লজ্জা থাকলে ফখরুল আগেই পদত্যাগ করতেন: কাদের

kader-5c3f236886e67

‘লজ্জা-শরম’ থাকলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও আগেই পদত্যাগ করতেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে বুধবার মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বর্ধিত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেপরোয়া চালক হয়ে গেছেন। কখন যে তিনি কোন দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেন, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘গত দশ বছরে বিএনপির যে মহাসচিব ১০ মিনিটের জন্যও আন্দোলন করতে পারেননি, যার নেতৃত্বে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ১০টিরও কম আসন পায়, লজ্জা-শরম থাকলে তিনি আরও আগেই পদত্যাগ করতেন।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আন্দোলনে চরম ব্যর্থতা, নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়, লজ্জা-শরম থাকলে আপনার আরও অনেক আগেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল।’

তিনি বলেন, নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণ তার (ফখরুল) ভালো লাগছে না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মত অভূতপূর্ব ফলাফল ’৭৫ পরবর্তী সময়ে কেউ কখনো দেখেনি। এ বিজয়কে যারা প্রত্যাখান করে জনগণের কাছে তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল তার দলের শোচনীয় পরাজয়ের জন্য পদত্যাগ না করে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনেন। নির্বাচনে কারচুপি হলে তিনি  কীভাবে জয়লাভ করলেন?’

নির্বাচন নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিবেদনকে ‘অলীক ও অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্প’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘টিআইবি নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়নি বলে অলীক, অবিশ্বাস্য রূপকথার কাহিনী সাজাচ্ছে। নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হয়েছে। বিএনপির কোনো এজেন্ট বা টিআইবি’র একজন প্রতিনিধিও নির্বাচনের দিন স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের বিরুদ্ধে কোন কথা বলেননি।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের দিন তারা নির্বাচনের কারচুপির কোনো কারণ খুঁজে পাননি। আর এখন তারা নির্বাচন নিয়ে কেন অলীক রূপকথার গল্প সাজাচ্ছেন তা আমরা জানি। দেশের জনগণই তার জবাব দেবে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাঈল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ।

যুবলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী যুবলীগ একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। আগামী ১৯ জানুয়ারির আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশকেও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য তাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।’

১৯ জানুয়ারির সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জনগণ ও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দেবেন বলেও জানান তিনি।

Pin It