বয়স বাড়লে চুল কেন পাকে, জানালেন বিজ্ঞানীরা

চুল-পাকে-কেন

মেলানোসাইট নামে এক ধরণের স্টেম সেল চুলের রঙ ধরে রাখতে কাজ করে।

চুলের রঙ কেমন হয়? এমন প্রশ্নে বেশিরভাগ মানুষ চিন্তা না করেই উত্তর দেবেন- চুল তো কালোই হয়। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই কালো চুলেই ধূসরতা আসতে শুরু করে। আবার বংশগতভাবেও চুল ধূসর রঙের হতে পারে।

বিবিসি জানিয়েছে, যাদের চুল কালো, তাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুল পেকে ধূসর বা সাদা হয়ে যায় কেন, সেই কারণ উদঘাটনের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক।

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির (এনওয়াইইউ) ওই দলটি এ নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন ইঁদুরের ওপর। তারা বলছেন, যে কোষ চুলের রঙ তৈরি করে, তা পরিপক্ক হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেললে চুল ধূসর হতে শুরু করে।

তাদের এ গবেষণা আশা জাগাচ্ছে, হয়ত এতদিন চুল পাকা বন্ধের উপায় বিজ্ঞানীরা খুঁজে পাবেন। আবার কয়েক ধরনের ক্যান্সার নিরাময়ের পথও দেখাতে পারে এই গবেষণা।

যে কোনো সময় চুল কেটে ছোট করা হলে স্বাভাবিক চক্রের মতই তা আবার বড় হয়। আর মাথার ত্বকের ফলিকল থেকে নতুন চুল গজায়। ওই ফলিকলেই থাকে মেলানোসাইট নামে এক ধরণের স্টেম সেল, যা চুলের রঙ উৎপাদন করে।

তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে এই মেলানোসাইট ক্রমাগত কার্যক্ষমতা হারাতে থাকে। আবার নতুন কিছ স্টেম সেল থেকে এই মেলানোসাইট নতুন করেও হতে পারে।

এ অবস্থায় যদি কারও মেলানোসাইট কোষগুলোর বৃদ্ধি থমকে যায়, তাহলে চুলের রঙ হারিয়ে ধূসর বা সাদা রঙ ধারণ করতে শুরু করে।

গবেষণার জন্য এনওয়াইইউর ল্যাঙ্গোন হেলথ টিমটি বিশেষ স্ক্যান ও ল্যাব কৌশল ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

গবেষক দলের প্রধান ডা. কিউই সান নেচার জার্নালকে বলেন, মেলানোসাইট স্টেম সেলগুলো কীভাবে চুলের রঙ তৈরির কাজ করে, সে বিষয়ে তারা প্রাথমিকভাবে কিছু ফলাফল পেয়েছেন। আর তাতে চুল ধূসর হওয়া ঠেকানোর উপায় উদ্ভাবনের সম্ভাবনা জাগছে।

গবেষকরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে স্টেম সেলগুলো ফলিকলের চারপাশে ঘোরাঘুরি কমিয়ে দেয়, এমনকি কখনও স্থির হয়ে যায়। আর এ জন্যই পরিণত মেলানোসাইটগুলো চুলের রঙ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। কোনো রঙ উৎপাদনকারী সেল না থাকলে চুল ধূসর, সাদা বা রূপালী হতে থাকে।

গবেষকরা বলে থাকেন, চুলে পাক ধরার অনেক কারণের মধ্যে একটি সম্ভাব্য কারণ হল পুষ্টির অভাব।

গবেষকের কারও কারও দাবি, অতিরিক্ত মানসিক চাপেও চুল সাদা হয়ে যেতে পারে। এ নিয়ে তাদের পরামর্শ, চুলের কালো রঙ ঠিক রাখতে উদ্বেগ দূর করে পিগমেন্টেশন প্রক্রিয়ায় অন্তত কিছু সময়ের জন্য চুলকে প্রাকৃতিক রঙে রাখা যেতে পারে।

এর বাইরে জিনগত কারণেও চুল একটি বয়সে গিয়ে ধূসর হয়ে যেতে পারে বলেও বিজ্ঞানীরা মনে করেন।

Pin It