বিয়ে টিকিয়ে রাখতে যে বিষয়গুলো করা উচিত না

couple-hand-160426-01-1776341787

বিচ্ছেদ কখনই কাম্য নয়। তাই দাম্পত্য জীবন সরল রাখতে কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখার প্রয়োজন আছে।

ভালোবাসা দিয়ে শুরু হওয়া সম্পর্ক কখন, কীভাবে ভেঙে যায় তা অনেক সময়ই বুঝতে পারা যায় না।

বিয়ের শুরুতে কেউই বিচ্ছেদের কথা ভাবেন না। তবে সম্পর্ক ভাঙা একদিনের সিদ্ধান্ত নয়। এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভিমান, ভুল বোঝাবুঝি আর অমীমাংসিত সমস্যার ফলাফল।

হিসাব করে সম্পর্ক টেকে না

দাম্পত্য জীবনে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হল- কে কতটা করল তার হিসাব রাখা।

অনেকেই মনে মনে ধরে রাখেন— ‘আমি এত কিছু করলাম, সে কী করল?’

এই নীরব হিসাবই ধীরে ধীরে ক্ষোভ তৈরি করে। বছরের পর বছর জমে থাকা এই ক্ষোভ একসময় সম্পর্কের ভিত নড়িয়ে দেয়।

এই বিষয়ে রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে, ২৭ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মার্কিন আইনজীবী মার্ডি চ্যাডউইক-বালকম বলেন, “তাই দাম্পত্য জীবনে সবকিছু সমানভাবে ভাগ করার চেষ্টা করলেও সব-সময় সেটা সম্ভব হয় না। তাই খোলামেলা কথা বলতে হবে। কে কী করছে, কে কোথায় চাপ অনুভব করছে— এসব নিয়ে আলোচনা করা জরুরি। এই বোঝাপড়াই সম্পর্ককে ভারসাম্যে রাখে।”

তর্কে জেতা নয়, সমাধান খোঁজা জরুরি

দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ হবেই। তবে সেই তর্ক কীভাবে সামলানো হচ্ছে, সেটাই মূল বিষয়।

অনেকেই তর্কে জেতার চেষ্টা করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে।

যুক্তরাষ্ট্রের পারিবারিক পরামর্শদাতা এবং শিক্ষিকা কিম্বারলি মিলার একই প্রতিবেদনে বলেন, “তর্ককে সমস্যা সমাধানের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত।”

তিনি পরামর্শ দেন, “যখন কথোপকথন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তখন একটু থেমে গিয়ে এমন ভাষা ব্যবহার করা দরকার যা দুজনকেই সমাধানের দিকে নিয়ে যায়।”

যেমন- ‘চল এমন একটা উপায় বের করি, যা দুজনের জন্যই ভালো।’

এই ছোট পরিবর্তনই বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

আবেগ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে সমস্যা বাড়ে

রাগ, হতাশা বা চাপের মুহূর্তে অনেকেই এমন কথা বলে ফেলেন, যা পরে সম্পর্কের ক্ষতি করে। নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা দাম্পত্য জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা।

মিলার বলেন, “পেশাদারী অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি- অতিরিক্ত উত্তেজিত বা ক্ষুব্ধ হলে তখন সঠিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। ফলে ছোট বিষয়ও বড় সমস্যায় পরিণত হয়।”

তাই এমন মুহূর্তে বিরতি নেওয়া, নিজেকে শান্ত করা এসবই সম্পর্ককে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

সন্তানদের দূরে রাখা দরকার

দাম্পত্য সমস্যার মধ্যে সন্তানদের টেনে আনা বড় ভুল। অনেক সময় বাবা-মায়ের ঝগড়ার মধ্যে সন্তানরা জড়িয়ে পড়ে, যা তাদের মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

মিলারের ভাষায়, “সন্তানদের সামনে তর্ক না করা এবং ব্যক্তিগত সমস্যা ব্যক্তিগতভাবে সমাধান করা জরুরি। এতে পরিবারে সুস্থ পরিবেশ বজায় থাকে।”

একই সঙ্গে তিনি মনে করেন- সন্তানদের সামনে যদি ছোটখাটো মতবিরোধ সম্মানজনকভাবে সমাধান করা যায়, তাহলে তারা ভবিষ্যতে সম্পর্ক সামলানোর ভালো শিক্ষা পায়।

অর্থনৈতিক গোপনীয়তায় সম্পর্ক নষ্ট

অর্থ নিয়ে স্বচ্ছতার অভাবও দাম্পত্য জীবনে বড় সমস্যা তৈরি করে। অনেক সময় একজন সবকিছু জানেন, আরেকজন কিছুই জানেন না এতে অবিশ্বাস তৈরি হয়।

তাই অর্থ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত কথা বলা জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিয়ের আইন-বিষয়ক আইনজীবী ও পারিবারিক আইন-বিষয়ে অভিজ্ঞ সারাহ জ্যাকবস মন্তব্য করেন, “কে কত আয় করছে, কোথায় খরচ হচ্ছে, কত সঞ্চয় আছে— এসব বিষয় পরিষ্কার না থাকলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। অনেক সময় সেটা বড় আর্থিক সমস্যার দিকে নিয়ে যায়। অনেকের বিচ্ছেদের পেছনে এই স্বচ্ছতার অভাবই মূল কারণ হিসেবে কাজ করে।”

ছোট সমস্যাকে ছোট করে ফেলা রাখা

অনেক সম্পর্ক ভাঙে বড় কোনো কারণে নয়, বরং ছোট ছোট সমস্যা জমে বড় হয়ে যাওয়ার কারণে।

মিলার বলেন, “একটি বিষয় যদি শুরুতেই সমাধান করা যায়, তাহলে হয়তো সেটা বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে না।”

তাই কোনো কিছু খারাপ লাগলে তা চেপে না রেখে সময়মতো বলা উচিত। তবে সেটা যেন শান্তভাবে, সম্মান রেখে বলা হয়- এটাই গুরুত্বপূর্ণ।

Pin It