বিএনপি সংসদে যোগ দিলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে: তথ্যমন্ত্রী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে বিজয়ীরা জাতীয় সংসদে যোগ দিলে ‘গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে’ বলে মনে করছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

hassan-5cb9b7f469e14

শুক্রবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘রূপসী বাংলা জাতীয় আলোকচিত্র প্রদর্শনী, প্রতিযোগিতা এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠান’-এ যোগদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি সংসদে যোগ দিলে তা হবে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি তারা সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।’

তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা) যদি সংসদে যোগ দেয় দেশের জনগণ তাদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবে। আমরাও তাদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবো।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রশ্নে তিনি বলেন, আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি (জিয়া খালেদা জিয়া) এখন কারাগারে। তিনি যদি জামিন প্রার্থনা করেন আদালতই একমাত্র তাকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে। অন্যদিকে তিনি যদি প্যারোলে মুক্তি চান তাহলে তার আবেদনটি সরকার বিবেচনা করবে। এছাড়া তার মুক্তির অন্য কোনো পথ নেই।

বাংলাদেশে গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভোগ করছে দাবি করে তথ্যমন্ত্রী ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স’-এর এ সম্পর্কিত প্রতিবেদন নাকচ করেন। তিনি বলেন, ‘সরকার মিডিয়ায় কোনো ধরনের সেন্সরশিপ আরোপ করছে না।’

‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স’-এর বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে এ বছর বাংলাদেশের চার ধাপ অবনমন হয়েছে। গত বছর এ সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪৬তম হলেও এবার ১৫০তম অবস্থানে নেমে এসেছে।

এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ওই প্রতিবেদনের সাথে একমত না এবং আমি মনে করি, বাংলাদেশে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে।’

ড. হাছান বলেন, ‘আমি জানি শীর্ষ ১০টি দেশে সংবাদ প্রকাশে অনেক বিধিনিষেধ রয়েছে। এমনকি তাদেরকে (গণমাধ্যম) যেকোনো ভুল সংবাদের জন্য জরিমানা দিতে হয়। আমি জানি না তারা কীভাবে জরিপ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং গত ১০ বছরে গণমাধ্যম শিল্পে একটি বিপ্লব ঘটেছে। সংবাদপত্রের সংখ্যা সাতশ’ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার দুইশ’ হয়েছে এবং ৩৩টি ইলেকট্রনিক মিডিয়া সম্প্রচার চালাচ্ছে। সরকার গণমাধ্যমের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ফটোসাংবাদিকতা পেশায় নতুনদের উৎসাহিত করার জন্য প্রতি বছর এ ধরনের প্রদর্শনী আয়োজনের জন্য ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি আহ্বান জানান।

শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

এছাড়া শিল্পকলা একাডেমির সম্পাদক কাজী আসাদুজ্জামান, বিপিজেএর সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক কাজল হাজরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

পরে মন্ত্রী তিনজন প্রবীণ ফটো সাংবাদিকের (মরণোত্তর) পরিবারের সদস্যদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন। এই তিন সাংবাদিক হলেন— এস এম মোজ্জাম্মেল হোসেন, মোশাররফ হোসেন লাল ও জহিরুল হক।

Pin It