দীর্ঘদিন সুস্থ শরীর বজায় রাখতে ধৈর্য এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য।
কিছু সহজ অভ্যাস নিয়মিত চর্চা করলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত হয় এবং দীর্ঘায়ুর সম্ভাবনা বাড়ে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন এ বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি জানান, কিছু অভ্যাস কার্যকরভাবে স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে।
ধ্যান ও মনঃসংযোগ
মানসিক চাপ কমাতে এবং মনোযোগ বাড়াতে ধ্যান অত্যন্ত কার্যকর। দৈনন্দিন জীবনে অতীত নিয়ে অনুশোচনা বা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ মানসিক চাপ সৃষ্টি করে, যা কর্টিসলের মতো হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে।
দীর্ঘমেয়াদে এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে, মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ‘মাইন্ডফুলনেস’ বা ধ্যান চর্চা চাপ কমিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে।
এজন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা আসনে বসার প্রয়োজন নেই। মনোযোগ দিয়ে হাঁটা, প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা, পাখি বা গাছপালা দেখা—এসব সহজ কাজই যথেষ্ট।
খাওয়ার সময় ফোন এড়িয়ে ধীরে-সুস্থে খাবার উপভোগ করলে মনোযোগ বাড়ে।
‘স্ট্রেস’ বা চাপ বাড়লে ‘বক্স ব্রিদিং’ চর্চা করুন: চার সেকেন্ড শ্বাস গ্রহণ, চার সেকেন্ড ধরে রাখা, চার সেকেন্ড ছাড়া এবং আবার চার সেকেন্ড ধরে রাখা।
নিয়মিত পাঁচ মিনিট এটি করলে ‘স্ট্রেস’ হরমোন কমে এবং পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বাড়ে।
ভালো ঘুম
ঘুম শরীরের ক্ষতি পূরণ করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ওজন নিয়ন্ত্রণ করে, বুদ্ধিবৃত্তি উন্নত করে এবং মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে।
হার্ভার্ডের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রাতে কমপক্ষে সাত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে ঘুমের পরিমাণের চেয়ে গুণগত মান বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বারবার ঘুম ভাঙা বা ঠিকমতো ঘুম না হলে উপকার কম হয়। নয় ঘণ্টার বেশি ঘুমও ক্ষতিকর হতে পারে। আবার সাত ঘণ্টার মানসম্পন্ন ঘুম রোগ থেকে দূরে রাখে এবং কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে।
ঠিকমতো ঘুম না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
প্রাকৃতিক ও গোটা শস্যজাতীয় খাবারকে প্রাধান্য দিন, যেমন- ফলমূল, সবজি, ডাল, বীজ। প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও কৃত্রিম উপাদান থাকে, যা হজমশক্তি দুর্বল করে এবং প্রদাহ বাড়ায়।
মিষ্টি মাঝেমধ্যে খাওয়া যেতে পারে, নিয়মিত নয়।
খাবারের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলান: মনের চাহিদার পরিবর্তে শরীরের পুষ্টির প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিন। এতে হজম উন্নত হয় এবং অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিয়মিত হাঁটাচলা বা শারীরিক সক্রিয়তা
ব্যায়ামকে কঠিন কাজ না ভেবে জীবনের অংশ করুন। সিঁড়ি ব্যবহার, অফিসে স্ট্রেচিং, বাগান করা, নাচ বা খেলাধুলা— প্রিয় কাজ বেছে নিন।
ণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা রক্তনালি ও বিপাকের জন্য ক্ষতিকর। কাজের ফাঁকে হাঁটাহাঁটি করুন। সক্রিয় থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
দূষণ থেকে সুরক্ষা
বাংলাদেশে বায়ুদূষণ বাড়ছে। ক্ষতিকর কণা ফুসফুস ও রক্তে মিশে হৃদরোগ, স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
‘এয়ার পিউরিফায়ার’ ব্যবহার, ফিল্টার করা পানি পান, প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাচ বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র, রান্নাঘরে বায়ু চলাচল এবং গাছ লাগানো— এসব অভ্যাস ক্ষতি কমাতে সহায়ক।
এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত চর্চা করলে শরীর ও মন সুস্থ থাকবে, সবল দেহ দীর্ঘায়ু লাভ সম্ভব হবে।





