প্রায় ১৫ মাস পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতল ক্যারিবিয়ানরা।
ম্যাচের প্রথম দুই ওভারে নেই দুই উইকেট। ওই জোড়া ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেললেন শেরফেন রাদারফোর্ড। জেসন হোল্ডারের ব্যাট থেকে এলো ক্যামিও। রান তাড়ায় ভালো শুরুর পর পথ হারিয়ে ফেলল ইংল্যান্ড। স্পিনারদের চমৎকার বোলিং ও উজ্জীবিত ফিল্ডিংয়ে দারুণ জয় পেল ক্যারিবিয়ানরা।
বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৩০ রানে।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বুধবার ১৯৬ রানের পুঁজি গড়ে ইংলিশদের ১৬৬ রানে থামিয়ে দিয়েছে শেই হোপের দল।
পাঁচ নম্বরে নেমে সাত ছক্কা ও দুই চারে ৪২ বলে অপরাজিত ৭৬ রানের ইনিংস খেলেন রাদারফোর্ড। ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান তিনিই।
সাত নম্বরে নেমে চার ছক্কা ও এক চারে ১৭ বলে ৩৩ রান করেন সাবেক অধিনায়ক হোল্ডার। ষষ্ঠ উইকেটে এই দুজনের জুটিতে ৬১ রান আসে ৩২ বলে।
এই মাঠে ২০১৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে রান তাড়ায় ক্রিস গেইলের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরে ফাইনালে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে শেষ ওভারে কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের টানা চার ছক্কায় ইংল্যান্ডকে হারিয়েই ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল তারা।
তারপর থেকে বিশ্বকাপে এই দুই দলের দুইবারের দেখায় (২০২১ ও ২০২৪) দুটিই জিতেছিল ইংল্যান্ড। অবশেষে আবার জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এই সংস্করণে ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর এই প্রথম ইংলিশদের হারাতে পারল ক্যারিবিয়ানরা।
আসরে প্রথম দুই ম্যাচের দুটিই জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নেপালের বিপক্ষে কোনোমতে জয়ে শুরুর পর এবার হেরেই গেল ইংল্যান্ড।
লক্ষ্য তাড়ায় অষ্টম ওভারে একপর্যায়ে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৮৫ রান। সেখান থেকে পথ হারিয়ে ফেলে তারা।
উল্টো চিত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজের। প্রথম ১০ ওভারে তাদের রান ছিল ৪ উইকেটে ৭৯, ১৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩০। শেষ পাঁচ ওভারে তারা তোলে ৬৬ রান।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারে অধিনায়ক হোপকে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরের ওভারে বিদায় নেন আরেক ওপেনার ব্র্যান্ডন কিংও। ৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে তখন চাপে তারা।
পাল্টা আক্রমণে সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন শিমরন হেটমায়ার ও রোস্টন চেইস। দুটি করে চার ও ছক্কায় ১২ বলে ২৩ রান করে ফেরেন হেটমায়ার। ছয় চারে ২৯ বলে ৩৪ রান করেন চেইস। তাকে ফিরিয়ে স্বীকৃত ২০ ওভারের ক্রিকেটে ৪০০ উইকেট পূর্ণ করেন লেগ স্পিনার আদিল রাশিদ।
রাদারফোর্ডের রান ছিল একপর্যায়ে ১১ বলে ১২। এরপর উইল জ্যাকসকে পরপর দুই ছক্কায় ডানা মেলে দেন তিনি। পরের ওভারে আরেকটি ছক্কার চেষ্টায় তিনি আউট হতে পারতেন, কিন্তু কঠিন ক্যাচটা নিতে পারেননি রাশিদ।
ভালো করতে পারেননি রভম্যান পাওয়েল (১৩ বলে ১৪)। শেষ পাঁচ ওভারে চলে রাদারফোর্ড ও হোল্ডারের তাণ্ডব। পরপর চার ও ছক্কায় রাফারফোর্ড ফিফটি করেন ২৯ বলে। স্যাম কারানকে একই ওভারে তিনটি ছক্কা মারেন হোল্ডার। শেষ ওভারে আরেকটি ছক্কা মেরে আউট হয়ে যান তিনি। শেষ বলে ছক্কায় দলকে ১৯৬ পর্যন্ত নিয়ে যান রাদারফোর্ড।
রান তাড়ায় প্রথম বলে চার মেরে শুরু করেন ফিল সল্ট। পরের ওভারে হোল্ডারকে দুটি ছক্কা ও তিনটি চার মারেন তিনি।
চতুর্থ ওভারে সল্টের (১৪ বলে ৩০) ঝড় থামান রোমারিও শেফার্ড। তিন নম্বরে নেমে আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন জ্যাকব বেথেলও। পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড তোলে ৬৭ রান।
কিন্তু পরের চার ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। জস বাটলারকে (১৪ বলে ২১) ফেরান রোস্টন চেইস। নিজের পরপর দুই ওভারে টম ব্যান্টন ও বেথেলকে (২৩ বলে ৩৩) বিদায় করেন বাঁহাতি স্পিনার গুডাকেশ মোটি।
হ্যারি ব্রুক ভালো শুরু পেয়েও ইনিংস টেনে নিতে পারেননি (১৪ বলে ১৭)। তাকে ফিরিয়ে তৃতীয় শিকার ধরেন মোটি। টিকতে পারেননি জ্যাকস ও জেমি ওভারটন।
এরপর রান আউট হয় দুটি। কারানের ব্যাটে পরাজয়ের ব্যবধানই শুধু কমাতে পারে ইংল্যান্ড। তিন চার ও দুই ছক্কায় ৩০ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
দুটি রান আউট বাদে ৮ উইকেটের ৭টিই নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা মিলে। ৩৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সফলতম বোলার মোটি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৯৬/৬ (কিং ১, হোপ ০, হেটমায়ার ২৩, চেইস ৩৪, রাদারফোর্ড ৭৬*, পাওয়েল ১৪, হোল্ডার ৩৩, শেফার্ড ১*; আর্চার ৪-০-৪৮-১, কারান ৩-০-৩৬-১, জ্যাকস ২-০-৩২-০, ওভারটন ৪-০-৩৩-২, রাশিদ ৪-০-১৬-২, ডসন ৩-০-২৭-০)
ইংল্যান্ড: ১৯ ওভারে ১৬৬ (সল্ট ৩০, বাটলার ২১, বেথেল ৩৩, ব্যান্টন ২, ব্রুক ১৭, কারান ৪৩*, ওভারটন ৫, আর্চার ৬, ডসন ১, রাশিদ ০; আকিল ৪-০-৩২-১, হোল্ডার ২-০-৩৪-০, শেফার্ড ১-০-৭-১, শামার ৪-০-৩০-১, মোটি ৪-০-৩৩-৩)
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩০ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: শেরফেন রাদারফোর্ড





