দুই ধরনের চুলা থেকে মিলবে দুই ধরনের উপকার।
দেশে গ্যাস সংকট, সিলিন্ডারের অভাব, দাম বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে শহুরে পরিবারগুলোতে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ।
বিশেষ করে ইন্ডাকশন এবং ইনফ্রারেড চুলা এখন রান্নাঘরের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এই দুই ধরনের চুলার কাজের পদ্ধতি ভিন্ন হওয়াতে পাত্র নির্বাচন ও ব্যবহারের নিয়মও আলাদা।
ঢাকা নিউমার্কেট বনলতা মার্কেটের প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপার্ট কেয়ারের’ কর্ণধার ও টেকনিশিয়ান রুবেল বেপারী এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলার মূল পার্থক্য
ইন্ডাকশন চুলা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডের মাধ্যমে পাত্রের তলাকে সরাসরি গরম করে। ফলে চুলার উপরিভাগ তুলনামূলক ঠাণ্ডা থাকে।
অন্যদিকে ইনফ্রারেড চুলা ‘হিটিং এলিমেন্টে’র সাহায্যে কাচের প্লেট গরম করে এবং এই তাপ পাত্রে স্থানান্তরিত হয়।
এই পার্থক্যের কারণেই পাত্রের সামঞ্জস্যতা এবং নিরাপত্তার নিয়ম ভিন্ন।
ইন্ডাকশন চুলায় কোন পাত্র ব্যবহার করা যায়?
ইন্ডাকশন চুলায় শুধুমাত্র ফেরোম্যাগনেটিক (লোহা বা স্টিলভিত্তিক) পাত্র ব্যবহার করা যায়। পাত্রের তলায় চুম্বক লেগে থাকে এমন হলে, তা ইন্ডাকশনের জন্য উপযোগী।
অ্যালুমিনিয়াম, কাচ, সিরামিক বা তামার পাত্র এখানে কাজ করবে না। পাত্রের তলা অবশ্যই সমতল ও পরিষ্কার হতে হবে।
পাত্র ছাড়া চুলা চালু করলে যন্ত্র কাজ করবে না এবং অতিরিক্ত চেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ইনফ্রারেড চুলায় সব ধরনের পাত্র ব্যবহার সম্ভব
ইনফ্রারেড চুলায় স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, কাচ, সিরামিক— প্রায় সব ধরনের পাত্রই ব্যবহার করা যায়। তবে পাত্রের তলা সমতল হওয়া জরুরি, কারণ বাঁকা তলায় তাপ সমানভাবে ছড়ায় না।
রান্নার পর কাচের প্লেট কিছুক্ষণ গরম থাকে, তাই হাত দেওয়ার আগে অপেক্ষা করতে হবে।
অতিরিক্ত ভারী পাত্র জোরে রাখলে কাচের প্লেট ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাপ নিয়ন্ত্রণে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ তাপ ধীরে কমে।
দুই ধরনের চুলার জন্য সাধারণ নিরাপত্তা নিয়ম
- রান্নাঘর শুষ্ক ও পরিষ্কার রাখুন
- চুলার আশপাশে দাহ্য বস্তু রাখবেন না
- রান্না শেষে চুলা বন্ধ করে প্লাগ খুলে রাখুন
- শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন
- কাচের প্লেট নরম কাপড় দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করুন
- কোনটি আপনার জন্য উপযোগী ?
দ্রুত রান্না, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং নিরাপত্তার দিক থেকে ইন্ডাকশন চুলা ভালো।
তবে বিভিন্ন ধরনের পাত্র ব্যবহারের সুবিধা চাইলে ইনফ্রারেড চুলা বেশি সুবিধাজনক।
রুবেল বেপারীর মতে, যে ধরনের চুলাই ব্যবহার করা হোক, সঠিক নিয়ম মেনে চললে চুলা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং রান্না হয় নিরাপদ।





