সহজেই আন্দোলনের অবসান ঘটাতে পারতেন শেখ হাসিনা, রায়ে ট্রাইব্যুনাল

1768317376-a9080d97cfcc7971ccfc4c178ea527f2

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শুরুর দিকে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে সহজেই আন্দোলনের অবসান ঘটাতে পারতেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু সেটি না করে তিনি তাদের ইতিহাসের নজিরবিহীন নৃশংসতার দিতে ঠেলে দিয়েছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায়ে এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘সরকারি চাকরির নিয়োগে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শেখ হাসিনার সৌহাদ্যপূর্ণ পন্থায় মীমাংসায় পৌঁছানোর যথেষ্ট সুযোগ ছিল।

যে কোটা পদ্ধতি তিনি আগেই একবার সম্পূর্ণভাবে বাতিল করেছিলেন। কিন্তু একই ইস্যু আবার কোনোভাবে পুনরুজ্জীবিত হলো।’

‘শিক্ষার্থীদের সবোর্চ্চ অভিভাবক হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুব সহজেই শুরুর দিকে আন্দোলনের অবসান ঘটাতে পারতেন। তা না করে তিনি আন্দোলনকারীদের অবমূল্যায়ন করে ইতিহাসের নজিরবিহীন নৃশংসতার দিতে ঠেলে দিয়েছেন।

বৃদ্ধ, শিশু, নারীসহ আন্দোলনকারীদের ওপর যে নিষ্ঠুরতা চালানো হয়েছে, তা বিশ্ব বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। আদালত কক্ষে প্রদর্শিত ভিডিওতে হতাহত আন্দোলনকারীদের আর্তনাদ এবং মাথার খুলি, চোখ, নাক, হাত-পা হারানো ভুক্তভোগী সাক্ষীদের দেখে কোনো মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক মানসিক ভারসাম্য ধরে রাখা কঠিন।’আদালত বলেন, ‘এই ধরনের নৃশংসতা যেকোনো মূল্যে চিরতরে বন্ধ করা উচিত এবং এক্ষেত্রে ন্যায়বিচারকে ব্যর্থ হতে দেওয়া উচিত না।’

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে।

গত ১৭ নভেম্বর একটি অভিযোগে ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া আরেকটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়।

যে অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

Pin It