অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটার ড্যামিয়েন মার্টিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে কৃত্রিম কোমায় রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম ও তার পরিবারঘনিষ্ঠ সূত্র।
৫৪ বছর বয়সী মার্টিন গত ২৬ ডিসেম্বর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমানে কুইন্সল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার সর্বোচ্চ চিকিৎসা চলছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাকে কোমা থেকে ধীরে ধীরে বের করে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
ড্যামিয়েন মার্টিন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৯৯২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৬৭টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। খেলেছেন চারটি অ্যাশেজ সিরিজে। ২০০৬-০৭ অ্যাশেজ চলাকালীন তৃতীয় টেস্টের আগে হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন তিনি।
ক্যারিয়ারে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতিও রয়েছে তার।
মার্টিনের অসুস্থতার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ড্যামিয়েনের অসুস্থতার খবর শুনে আমরা সবাই মর্মাহত। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও পুরো ক্রিকেট সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
মার্টিনের পরিবারের পক্ষ থেকে কথা বলতে গিয়ে সাবেক সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু অ্যাডাম গিলক্রিস্ট জানান, ড্যামিয়েন সেরা চিকিৎসা পাচ্ছেন এবং তার সঙ্গী আমান্ডা ও পরিবারের সদস্যরা সবার দোয়া ও শুভকামনার কথা জানেন।
এদিকে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল তারকা ব্র্যাড হার্ডি এক রেডিও অনুষ্ঠানে বলেন, ড্যামিয়েন মার্টিন বক্সিং ডের দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এখন কুইন্সল্যান্ডের হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বিষয়টি খুবই গুরুতর। সবাই যেন তার জন্য ইতিবাচক ভাবনা ও দোয়া করেন।
সাবেক অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটার ও বর্তমানে নর্থ্যাম্পটনশায়ারের প্রধান কোচ ড্যারেন লেহম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, অনেক ভালোবাসা ও প্রার্থনা।
শক্ত থাকো, লড়াই চালিয়ে যাও কিংবদন্তি।
ক্রিকেট ক্যারিয়ারে মার্টিন টেস্ট ক্রিকেটে ৪৬.৩৭ গড়ে ৪৪০৬ রান করেন। ওয়ানডে ক্রিকেটেও ছিলেন ধারাবাহিক। ২০৮ ম্যাচে ৫৩৪৬ রান করেছেন গড়ে ৪০। রয়েছে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও ৩৭টি ফিফটি। ২০০৩ বিশ্বকাপ ফাইনালে ভাঙা আঙুল নিয়েও ভারতের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৮ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, মেনিনজাইটিস হলো মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডকে ঘিরে থাকা পর্দার সংক্রমণ, যা দ্রুত চিকিৎসা না পেলে মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।





