বিপিএলের দিনের প্রথম ম্যাচে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ব্যাটারদের দাপট খুব বেশি দেখা না গেলেও একজন পুরো ম্যাচের চিত্রটাই বদলে দিয়েছেন। তিনি নাসির হোসেন। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে মাত্র ২১ বলে ফিফটি হাঁকিয়ে এবারের আসরের দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড গড়েন এই ডানহাতি ব্যাটার। তার টর্নেডো ইনিংসের ওপর ভর করে ১৩৪ রানের লক্ষ্য অনায়াসেই ৭ উইকেটে হারিয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস।
টানা পঞ্চম হারের তিক্ত স্বাদ পেল নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
এর আগে টসে জিতে ঢাকা ক্যাপিটালস নোয়াখালীকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। কিন্তু শুরু থেকেই ছন্দহীন ছিল নোয়াখালীর ইনিংস। দুই ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান ও সৌম্য সরকার দলীয় ১১ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফিরলে চাপ বাড়ে।
এরপর একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় দ্রুতই বিপর্যয়ে পড়ে দলটি।
তিন নম্বরে নামা মাজ সাদাকাত কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ১৯ বলে ২৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও বড় হতে পারেননি তিনি। মুনিম শাহরিয়ার (৬ বলে ২) ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (৯ বলে ৪) ব্যর্থ হলে মাত্র ৪০ রানেই পাঁচ উইকেট হারায় নোয়াখালী।
চাপের মুহূর্তে দলের দায়িত্ব নেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবী ও অধিনায়ক হায়দার আলী। দুজনই পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করেন এবং ধীরে ধীরে ইনিংসকে স্থিতিশীল করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রানের গতি বাড়িয়ে তিন অঙ্ক পার করে নোয়াখালী। শেষ ওভারে ৩৬ বলে ৪৭ রান করা হায়দার আউট হলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে ৩৩ বলে ৪২ রান করেন নবী। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান সংগ্রহ করে নোয়াখালী।
ঢাকার বোলিংয়ে ছিল সমান অবদান। ইমাদ ওয়াসিম, তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, জিয়াউর রহমান, নাসির হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রত্যেকে একটি করে উইকেট শিকার করেন।
১৩৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পায়নি ঢাকা ক্যাপিটালসও। রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন দুজনই দলীয় ১৪ রানের মধ্যে আউট হয়ে ফেরেন। মামুন করেন ৬ বলে ১ রান, আর গুরবাজ খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন।
তবে এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ঢাকার হাতে নিয়ে নেন নাসির। তিন নম্বরে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করেন তিনি। একের পর এক বাউন্ডারিতে রান তুলতে থাকেন নাসির। মাত্র ২১ বলে ফিফটি করে এবারের আসরের দ্রুততম অর্ধশতকের নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। আগের রেকর্ডটি ছিল কাইল মেয়ার্সের (২৩ বলে)।
ফিফটির পর কিছুটা ধীর হলেও থামেননি নাসির। ইরফান শুক্কুর ১১ বলে ১২ রান করে বিদায় নেন। এরপর নাসিরের সঙ্গে যোগ দেন ইমাদ ওয়াসিম। দুজনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দ্রুতই জয়ের দিকে এগোয় ঢাকা।
শেষ পর্যন্ত ৫০ বলে ৯০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন নাসির। অন্য প্রান্তে ১৬ বলে ২৯ রান করে টিকে ছিলেন ওয়াসিম। তাদের ব্যাটেই ৭ উইকেটের সহজ জয় নিশ্চিত করে ঢাকা ক্যাপিটালস।
নোয়াখালীর হয়ে হাসান মাহমুদ দুটি উইকেট নেন, আর একটি উইকেট শিকার করেন জহির খান।
এই জয়ে এবারের আসরে নিজেদের দ্বিতীয় জয় তুলে নিল ঢাকা ক্যাপিটালস। বিপরীতে পাঁচ ম্যাচ খেলেও এখনো জয়ের মুখ দেখেনি নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
১৪ রানের রোমাঞ্চকর জয়ে টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু পায় চট্টগ্রাম। ওপেনার নাঈম শেখ ও অ্যাডাম রসিংটনের জুটিতে আসে ৩৫ রান।
নাঈম ১৫ বলে ১৮ রান করে ফিরলেও রসিংটনের সঙ্গে তিন নম্বরে নামা মাহমুদুল হাসান জয় আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন।
পাওয়ারপ্লেতে ৬ ওভারে এক উইকেটে ৬০ রান তোলে চট্টগ্রাম। জয় মাত্র ২১ বলে ৪৪ রানের ঝলমলে ইনিংস খেললেও ফিফটির আগে থামেন। রসিংটনও অল্পের জন্য ফিফটি মিস করে ৩৮ বলে ৪৯ রান করেন।
মাত্র ৪ রানে পারভেজ হোসেন ইমনকে হারায় তারা। আফিফ হোসেন ধ্রুব ও তাওফিক খান কিছুটা লড়াই গড়ে তুললেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। পাওয়ারপ্লে শেষে ৩ উইকেটে ৫০ রান তোলে সিলেট।
আফিফ একপ্রান্ত আগলে রেখে ৩৩ বলে ৪৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। তবে অন্য প্রান্তে মঈন আলী, আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও ইথান ব্রুকসরা বড় অবদান রাখতে পারেননি।
শেষ দিকে খালেদ আহমেদের ৯ বলে ২৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ম্যাচে নাটকীয়তা তৈরি হয়। শেষ ওভারে সমীকরণ নেমে আসে হাতের মুঠোয়, তবে তানভীর ইসলামের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ১৪ রানের জয় নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম রয়্যালস।





