানেজ করতে গিয়ে পুলিশ দুর্নীতির কাজে জড়িয়ে পড়ে।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সম্বোধন করার ক্ষেত্রে ভুল হয়ে থাকে তাহলে আমি একনলেজ (স্বীকার) করছি। আমি সাড়ে ২৭ বছর বয়সে সংসদে আসছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে এসেছেন ১৯৯১ সালে; আমার জন্ম হয়েছে ১৯৯৮ সালে। তাই কনভেনশনাল যে ভুলগুলো রয়েছে তা সংশোধন করতে রাজি আছি। যখনি আমাদের নোটিশ করবেন আমরা সেগুলো সংশোধন করে নেব।
হাসনাতের কথা শুনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেসে হেসে বলেন, বয়স যাই হোক আমাকে (হাসনাতকে) ‘মাননীয় সংসদ সদস্য’ বলেন সম্বোধন করতেই হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অল্প বয়সে সংসদে আসাটা ভাগ্যের ব্যাপার। আমরা সবার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। তিনি হাসনাতকে ভুল স্বীকার করার জন্য সাধুবাদ জানান।
সালাহউদ্দিন আরও বলেন, আমরা যে সময় এমপি হয়েছি- তার ১০/১২ বছর পরে জন্ম নেওয়াটা সৌভাগ্যের বিষয়। কারণ তার আগে সামরিক শাসনের সময় ছিল।





