একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার গাঙ্গুলী মারা গেছেন

1768298097-fa9ce9099f763aa5040fea919b675d64

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা ও লোকসংগীতশিল্পী মলয় কুমার গাঙ্গুলী মারা গেছেন। ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাত ৯টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়েছে। মলয় কুমার গাঙ্গুলীর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গতকাল রাত ২টায় তার মরদেহ ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে রাখা হয়েছে। মলয় কুমার গাঙ্গুলীর একমাত্র মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন, আজ রাতে মেয়ে ফেরার পর শেষকৃত্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে কি না কিংবা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে কি না- তা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে মৃত্যুুর পরে কোনো আনুষ্ঠানিক সম্মান বা স্বীকৃতির কোনো আবেদন তার নেই, সে কথাও জীবদ্দশায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে গেছেন তিনি।

বলে রাখা যায়, ১৯৪৪ সালেনেত্রকোণার কেন্দুয়ার মোজাফফরপুর গ্রামে জন্ম নেন মলয় কুমার গাঙ্গুলী। যিনি ১৯৭১ সালের উত্তাল দিনগুলোতে কণ্ঠকে অস্ত্র বানিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় গিয়ে যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে।

বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে নিয়মিত গান রচনা, সুরারোপ এবং কণ্ঠ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা জুগিয়েছেন তিনি। বেতারকেন্দ্রে এস এম আবদুল গণি বোখারীর লেখা ও সুরে ‘ওরে ও বাঙালি আর কতকাল থাকবি ঘুমেতে হইয়া বিভোর’ গানে এককভাবে কণ্ঠ দিয়েছিলেন মলয় কুমার গাঙ্গুলী।

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে ‘পুত্রবধূ’ সিনেমায় ‘গুরু উপায় বলো না’ গানটি গেয়ে জনপ্রিয়তা পান। তার গাওয়া‘আমার মনতো বসে না গৃহ কাজে সজনী গো’, ‘অন্তরে বৈরাগীর লাউয়া বাজে’-এর মতো গানগুলো এখনও মানুষের কণ্ঠে শোনা যায়।

১৯৯০ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনের জন্য তৈরি করা ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই’ মলয় কুমার গাঙ্গুলীর ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক।

 তিনি ওই গানে সুরারোপ করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবিনা ইয়াসমীনের কণ্ঠে গানটি পুনরায় রেকর্ড করিয়ে নেন। ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার মলয় কুমার গাঙ্গুলীকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিল।
Pin It