বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে দেশ ও জাতির আশা-আকাঙ্খার কেন্দ্রস্থল: রাষ্ট্রপতি

image-116023-1577020444

বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে দেশ ও জাতির আশা-আকাঙ্খার কেন্দ্রস্থল। জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি মূল্যবোধ লালন, নীতি-নৈতিকতা, দেশপ্রেম উৎসারিত করার শ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে যুক্তি ও সত্যের অনুসন্ধান, নতুন নতুন জ্ঞান সৃজন এবং মানব কল্যাণে তার ব্যবহার। প্রযুক্তির উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানুষের সমস্যা নিরসনসহ দেশ ও জাতি নির্বিশেষে মানবজাতির ভবিষ্যৎ পথের নির্দেশনা দেওয়া। রবিবার দুপুরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে এ কথা বলেন রাষ্ট্রপতি ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন জাতিকে যেমন অনুপ্রাণিত করে, জাতীয় জীবনে উদ্যম ও গতিশীলতা সৃষ্টি করে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপ্রত্যাশিত সংবাদ ও ঘটনা জাতির মননে এবং সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রেখে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের নবতর শাখার বিকাশ ঘটিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে।

আবদুল হামিদ বলেন, আদর্শ শিক্ষক-গবেষক জাতির মূল্যবান সম্পদ, অনুসরণীয় আদর্শ। শিক্ষক-গবেষকদের জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রজ্ঞা ভবিষ্যৎ জাতি গঠনের অন্যতম নিয়ামক শক্তি। তাই শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও জ্ঞানের প্রতি গভীর অনুরাগী শিক্ষকমণ্ডলী, যারা নিজেরা নিরন্তর সর্বশেষ জ্ঞান চর্চায় রত থেকে সেই জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করবেন। শিক্ষক যখন তার মহান আদর্শ থেকে দূরে চলে যান, তখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে জ্ঞান অর্জন ও বিতরণে শিক্ষকরা নিবেদিত থাকবেন জাতি তা প্রত্যাশা করে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্পেনের সিগমো ল্যাব ও যুক্তরাষ্ট্রের স্কপাস পরিচালিত জরিপে আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ের তালিকায় প্রবেশ করে এ বছর দেশের মধ্যে উদ্ভাবনীতে প্রথম ও গবেষণায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের রাইঙ্গামারী গ্রামকে ল্যাবরেটরি ভিলেজ করা হয়েছে। এ জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।

রাষ্ট্রপতি বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের মহান স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধু সবসময় রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রবৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে। মাথাপিছু আয় বাড়ছে, কমছে দারিদ্র্যের হার। কৃষির উন্নতিতে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। নারীর ক্ষমতায়ন, মহিলা ও শিশুর উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা আজ গ্র্যাজুয়েট, দেশের উচ্চতর মানবসম্পদ। তোমাদের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক। সে প্রত্যাশা পূরণে তোমাদের অর্জিত জ্ঞান, মেধা ও সৃজনশীলতাকে জাতির বৃহত্তর কল্যাণে নিয়োজিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের গর্বিত উত্তরসূরি তোমরা। তোমরা এ দেশকে এগিয়ে নেবে সুন্দর আগামীর পথে, সমৃদ্ধির পথে।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর কাজী শহীদুল্লাহ, সমাবর্তন বক্তা প্রফেসর ড. অনুপম সেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। স্বাগত বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ।

উল্লেখ্য, খুবির ৬ষ্ঠ সমাবর্তনে চার হাজার ৪৭৮ জনকে স্নাতক, দুই হাজার ৫৩০ জনকে স্নাতকোত্তর, পাঁচ জনকে এমফিল ও ৮ জনকে পিএইচডি এবং ১৭ জনকে পোস্ট-গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন অ্যাডুকেশন ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের (অনুষদ) পরীক্ষার ফলাফলে অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য ২৩ জন শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়।

Pin It