শাহবাগ ছাড়লেন আন্দোলন-কারীরা, কাল নতুন কর্মসূচি

1770402066-305b3a635418a0720336d57a71835f4c

রাজধানীর শাহবাগ এলাকা ছেড়ে দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ তারা শাহবাগ ছেড়ে যান।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের সাউন্ডগ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপসহ নানা ঘটনায় রণক্ষেত্র ছিল শাহবাগ প্রাঙ্গণ।

পুলিশের হামলায় শাহবাগ এলাকা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

তবে পরে আন্দোলনকারীরা পুনরায় জড়ো হয়ে শাহবাগে অংশ নেন। এদিকে ডাকসু ভবনের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগে জড়ো হয়ে মিছিল করেন।

পরে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ আগামীকাল নতুন কর্মসূচি আসতে পারে জানিয়ে সবাইকে শাহবাগ ছাড়ার অনুরোধ করা হয়। এ ঘোষণার পর সবাই সবাই শাহবাগ ছেড়ে দেন।

সবাই নিরাপদ স্থানে চলে যান: ইনকিলাব মঞ্চ

শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার বিচার দাবির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন বানচালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সক্রিয় হয়েছে বলে মনে করছে আধিপত্যবাদবিরোধী ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। এজন্য তারা মঞ্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্টসহ আন্দোলনকারীদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে এক বার্তায় এ কথা বলা হয়। এছাড়া একই বার্তা দেওয়া হয় মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের ফেসবুক আইডিতেও।

এতে বলা হয়, ‘লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে। শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।

বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এতে সরকারি ভাষ্যে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে করার দাবিতে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে বিক্ষোভ করছিলেন।

তারা বিকেল ৪টার দিকে সেখান থেকে যমুনার দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়েন।

এ সময় ব্যারিকেড ভেঙে তারা অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

এতে মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ বেশ কিছু নেতা-কর্মী রক্তাক্ত আহত হন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে জানা যায়, সংঘর্ষে আহত হয়ে অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

যারা চিকিৎসা নিয়েছেন, তারা হলেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ডাকসুর নেত্রী ফাতেমা তাসনিম ঝুমা, রাকসুর নেতা সালাউদ্দিন আম্মার, মনির, ফয়সাল, জয়, জুলকার, মোশাররফ, নিলয়, অনিক, উমর, রাহাত, রাসেল, আহাদ, মাহিন, আজাদ, শামিম, সোহেল, শাওন, জাবেদ ও শামিম।

পরে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিবৃতি দেয় অন্তবর্তী সরকার।

এতে দাবি করা হয়, বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগ করা হয়নি, গুলিবিদ্ধও হয়নি কেউ।
এরপর ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শাহবাগে জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। এদের একটি অংশ আবার যমুনার দিকে যেতে চাইলে তাদের দিকে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। এসময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিকে চলে যান, আর শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

Pin It