শরিফুলের ফাইফার, দারুণ জয়ে নোয়াখালীকে বিদায় করল চট্টগ্রাম

Screenshot 2026-01-17 025303-12

বিপিএলের বিরতি কাটিয়ে মাঠে ফেরার দিনে দারুণ জয় তুলে নিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে তারা। এই হারের ফলে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে নতুন দল নোয়াখালী এক্সপ্রেস।

টস জিতে চট্টগ্রাম রয়্যালস নোয়াখালীকে আগে ব্যাট করতে পাঠায়।

শুরুটা মোটামুটি হলেও দুই ওপেনারের বিদায়ে দ্রুতই ছন্দ হারায় নোয়াখালী। সৌম্য সরকার ৮ বলে ১৪ রান করে ফিরলে পাওয়ারপ্লের শেষ বলে আউট হন হাসান ইসাখিল (২০ বলে ২৫)। ছয় ওভার শেষে ৪৯ রানে দুই উইকেট হারায় দলটি।
এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে নোয়াখালী এক্সপ্রেস।

তিন নম্বরে নামা জাকের আলী অনিক কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। ২২ বলে ২৩ রান করে তিনি থামেন ৮৬ রানে। অধিনায়ক হায়দার আলী করেন ১১ বলে ১২ রান। সোহান (১৫ বলে ১১) ও মুনিম শাহরিয়ার (১ বলে ১) ব্যর্থ হন।

শেষদিকে সাব্বির হোসেন ১৯ বলে ২২ রান করে ইনিংস কিছুটা এগিয়ে নেন। তবে শেষ পর্যন্ত ১২৬ রানেই থামে নোয়াখালীর ইনিংস।

চট্টগ্রামের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন শরিফুল ইসলাম। মাত্র ৯ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। শেখ মাহেদী হাসান নেন ৩ উইকেট, একটি উইকেট পান আমের জামাল।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই ধাক্কা খায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। কোনো রান না করেই মাহমুদুল হাসান জয় আউট হন। এরপর হারিস (৭), মাহফিজুল ইসলাম (০) এবং নাঈম শেখ (৮ বলে ১৭) ফিরে গেলে ২৯ রানের মধ্যেই ৪ উইকেট হারায় দলটি।

চাপের মুহূর্তে হাল ধরেন অধিনায়ক মাহেদী। তাকে সঙ্গ দেন হাসান নওয়াজ ও পরে আসিফ আলী। নওয়াজ ১৪ বলে ১১ রান করে আউট হলেও এরপর মেহেদী-আসিফ জুটি নিরাপদে ম্যাচ এগিয়ে নেয়।

দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাড়তি ঝুঁকি না নিয়ে জয় নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম। ৩৬ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন মাহেদী। তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেওয়া আসিফ ৩০ বলে ৩৬ রান করে ম্যাচ শেষ করেন ছক্কা হাঁকিয়ে। ১৮ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় পায় চট্টগ্রাম রয়্যালস।

নোয়াখালীর হয়ে ইহসানউল্লাহ নেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট পান হাসান মাহমুদ, জাহির খান ও সাব্বির হোসেন।

শেষ ওভারের রোমাঞ্চে রাজশাহীর জয়, কোয়ালিফায়ারে ওয়ারিয়র্স

বিপিএলের রাতের ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা, আর মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও সিলেট টাইটান্সের লড়াই ছিল ঠিক তেমনই। শেষ বল পর্যন্ত টানটান নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৫ রানে জয় তুলে নেয় রাজশাহী। এই জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে কোয়ালিফায়ারে জায়গা নিশ্চিত করে তারা। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হারিয়ে এলিমিনেটরে নামতে হলো সিলেট টাইটান্সকে।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহীর শুরুটা ছিল নড়বড়ে। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাহিবজাদা ফারহান দ্রুত ফিরে গেলে চাপ পড়ে দলের ওপর। তবে তিনে নেমে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ইনিংস সামাল দেন। পাওয়ারপ্লেতে দুই উইকেট হারালেও ৫৬ রান তুলে ভালো ভিত্তি গড়ে তোলে রাজশাহী।

শান্ত ছিলেন আগ্রাসী, মুশফিক খেলেছেন দায়িত্বশীল ভূমিকা। ২১ বলে ৩৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে শান্ত আউট হলে রাজশাহীর রানের গতি কিছুটা কমে যায়। এরপরও মুশফিক একপ্রান্ত ধরে রেখে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। ৩০ বলে ৪০ রান করে তিনি বিদায় নেওয়ার পর রাজশাহী দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারায়।

একসময় ৪ উইকেটে ১১৮ রান থাকা স্কোর মুহূর্তের মধ্যেই দাঁড়িয়ে যায় ৭ উইকেটে ১২৭।

শেষদিকে আবদুল গাফফার সাকলাইনের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস রাজশাহীর জন্য বড় ভূমিকা রাখে। তার ১১ বলে ১৬ রানের ক্যামিওতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রানের সংগ্রহ পায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

সিলেটের হয়ে শহিদুল ইসলাম ও নাসুম আহমেদ দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সিলেট টাইটান্সও শুরুতেই ধাক্কা খায়।

তাওফিক খান ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ দ্রুত ফিরে যান। পারভেজ হোসেন ইমন একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। ৩০ বলে ৪১ রানের ইনিংস খেলে তিনি দলকে ম্যাচে রাখেন। মুমিনুল হক ধীরে খেললেও উইকেটে টিকে ছিলেন, তবে প্রয়োজনীয় রান রেট বাড়তে থাকে।

মাঝের ওভারে আফিফ হোসেন ধ্রুব ও ইথান ব্রুকস প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। চাপের মুহূর্তে মঈন আলী ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন। মাত্র ১২ বলে ২৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে তিন ছক্কা ও একটি চারে ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা ফেরান তিনি। শেষ দুই ওভারে সিলেট জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।

শেষ ওভারে ১১ রান প্রয়োজন ছিল সিলেটের, হাতে ছিল দুই উইকেট। তবে বিনুরা ফার্নান্দোর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত সেই সমীকরণ পূরণ করতে পারেনি তারা। নাটকীয় মুহূর্তের পর ম্যাচ শেষ হয় রাজশাহীর ৫ রানের জয়ে।

বল হাতে রাজশাহীর হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন রিপন মণ্ডল। তিনি ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। বিনুরা ফার্নান্দো দুটি উইকেট তুলে নিয়ে শেষ ওভারে দৃঢ়তা দেখান। এছাড়া আবদুল গাফফার সাকলাইন, জিমি নিশাম ও মোহাম্মদ রুবেল একটি করে উইকেট নেন।

এই রোমাঞ্চকর জয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থেকে কোয়ালিফায়ারে পৌঁছাল। অন্যদিকে সিলেট টাইটান্সের সামনে এখন এলিমিনেটরে টিকে থাকার কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে।

Pin It