পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের আর এক সপ্তাহ বাকি। এই সময়েও সাকিব আল হাসানকে নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। যার ফলে তাকে ছাড়াই পাকিস্তান সিরিজে খেলতে নামবে বাংলাদেশ।
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিবের নামে ঝুলছে একাধিক মামলা। তার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। এসব মামলা সমাধান করে তবেই তাকে দেশে ফেরাতে চাইছে বিসিবি। সাকিবের আইনজীবীদের কাছ থেকে নথি নিয়ে তা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজারে বোর্ড পরিচালক আসিফ আকবর সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাকিবের যে আইনি বিষয়গুলো নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে, সেগুলো সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয় ও বিসিবি একসঙ্গে কাজ করছে।’
তবে সেসব মামলার নিষ্পত্তি পাকিস্তান সিরিজের আগে শেষ হচ্ছে না। যার ফলে এই সিরিজ দিয়ে তার ফেরা হচ্ছে না।
এদিকে সাকিবের ফিটনেস নিয়েও প্রশ্ন আছে। সঙ্গে তার অনুশীলন থেকে দূরে থাকাটাও একটা ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার ফলে তাকে বিবেচনায় রাখছেন না নির্বাচকরা।
পাকিস্তান সিরিজের দল বোর্ডে জমা হয়ে গেছে। সাকিবের নাম সেখানে নেই। জানা গেছে, এই দলে আছে নাহিদ রানা ও আফিফ হোসেনের নাম।
পাকিস্তান সিরিজের আগে বাংলাদেশের সামনে যে সমীকরণ
এই সিরিজের আগে বাংলাদেশের সামনে আছে এক সমীকরণ। ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের দশে থাকা বাংলাদেশের সামনে এই সিরিজে সুযোগ আছে নয়ে উঠে আসার।
মেহেদী হাসান মিরাজের দলের রেটিং পয়েন্ট এখন ৭৬। তাদের ঠিক ওপরে, নবম স্থানে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের পয়েন্ট ৭৭।
বাংলাদেশ যদি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জেতে, তাহলে তাদের পয়েন্ট হবে ৭৯। তখন তারা উঠে যাবে নবম স্থানে। আর ৩-০ ব্যবধানে জিতলে তো কথাই নেই, তখন পয়েন্ট হবে ৮০।
তবে ২-১ ব্যবধানে হারলে বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে ৭৭। তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সমান পয়েন্ট হবে। কিন্তু দশমিকের হিসাবে পিছিয়ে থাকবে টাইগাররা। আর ৩-০ ব্যবধানে হারলে পয়েন্ট নেমে যাবে ৭৪-এ।
পাকিস্তান এখন র্যাঙ্কিংয়ে চতুর্থ স্থানে আছে। সিরিজের ফল যাই হোক, তাদের অবস্থান বদলাবে না। তবে রেটিং পয়েন্টে কিছু পরিবর্তন হতে পারে।
এই সিরিজের আগের এই সমীকরণ বাংলাদেশের জন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় এই আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে র্যাঙ্কিংয়ে ওপরে থাকতে হবে।
স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে সরাসরি খেলবে। তাদের সঙ্গে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল সুযোগ পাবে। বাকি চারটি দল আসবে বাছাই পর্ব থেকে। নামিবিয়া এবার সহ-আয়োজক হলেও তারা পূর্ণ সদস্য না হওয়ায় সরাসরি সুযোগ পাবে না।
পাকিস্তান দল ৯ মার্চ বাংলাদেশে আসবে। পরদিন তারা অনুশীলন করবে। প্রথম ওয়ানডে হবে ১১ মার্চ। পরের ম্যাচ দুটি হবে ১৩ ও ১৫ মার্চ।





