ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে

Fakhrul-Khulna-01

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করে আওয়ামী লীগ যে অন্যায় করেছে তা দেশের জনগণ কোনো দিন মেনে নেবে না। এ জন্য জনগণের কাছে আওয়ামী লীগকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

তিনি বলেন, এই সরকার মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেছে। সব মিলিয়ে দেশে আজ ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সরকারের পদত্যাগ ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে খুলনা বিভাগের ১০ জেলা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেন। শহীদ হাদিস পার্কে স্থান না হওয়ায় নেতাকর্মীরা আশপাশের সড়কে দাড়িয়ে নেতাদের বক্তব্য শোনেন। তবে হাদিস পার্কে মঞ্চের কাছাকাছি যাওয়া নিয়ে ২ দফায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিএনপি মহাসচিব তাদেরকে শান্ত করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এমন দেশে বাস করছি, যেখানে মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। দিনে দুপুরে আদালতের মধ্যেই কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে, গণপিটুনির নামে মানুষ মারা হচ্ছে। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আর এসবই হচ্ছে সরকারের মদদে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার দেশবিরোধী বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রিয়া সাহার বক্তব্যে দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ক্ষুব্ধ হয়েছে। কিন্তু তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সেই সুযোগে তিনি ভিডিও বার্তায় বলেছেন, তার বক্তব্যই নাকি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য। দেশবাসী জানতে চায়, আসলেই এটা প্রিয়া সাহার বক্তব্য না প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য। দেশকে অকার্যকর করতে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত চলছে।’

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির চেয়ে এখন বেশি জরুরি সরকারের পতন ঘটানো। সরকারের পতন ঘটলে খালেদা জিয়া এমনিতেই মুক্তি পাবেন।

তিনি বলেন, এই সরকার দেশের নারীদের সম্মান রক্ষা করতে পারছে না। দেশে ধর্ষণ মহামারি আকার ধারণ করেছে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই সরকার মামলাবাজ সরকার। সরকার বিএনপির কয়েক লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার মশা মারতে পারে না, পারে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারতে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি বারবার দেশের গণতন্ত্র ‘জবাই’ করেছে, আর বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে।

সমাবেশে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মসিউর রহমান, কবির মুরাদ, যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও জয়ন্ত কুমার কুন্ডু প্রমুখ।

সমাবেশ পরিচালনা করেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি ও জেলার সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান।

Pin It