কোম্পানীগঞ্জে দুপক্ষের গোলা গুলিতে নিহত ১, ওসিসহ আহত শতাধিক

image-228159-1615307799

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট বাজারে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় আলাউদ্দিন (৩২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে।

এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন অন্তত শতাধিক ব্যক্তি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ওসিসহ আহত হয়েছেন ৬ পুলিশ সদস্য।

মঙ্গলবার  রাত ১০টা ৪৫মিনিটের সময় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলাউদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। তাকে নিজের কর্মী বলে দাবি করেছেন মিজানুর রহমান বাদল।

নিহত আলা উদ্দিন উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের চরকালী গ্রামের মমিনুল হকের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের আরএমও ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল আজিম।

গুলিবিদ্ধ আহতরা হচ্ছেন – মো. রাজিব, মাঈন উদ্দিন, শাহ আলম, আলা উদ্দিন, জাকির হোসেন হৃদয়, দেলোয়ার হোসেন, সোহেল, শাহাদাত হোসেন, আরাফাত হোসেন, বেলাল হোসেন সেলিম।

অপর আহতরা হচ্ছেন – সাহাব উদ্দিন, জনি, সেলিম, ওয়াহিদ কামাল, রিপন, রফিক চৌধুরী, পিনন চৌধুরী , দিপু, সুমন, আরিয়ান শিপন, শরীফ উল্যাহ টিপু, মানিক, শরীফ, আল মাহাদি, রাজিব হোসেন রাজু, নবায়ণ হোসেন, আদনান শাহ, সালা উদ্দিনসহ শতাধিক।

আহত পুলিশ সদস্যরা হচ্ছেন – ওসি মীর জাহিদুল হক রনি, এসআই জাকির হোসেন, নিজাম উদ্দিন, কনেস্টবল খোরশেদ আলম, আলা উদ্দিন ও আবুল কালাম।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের ওপর মেয়র আবদুল কাদের মির্জার লোকজনের হামলা ও মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার  বিকেল ৪টায় রূপালী চত্বরে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে আ.লীগের একাংশ (মিজানুর রহমান বাদল গ্রুপ)।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে থানার পশ্চিম পাশের সড়ক (মাকসুদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়) দিয়ে সভায় হামলার চেষ্টা চালায় কাদের মির্জার সমর্থকরা। এ সময় উভয়পক্ষের সমর্থকরা মুখোমুখি হলে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে এ সংঘর্ষ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৮টার দিকে মেয়র মির্জার সমর্থকরা বসুরহাট বাজারে একটি মিছিল বের করলে বাদলের সমর্থকদের সাথে পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

সংঘর্ষকারীরা বসুরহাট পৌরসভা প্রাঙ্গণে অবস্থান নিলে সেখানে কাদের মির্জা ও বাদল গ্রুপের মধ্যে শুরু হয় গোলাগুলি। এতে অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়।

এসময় সংঘর্ষকারীরা মুহুর্মুহু ককটেলের বিষ্ফোরণ ঘটায়। ভাঙচুর করা হয়েছে দোকানপাট ও অটোরিকশা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে কোম্পানীগঞ্জের লোহারপুল এলাকায় গাছের গুড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে কাদের মির্জা সমর্থিত আ’লীগ কর্মীরা।

ওসি মীর জাহেদুল হক রনি জানান, প্রথমবার হামলার পর পুলিশ তাদের ধাওয়া দিলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশসহ অনেকে আহত হয়। পরে রাতের দিকে পৌর ভবন এলাকায় আবারো সংঘর্ষে উভয় পক্ষ গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়। পুলিশ র‌্যাব তাদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার কোম্পানীগঞ্জের চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর ছোট ভাই বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল ও শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষের মুখে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক মুজাক্কিরসহ ৭-৮জন।

পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত ১০টা ৪৫মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান মুজাক্কির।

Pin It