জুলাইয়ে হত্যাচেষ্টা: হাসিনা–জয়–কাদেরসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

1768230314-3e984cba1a8c2c11468d2b556354c734

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ধানমন্ডি–২৭ নম্বরের মীনা বাজারের সামনে সাহেদ আলী নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে আহতদের খুঁজে না পাওয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞাঁ এই প্রতিবেদন দাখিল করেন।

সম্প্রতি প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়। সোমবার (১৪ জানুয়ারি) প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল বাশার এ তথ্য জানান।

আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন গ্রহণের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত স্কয়ার থেকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে সাহেদ আলী আহত হন। সে সময় ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ মোট ৯ জন আহত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় আহত ওই ব্যক্তির কথিত ভাই শরীফ বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে আসামি করে ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করেন।

থানা পুলিশ মামলার তদন্তকালে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। এরপর মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই।

তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, আহতদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। তথ্যগত ভুলের কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন— শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, মোহাম্মদ এ আরাফাত, জুনায়েদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুবুল আলম হানিফ, শামীম ওসমান, ফেরদৌস আহমেদ, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহান ভূঞাঁ বলেন, জুলাই আন্দোলনে আহতদের নিয়ে একটি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। এই মামলায় যেসব আহতের কথা বলা হয়েছে, গেজেটে তাদের নাম পাওয়া যায়নি। তথ্যগত ভুলের কারণে আপাতত আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আহতদের তথ্য পাওয়া গেলে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, আসামিরা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ ও কৃষক লীগের নেতা-কর্মী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য, কমিশনার, আওয়ামী লীগ সমর্থিত ক্যাডার, অর্থদাতা ও সমর্থক।

মামলা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য হাজারীবাগে বাদীর ভাড়া বাসায় নোটিশ পাঠানো হয়। তবে বাড়িওয়ালা জানান, শরীফ নামে কাউকে তিনি চেনেন না এবং ওই বাসায় এমন কেউ থাকেন না।

পরবর্তীতে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা যায়, বাদীর প্রকৃত নাম শরিফুল ইসলাম। তিনি লক্ষ্মীপুর সদরের ১৪ নম্বর মান্দারী এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এলাকাবাসীর কেউ তাকে চিনেন না। তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকে। তবে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর কখনো চালু, কখনো বন্ধ পাওয়া যায়।

হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের পর কয়েকদিন অপেক্ষার পর শরিফ ধানমন্ডি লেকের পাশে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা ভিকটিমকে হাজির করতে এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র সরবরাহের অনুরোধ জানান। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি ভিকটিমকে হাজির করেননি কিংবা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র জমা দেননি। চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য এজাহারেও উল্লেখ করা হয়নি।

গত ২৩ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শরিফকে পরদিন ঘটনাস্থলে আহত ব্যক্তি ও সাক্ষীদের উপস্থিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু কেউই উপস্থিত হননি। পরে তদন্ত কর্মকর্তা আহত সাহেদ আলীকে বিভিন্নভাবে খুঁজেও পাননি।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্য, পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা ও শ্রেণি রোল নম্বর না থাকায় কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও তাদের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আশপাশের হাসপাতালগুলোতেও খোঁজ নেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এজাহারে উল্লেখিত কোনো ব্যক্তি সেখানে ভর্তি হননি বা চিকিৎসা নেননি।

এজাহারে উল্লেখিত আহত সাহেদ আলী, রাশেদ, জুয়েল, মাহমুদ, নাহিদ, রাসেল, মিরাজ, জান্নাতুল ফেরদৌস নাঈমা, আইশা আক্তার ও সাম্মি আক্তারের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য, কোথায় চিকিৎসা নিয়েছেন, সে সম্পর্কেও কিছু জানা যায়নি।

আহতদের কোনো তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

এ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন— শাকিল হোসেন ইমরান, কামরুল হাসান ওরফে কামু, মারুফ হোসেন এবং মাসুদ রানা বেপারী।

Pin It