১৫৩ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের

13th-Bd-Election-693ac918777f7-693d12b23b8b9-696420f22cee8

বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে থাকা বামপন্থিদের নয়া জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট প্রাথমিকভাবে ১৫৩টি আসনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে। জোটের শরিকদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৬৫, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ ৪১, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী) ৩২ এবং বাংলাদেশ জাসদ ১৫টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তবে জোটের অন্য শরিক বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের ১ জন, সমাজতান্ত্রিক পার্টির ২ জন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির ১ জন এবং সোনার বাংলা পার্টি ১ জন সিপিবির কাস্তে ও বাসদের মই প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। কারণ, এ দলগুলোর ইসিতে নিবন্ধন নেই।

গত ২৯ নভেম্বর রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় কনভেনশনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের আত্মপ্রকাশ ঘটে। আন্দোলন ও নির্বাচনের লক্ষ্য সামনে রেখে গঠিত ফ্রন্টে বাম গণতান্ত্রিক ঘরানার নয়টি দল রয়েছে। এগুলো হলো-বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী), বাংলাদেশ জাসদ, ঐক্য ন্যাপ এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মাহবুব)। এর মধ্যে সিপিবি, বাসদ, বাংলাদেশ জাসদ এবং বাসদ (মার্কসবাদী) ইসিতে নিবন্ধিত। বাকি পাঁচটি দল অনিবন্ধিত। অনিবন্ধিত দলের প্রার্থীরা জোটের নিবন্ধিত যে কোনো একটি দলের মার্কা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে।

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও চতুর্থ গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল অনুযায়ী ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে এখন চলছে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে করা প্রার্থীদের আপিল নিষ্পত্তির শুনানি। ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল নিষ্পত্তির শুনানি চলবে।

এ প্রসঙ্গে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ রোববার জানান, আপিল শুনানি শেষে জানা যাবে তাদের কতজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এরপরই তারা সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবেন। একই দিন তারা তাদের নির্বাচনি ইশতেহারও ঘোষণা করবেন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ‘জোটের প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত। নির্বাচন কমিশন থেকে আসনভিত্তিক খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর আমরা জোটগতভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করব।’

বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, ‘বিএনপি ও জামায়াত জোটের বাইরে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া এবং যাচাই-বাছাই পর্ব শেষ হয়েছে। এখন চলছে আপিল নিষ্পত্তি। এটি শেষ হলেই আমরা আমাদের জোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করব।’

জানা যায়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের শরিক দলগুলো নিজেদের মতো করে প্রথমে খসড়া প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। ইসিতে নিবন্ধিত জোটের শরিক দলের মধ্যে সিপিবি ১১৮, বাসদ ১১০, বাংলাদেশ জাসদ ৫৭ এবং বাসদ (মার্কসবাদী) ৩৭ আসনে দলীয় প্রার্থীর একটি খসড়া তালিকা প্রকাশ করে। এছাড়া জোটের অনিবন্ধিত শরিকরা ১৫টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। এরপর জোটের সব শরিক প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে আলোচনায় বসে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা কে কোন আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, তা দেখার পর আলোচনা করে প্রথম দফায় সমঝোতার ভিত্তিতে ১৪০ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। পরে আলাপ-আলোচনা করে ১৫৩ আসনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেন জোটের শীর্ষ নেতারা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে গণতন্ত্র কায়েম, ভোটাধিকার নিশ্চিত এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট যাত্রা শুরু করে।

Pin It