রেকর্ড পতনের পর সূচকে এবার রেকর্ড উত্থান

Untitled-6-5ded992b9130d-5e23f4004c5a3

মূল্য সূচকের রেকর্ড উত্থানে দেশের শেয়ারবাজারের চলতি সপ্তাহের লেনদেন শুরু হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় দিনের লেনদেনের শুরুতেই শেয়ারদরে বেশ চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে। লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২০৪ পয়েন্ট বেড়ে ৪৩৫৪ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। সূচক বৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

ডিএসইএক্স সূচকের বৃদ্ধির এই হার একদিনের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রেকর্ড। ২০১৩ সালের ২৯ জানুয়ারি চালুর পর ডিএসইএক্স সূচকটির একদিনের সর্বোচ্চ পরিমাণ বেড়েছিল ২০১৫ সালের ১০ মে। ওইদিন ডিএসইএক্স সূচক ১৫৪ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ৪২৭৭ পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল।

তবে ডিএসইর যেকোনো সূচকের উত্থান বিবেচনায় আজকের লেনদেনের প্রথম ঘণ্টার সূচকের উত্থান গত প্রায় সোয়া সাত বছরের রেকর্ড।

যেকোনো সূচক বিবেচনায় এর আগের সর্বোচ্চ সূচক বৃদ্ধির হার ছিল ২০১২ সালের ২৯ নভেম্বর। ওইদিন ডিএসইর তৎকালিন প্রধান সূচক ডিজেন একদিনে ২১৯ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ সূচক বেড়েছিল।

অবশ্য বাজার সংশ্লিষ্ট বলছেন, আজকের প্রথম ঘণ্টা পর্যন্ত সূচক বৃদ্ধি গত ২০১১ সালের পর রেকর্ড। এর ব্যাখ্যায় তারা জানান, বর্তমানের প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স চালু হয়েছে ২০১৩ সালের ২৯ জানুয়ারি। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শুধু ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার (ঘোষণা ছাড়াই যেসব শেয়ার যেকোনো সময় কেনাবেচা করা যায়) নিয়ে গণনা করা হয়।

এর আগের ডিএসইর প্রধান সূচকটির নাম ছিল ডিএসই জেনারেল ইনডেস্ক (ডিজেন)। সূচকটি গণনা করা হতো তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির সব শেয়ারের ভিত্তিতে।

উভয় সূচকের পার্থক্য হলো- শেয়ারের একই পরিমাণ হ্রাস-বৃদ্ধির কারণে পূর্বের ডিএসই জেনারেল সূচকটি যতটা কমতো-বাড়তো, বর্তমানের সূচকটিতে তার থেকে কম পরিমাণ বাড়ে বা কমে।

অবশ্য আগের রেকর্ড ছিল লেনদেনের পুরো দিনের ভিত্তিতে। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, বাজারে লেনদেনের যে গতি আছে, তাতে শেয়ারদর ও সূচকের এ উত্থান লেনদেনের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, এর আগের সূচকের রেকর্ড উত্থানের ঘটনা স্বাভাবিক ছিল না। ২০১০ সালের ব্যাপক দরপতনের ঘটনায় ওই দরবৃদ্ধির ঘটনায় অব্যাহত দরপতন ঠেকাতের সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নানা উদ্যোগ বড় ভূমিকা রেখেছিল।

এবারের সূচকের উত্থানের প্রেক্ষাপটও তাই। গত সপ্তাহের শুরুতে পর পর দুইদিন ২ শতাংশের ওপর সূচকের পতন হয়েছিল। চলতি জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহের ২৬২ পয়েন্ট সূচকের পতন ছিল গত প্রায় আট বছরের রেকর্ড পতন।

এমন দরপতনের পর নানামুখী সমালোচনার পর নড়েচড়ে বসে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও সরকার। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক হয়েছিল।

ওই বৈঠকে শেয়ারবাজার সংকট নিরসনে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি থেকে জানানো হয়েছিল, বৈঠকে সরকারি ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারের উন্নয়নে ছয়টি নির্দেশনা জারি করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

পরে অবশ্য সংশোধন করে বিএসইসি যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে- শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। শেয়ারবাজারকে বিকশিত করতে স্বল্পমেয়াদি কিছু বিষয় অচিরেই কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা মত দিয়েছেন।

আজকের দরবৃদ্ধির বিষয়ে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, বিশেষত সরকারি ব্যাংক সক্রিয় ছিল। এই বাইরে ব্যক্তি শ্রেণীর বড় কিছু বিনিয়োগকারীও শেয়ার কিনছেন।

দিনের প্রথম ঘণ্টা লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বেলা সাড়ে ১১টায় পর্যন্ত ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৬০ কোম্পানির শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড (৩৭টি) ও কর্পোরেট বন্ডের (১টি) মধ্যে ৩৪৭টি লেনদেনে এসেছিল।

এর মধ্যে ৩৩৭টিই বা ৯৭ শতাংশ দর বেড়ে কেনাবেচা হয়েছে। বিপরীতে মাত্র ৩টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল বন্ধ ও রুগ্ন কোম্পানি তুংহাই নিটিং। শেয়ারটির দর ১০ শতাংশ বেড়ে ২ টাকা ২০ পয়সা দরে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

তবে ভালো শেয়ারগুলোর দরও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর মধ্যে বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ারদরও সর্বাধিক ১০ শতাংশ বেড়ে ৬৬ টাকায় কেনাবেচা হতে দেখা যায়। লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা শেষে দরবৃদ্ধির এর পরের অবস্থানে থাকা কোম্পানিগুলো ছিল হেইডেলবার্গ সিমেন্ট, আরামিট সিমেন্ট, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, আইডিএলসি, সমতা লেদার, আইসিবি, জাহীন স্পিনিং, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক। এসব কোম্পানির শেয়ারদর ৯ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

তবে লেনদেনের শীর্ষে ছিল স্কয়ার ফার্মা। শেয়ারটির দর বেলা সাড়ে ১১টায় ১২ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকা ৪০ পয়সায় কেনাবেচা হচ্ছিল। প্রথম ঘণ্টাতেই এ কোম্পানির ৬ লাখেও বেশি শেয়ার ১২ কোটি টাকায় কেনাবেচা হয়েছিল।

লেনদেনের এরপরের অবস্থানে ছিল লাফার্জ-হোলসিম সিমেন্ট, গ্রামীণফোন, খুলনা পাওয়ার, এডিএন টেলিকম। এসব কোম্পানির ৪ থেকে ৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা পর্যন্ত।

Pin It