রংপুর-৩: এরশাদের শূন্য আসনে কে ?

Untitled-11-5d321cdf69b3d

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর রংপুর-৩ সদর আসন এখন শূন্য। পার্টির নেতাকর্মীদের মাঝে শোক বিরাজ করলেও কে বসবেন এই শূন্য আসনে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে সর্বত্র। তার আসন জাতীয় পার্টিরই থাকবে, নাকি চলে যাবে আওয়ামী লীগের দখলে, চলছে সেটার চুলচেরা বিশ্নেষণও। সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা তাদের মতামত তুলে ধরে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।

জানা যায়, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে রংপুর-৩ সদর আসনে প্রথম নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের সিদ্দিক হোসেন। এরপর ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের কাজী আব্দুল কাদের, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির শফিকুল গাণি স্বপন, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, ১৯৯১, ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ২০০১ সালে জিএম কাদের, ২০০৮ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে রওশন এরশাদ, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন এ আসনের।

গত ১৬ জুলাই রংপুরে সমাধিস্থ করা হয় এরশাদকে। ওই দিন তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। সংসদ সচিবালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আ ই ম গোলাম কিবরিয়া আসনটি শূন্য হওয়ার গেজেট প্রকাশ করেন। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে রংপুর-৩ সদর আসনে নির্বাচন সম্পন্ন করবে নির্বাচন কমিশন।

গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৩০ আষাঢ় ১৪২৬/১৪ জুলাই ২০১৯ তারিখ পূর্বাহ্নে মৃত্যুবরণ করায় একাদশ জাতীয় সংসদের রংপুর-৩ আসনটি উক্ত তারিখে শূন্য হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামানকে এ আসনে এমপি হিসেবে মনোনয়ন দিতে প্রচার শুরু হয়েছে এরই মধ্যে। গত ১৭ জুলাই নগরীর মাহিগঞ্জ এলাকার জয় চৌধুরী তার ফেসবুকে লিখেছেন- ‘আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা চৌধুরী খালেকুজ্জামান মহোদয়কে রংপুরে নৌকার মাঝি হিসেবে দেখতে চাই।’ এদিকে ফেসবুকে অনেকে এ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজুকে মনোনয়ন দিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের হয়ে এ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলামের নামও শোনা যাচ্ছে।

অন্যদিকে এ আসনে উপনির্বাচনে অংশ নিতে এরশাদের পরিবারের তিন ব্যক্তির নাম বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। এরশাদের ভাই হুসেইন মুহম্মদ মোর্শেদ, এরশাদের ছেলে রাহগীর আলমাদি শাদ এরশাদ ও এরশাদের ভাতিজা রংপুর-১ গঙ্গাচড়া আসনের সাবেক এমপি হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ। তবে গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন আসিফ। সেই সময় জাতীয় পার্টি থেকে বরখাস্ত করা হয় তাকে।

এরশাদ পরিবারের বাইরে নাম শোনা যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৫ মিঠাপুকুর আসনে জাতীয় পার্টি থেকে অংশ নেওয়া ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীরের নাম। গত নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী এইচএন আশিকুর রহমানের কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন।

পার্টির চেয়ারম্যানের মৃত্যুতে শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি নেতারা। কে হচ্ছেন রংপুর-৩ সদর আসনের প্রার্থী তা নিয়ে কথা বলতে নারাজ তারা। তবে নেতারা মুখ না খুললেও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে রংপুরের সচেতন মানুষ।

নগরীর ধাপ জেল রোড এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সদর-৩ আসনে দীর্ঘ ২৮ বছর ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি দলের চেয়ারম্যান হওয়ায় বেশিভাগ সময় ঢাকায় থাকতেন। তাই রংপুরের সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ খুব কমই হতো। এ আসনে এমন একজনকে সংসদ সদস্য প্রয়োজন, যিনি সদরবাসীর সার্বিক উন্নয়ন করবেন এবং কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের ওপর গুরুত্ব দেবেন।’

নগরীর মাহিগঞ্জের বাসিন্দা শিক্ষক হাসেম আলী বলেন, ‘সদর আসনটি অতি গুরুত্বপূর্ণ আসন হওয়ায় দল-মত নির্বিশেষে যোগ্য মানুষকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা উচিত।’

উল্লেখ্য, বিগত সংসদ নির্বাচনে এরশাদ ছাড়াও পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান রিটা রহমান (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট-ধানের শীষ), আমিরুজ্জামান পিয়াল (ইসলামী আন্দোলন-হাতপাখা), সাব্বির আহমেদ (পিডিপি-বাঘ), আনোয়ার হোসেন বাবলু (বাসদ-কোদাল), আলমগীর হোসেন আলম (জাকের পার্টি-গোলাপ ফুল), তৌহিদুর রহমান মণ্ডল (খেলাফত মজলিস-দেয়াল ঘড়ি) ও সামসুল হক (এনপিপি-আম) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারাও এবার এই আসন থেকে নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

Pin It