বিভাগীয় শহরে ক্যান্সার হাসপাতালসহ ৮ প্রকল্প অনুমোদন

PM_ECNEC-Meeting-620190917140405

বিভাগীয় শহরে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনসহ আটটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৮ হাজার ৯৬৮ কোটি ৮ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, একনেক সভায় মোট আটটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ‘বিভাগীয় শহরে ক্যান্সার হাসপাতাল স্থাপন’। এটি একটি ভালো প্রকল্প। খাবারসহ নানা কারণে ক্যান্সার রোগ বাড়ছে। তাই, এর চিকিৎসা সেবা বৃদ্ধি জরুরি।

জানা যায়, বিভাগীয় মেডিক্যাল কলেজে দুইতলা বেইজমেন্ট ও ১৫তলা ফাউন্ডেশনসহ মোট ১৭তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসার সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, রংপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটে এমজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থাপন করা হবে। ক্যান্সার নির্ণয় ও এর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে। ক্যান্সার চিকিৎসায় বৈদেশিক নির্ভরতা কমিয়ে আনা হবে।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো ময়মনসিংহ (রঘুরামপুর)-ফুলপুর-নকলা-শেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন, রাজশাহী-নওহাটা-চৌমাসিয়া সড়কের বিন্দুর মোড় থেকে বিমানবন্দর হয়ে নওহাটা ব্রিজ পর্যন্ত পেভমেন্ট চারলেনে উন্নীতকরণ, রাজশাহী মহানগরীর উপশহর মোড় থেকে সোনাদিঘী মোড় এবং মালোপাড়া মোড় থেকে সাগরপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন, জুনোসিস ও আন্তঃসীমান্তীয় প্রাণিরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ গবেষণা, স্ট্রেনথিং মনিটরিং অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশন ক্যাপাবিলিটিজ অব আইএমইডি (এসএমইসিআই), ভারতের ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রহনপুর থেকে মনাকষা সীমান্ত পর্যন্ত ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ।

এছাড়া, ৪ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আশ্রয়ন-২ শীর্ষক’ প্রকল্প সংশোধিত আকারে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভায় আরও অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীরা।

মান বজায় রেখে সড়কের কাজ করতে হবে

============================

গুণগত মান বজায় রেখে সড়কের কাজ করতে হবে। শহরের রাস্তা প্রশস্ত করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, বেশি বাড়িঘর বা দোকানপাট যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। প্রয়োজনে সড়কের শ্রেণিবিন্যাস (অ্যালাইনমেন্ট) পরিবর্তন করা যেতে পারে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সড়ক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তাঘাট নির্মাণে মান বজায় রাখতে হবে, যেন সবাই আরামে চলাফেরা করতে পারেন। কোনো প্রকল্পে ত্রুটি বা সংশোধনের বিষয় থাকলে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নজরে আনবেন।

৪ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আশ্রয়ন-২ শীর্ষক’ প্রকল্প সংশোধিত আকারে অনুমোদন দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন সেখানে পুকুর বা জলাধার থাকে। প্রকল্প এলাকায় সুপেয় পানি, গাছপালা ও খেলার মাঠ থাকতে হবে।

কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এই বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক রুটের কৌশলগত স্থানে রয়েছে। এখানে প্লেনের রিফুয়েলিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এটিকে আন্তর্জাতিক মানসম্মত বিমানবন্দর করা যেতে পারে।

দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৪.৪৮ শতাংশ

২০১৯-২০ অর্থবছরের আগস্ট মাস শেষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। টাকার অংকে এর পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার ৬২৬ কোটি। গত অর্থবছরে এ হার ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ, টাকার অংকে যা ৬ হাজার ৩১৮ কোটি।

তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার বেড়েছে। আশা করছি, বছর শেষে শতভাগ এডিপি বাস্তবায়ন করবো। চলতি অর্থবছরে মাসওয়ারী এডিপি বাস্তবায়নের হার বেড়েছে ০ দশমিক ৯৯ শতাংশ, টাকার অংকে বেড়েছে ৩ হাজার ৩০৮ কোটি।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তৈরি হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে, সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা ও বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন এডিপিতে মোট প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৫৬৪টি। এর মধ্যে কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১১৬টি, জেডিসিএফ প্রকল্প একটি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব প্রকল্প ৮৯টি, বিনিয়োগ প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৩৫৮টি। অন্যদিকে, অসমাপ্ত প্রকল্প সমাপ্তকরণে নির্ধারিত প্রকল্প ধরা হয়েছে ৩৫৫টি, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) প্রকল্প ৬২টি। বৈদেশিক সাহায্যপ্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প ২৪২টি ও নিজম্ব অর্থায়নে বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৪৫টি। বরাদ্দসহ অনুমোদিত নতুন প্রকল্প ৪১টি।

Pin It