খাদের কিনারা থেকে যেভাবে চূড়ায় বায়ার্ন

bayern-240820-05

গত নভেম্বরে হান্স ফ্লিক বায়ার্ন মিউনিখের দায়িত্ব নেওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিল, জার্মান চ্যাম্পিয়নদের আর কেউ ভয় পাবে না। সেই দলই কী-না ৯ মাসের পথচলায় অবিশ্বাস্য সাফল্যে নিজেদের মেলে ধরল। গড়ল ক্লাবের ইতিহাসে দ্বিতীয় ট্রেবল জয়ের কীর্তি। যাদুমন্ত্রের মতো যিনি দলটিকে বদলে দিয়েছেন সেই ফ্লিক বললেন, দারুণ টিমওয়ার্ক আর জয়ের তীব্র ক্ষুধাই এই সাফল্যের চাবিকাঠি।

আগেই বুন্ডেসলিগা ও জার্মান কাপ জেতা বায়ার্ন লিসবনে রোববার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পিএসজিকে হারায় ১-০ গোলে। ইউরোপিয়ান শীর্ষ প্রতিযোগিতায় ক্লাবটির ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের পথে ব্যবধান গড়ে দেন কিংসলে কোমান।

এর আগে ২০১৩ সালে ইয়ুপ হেইঙ্কেসের কোচিংয়ে ট্রেবল জিতেছিল বায়ার্ন। সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তির পর দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর সময়ের কথা মনে পড়ল ফ্লিকের। সংবাদ সম্মেলনে জার্মান এই কোচ যেন ফিরে গেলেন সেই দিনগুলোতে।

“এই দল নিয়ে আমি গর্বিত। নভেম্বরে যখন শুরু করেছিলাম, শিরোনামগুলো আমি পড়েছিলাম: ‘বায়ার্ন মিউনিখকে আর ভয় পাওয়া বা সমীহ করার দরকার নেই।’, ‘দলটা বড়ই সাদামাটা’।”

“সেই সময় থেকে আমার দলের উন্নতির গ্রাফটা দারুণ। আমরা সবকিছুর সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছি। তিনটি শিরোপা জেতা সহজ নয়। কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে।”

নভেম্বরে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে ৫-১ গোলে হেরে বুন্ডেসলিগার পয়েন্ট তালিকার সেরা তিন থেকে ছিটকে যায় বায়ার্ন। এরপরই নিকো কোভাচকে সারিয়ে ফ্লিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

জার্মানির জাতীয় দলের সাবেক এই সহকারী কোচের দেখানো পথে কোণঠাসা অবস্থা থেকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বায়ার্ন। ২০২০ সালে কোনো ম্যাচে হারেনি দলটি। সব প্রতিযোগিতা মিলে জিতেছে টানা ২১ ম্যাচ। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে তৈরি হওয়া দুই মাসের অনাকাঙ্ক্ষিত বিরতির পরও ছন্দপতন হয়নি তাদের পারফরম্যান্সের; টানা ৩০ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে দলটি।

“দলটি সাফল্য পেতে মরিয়া এবং আমাদের খেলোয়াড়দের জয়ের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন।”

“একমাত্র অপূর্ণতা স্টেডিয়ামে সমর্থকদের অনুপস্থিতি। হয়তো ভবিষ্যতে আমরা সমর্থকদের সামনেই খেলব।”

মহামারীর কারণে এবার সংক্ষিপ্ত সময়ে টুর্নামেন্ট শেষ করার উদ্দেশে লিসবনে অনুষ্ঠিত হয় শেষ আট দল নিয়ে এক লেগের ‘মিনি টুর্নামেন্ট।’

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে সব ম্যাচ জিতে শিরোপা ঘরে তুলেছে বায়ার্ন। এর মধ্যে আছে কোয়ার্টার-ফাইনালে বার্সেলোনাকে ৮-২ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার কীর্তিও। প্রতিযোগিতাটির নক-আউট পর্বে এটাই সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড।

Pin It