আট মাসে এডিপির ৩২ শতাংশ বাস্তবায়ন

adp

ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক অস্থিরতা সামাল দিতে সরকারের ব্যয় সাশ্রয়ী নীতির প্রভাব পড়েছে প্রকল্পের অগ্রগতিতে; যে কারণে চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৩২ শতাংশ।

বুধবার প্রকাশিত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ৮২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা মূল এডিপির ৩২ দশমিক ১০ শতাংশ।

সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এসব প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হয়েছে ৩০ দশমিক ২২ শতাংশ এবং প্রকল্প সহায়তার খাত থেকে ব্যয় হয়েছে ৩৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ অর্থ।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়ন হয়েছিল ৩৫ দশমিক ৮০ শতাংশ; টাকার অংকে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৮৪ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা।

বাস্তবায়ন অনেক কম হওয়ার বিষয়ে আইএমইডি এর সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন বলেন, “চলমান রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের কারণে সারাবিশ্বে চলমান বৈশ্বিক মন্দায় সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভর প্রকল্পকে কম অগ্রাধিকার এই সতর্কতার অংশ।”

মূলত এ সতর্ক অবস্থার কারণেই বাস্তবায়ন হার পিছিয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, এছাড়া অগ্রাধিকারভিত্তিতে সরকার এ, বি ও সি ক্যাটাগরির যে তালিকা করেছে সেই তালিকার অগ্রাধিকার অনুযায়ী অর্থ ছাড় করা হচ্ছে। এ নীতির আওতায় এ ক্যাটাগরির প্রকল্পের জন্য শতভাগ, বি ক্যাটাগরির জন্য ৭৫ ভাগ এবং সি ক্যাটাগরির প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য সরকার ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকার এডিপি অনুমোদন দেয়। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্প সহায়তার খাত থেকে ১৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা কমিয়ে তা ২ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় সংশোধন করা হয়।

বর্তমানে এডিপিতে মোট এক হাজার ৬৭১টি প্রকল্প রয়েছে। এরমধ্যে ৬৪৬টি প্রকল্প ‘এ’ ক্যাটাগরিতে, ৬৩৬টি প্রকল্প ‘বি’ ক্যাটাগরিতে এবং ৮১টি প্রকল্প ‘সি’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে।
আইএমইডির প্রতিবেদনে দেখা যায়, অর্থবছরের আট মাসে বেশি বরাদ্দ পাওয়া ১৫ মন্ত্রণালয়ের গড় বাস্তবায়ন দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ০৩ শতাংশ।

এরমধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রায় ৪৮ শতাংশ ব্যয় করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেতু মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করেছে ৪৭ শতাংশ এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রায় ৩৯ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

এরপর বাস্তবায়নের দিক দিয়ে শীর্ষ দশে রয়েছে যথাক্রমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (থোক বরাদ্দসহ) ৩৮ শতাংশ, স্থানীয় সরকার বিভাগ ৩৭ শতাংশ, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ প্রায় ৩৬ শতাংশ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রায় ৩৫ শতাংশ, রেলপথ মন্ত্রণালয় প্রায় ৩৫ শতাংশ, কৃষি মন্ত্রণালয় প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ।

Pin It