বাংলাদেশের সামনে ‘রান-পাহাড়’ অজিদের

Warner-samakal-5d0b8ccc33cef

ম্যাচের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে দেওয়ার মোমেন্টাম পেয়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু ডেভিড ওয়ার্নারের ক্যাচ ফেলে দিয়ে সাব্বির রহমান সুযোগটা হাতছাড়া করেন। বাংলাদেশ দলকে আর ম্যাচে ফেরার সুযোগই দেয়নি অজিরা। বল টেম্পারিংয়ের জন্য দুয়ো শোনা ওয়ার্নার ‘স্টান্ডিং অভেয়েশন’ পাওয়ার মতো এক সেঞ্চুরি করেছেন। উসমান খাজা দারুণ ব্যাটিং করেছেন। অ্যারন ফিঞ্চ শুরুতে পথ তৈরি করে দিয়ে গেছেন। অস্ট্রেলিয়া নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ৩৮১ রান।

নিজেদের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ রান দেওয়ার রেকর্ড। এর আগে ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই নটিংহামে ৩৯১ রান তোলে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ খায় ৩৮৬ রান। পাকিস্তানের বিপক্ষে ডাম্বুলায় ২০১০ সালে ৩৮৫ রান দেয় বাংলাদেশ। এবার দিল ৩৮১ রান। এর আগে ভারতের বিপক্ষে ২০১১ বিশ্বকাপে ৩৭০ রান খান সাকিবরা।

ঝলমলে রোদ দিয়ে শুরু হয় ট্রেন্ট ব্রিজের সকাল। টস জিতে তাই ব্যাটিং নেয় অস্ট্রেলিয়া। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের দুই ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ এবং ডেভিড ওয়ার্নার শুরুতে ১২১ জুটি গড়েন। বোলিংয়ে এসে ফিঞ্চকে ৫৩ রানে বিদায় করে সেই জুটি ভাঙেন সৌম্য সরকার। এরপর উসমান খাজা এবং ওয়ার্নার আবার জুটি গড়েন। তাদের জুটি থেকে আসে ১৯২ রান।

বাংলাদেশ বোলারদের কচুকাটা করে ডেভিড ওয়ার্নার ১৬৬ রান করেন। সৌম্যর বলে ক্যাচ দেওয়ার আগে চৌদ্দটি চার এবং পাঁচটি ছক্কা তোলেন তিনি। পরে সেঞ্চুরির পথে থাকা উসমান খাজাও সৌম্য বলে ৮৯ রান করে আউট হন। একই ওভারে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ফেরেন ১০ বলে ৩২ রানের এক ঝড় দেখিয়ে।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে শুরুর চার ব্যাটসম্যানই ভালো খেলেন। অজিরা এ ম্যাচে সাকিবকে যাতে কম খেলতে হয় সেই বুদ্ধি করে ব্যাটিং অর্ডার সাজায়। ফিঞ্চ আউট হওয়ার পরে ডান হাতি-বাঁ হাতি কম্বিশনে না গিয়ে স্মিথের বদলে উসমান খাজাকে ব্যাটে পাঠায় তারা। বাঁ-হাতি আর্ম বোলার সাকিব তাই দুই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে সুবিধা করতে পারেননি। মিরাজকে এক প্রান্ত দিয়ে বোলিং করানো হলেও সুবিধা করতে পারেননি তিনিও। মিরাজ এ ম্যাচে ১০ ওভারে দেন ৫৯ রান। সাকিবের ৬ ওভার থেকে ৫০ রান আসে।

ওদিকে পেস বোলাররাও ছিলেন ছন্নছাড়া। সৌম্য সরকারকে তাই আট ওভার বোলিং করতে হয়েছে। দলের হয়ে তিন উইকেট নেন তিনি ৫৮ রান খরচায়। সেই তুলনায় মুস্তাফিজ-রুবেলরা বেশ খরুচে। সাইফউদ্দিনের বদলে দলে আসা রুবেল হোসেন এ ম্যাচে ৯ ওভারে ৮৩ রান খরচা করেন। কোন উইকেট পাননি তিনি। মুস্তাফিজ দেন ৯ ওভারে ৬৯ রান। নেন একটি উইকেট। এছাড়া অধিনায়ক মাশরাফি ৮ ওভারে ৫৬ রান খরচা করেন।

Pin It