জাতীয় সংসদের পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত করা নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার সকাল ও বিকালে কমিশনের দুই ধরনের বক্তব্যে এ ধূম্রজাল তৈরি হয়। এর ফলে দিনভর ওই দুই আসনে মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এদিন বিকালে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ নির্বাচনি কার্যক্রম আপাতত স্থগিত থাকবে বলেই নিশ্চিত করেছেন।
সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করেনি। তবে আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত অনানুষ্ঠানিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা না করতে বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ সময়ে নির্বাচনি আচরণবিধি বাস্তবায়নে ওই আসনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন না। পাশাপাশি এই দুই আসনের মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা আপিল আবেদনও আপাতত শুনানি করা হবে না। দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলোতে শুক্রবার সংবাদ প্রকাশ হয় যে, সীমানা সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতের আদেশের কারণে পাবনা-১ ও ২ সংসদীয় আসনে নির্বাচনি কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। ওই সংবাদ প্রকাশের পর দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক ওই সংবাদ অসত্য উল্লেখ করে তা প্রচার না করার অনুরোধ জানান। এতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়নি। ওই তথ্য সম্প্রচার করে তথ্য অধিদপ্তর। নির্বাচন কমিশনের ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তির পরই মূলত তৈরি হয় ধূম্রজাল। এরইমধ্যে শুক্রবার বিকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফের সঙ্গে বৈঠক করেন ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। ওই বৈঠকের পর ইসি সচিব নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত করার কথা জানান। তিনি বলেন, আদালতের রায়ের কপি পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
পাবনায় প্রার্থী ও জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া : পাবনা প্রতিনিধি জানান, দুপুরে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিজু তামান্না তার অফিসিয়াল ফেসবুকে একটি টিভি চ্যানেলের নিউজ লিঙ্ক দিয়ে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার খবরটি শেয়ার করেন। পাবনা-২ আসনের একজন এমপি প্রার্থীও তার ফেসবুকে লেখেন আপাতত নির্বাচন স্থগিত। এভাবে খবরটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, ভোটারসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে। বিকালে পাবনার জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার শাহেদ মোস্তফা জানান, তিনি নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কোনো খবর পাননি। সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোশারফ হোসেন সরাসরি বলেন, স্থগিত হওয়ার খবরটি ফেক (ভুয়া)। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, নির্বাচনের অনেক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জনগণ নির্বাচনমুখী। তারা ১৭ বছর ভোট দিতে পারেনি। এখন এ অবস্থায় নির্বাচন স্থগিত হলে তা হবে গণবিস্ফোরণের মতো অবস্থা। তিনি বলেন, এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি।
পাবনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী একেএম সেলিম রেজা হাবিবও বলেন, নির্বাচন স্থগিত হওয়ার খবরটি ভুয়া। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।





