চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি-সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিটে বিবাদী হিসাবে পক্ষভুক্ত হতে পৃথক তিনটি আবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এদিকে চুক্তি-সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা চেয়ে আদালতে আবেদন দিয়েছে রিট আবেদনকারী পক্ষ। বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন নথিভুক্ত করে পরবর্তী শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন রেখেছেন।
পক্ষভুক্ত হতে যারা আবেদন দিয়েছেন তারা হলেন বার্থ অপারেটর এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন সেলিম, স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির পক্ষে প্রধান সমন্বয়ক জিয়াউল হক ও শ্রমিক নেতা তসলিম উদ্দিন।
এর আগে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি-সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিটের ওপর গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বিভক্ত রায় দেন বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
২০১৫ সালের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) আইন ও ২০১৭ সালের জিটুজির নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব। এর সঙ্গে একমত নন উল্লেখ করে বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট আবেদন (রুল ডিসচার্জ) খারিজ করে রায় দেন।
এ অবস্থায় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে একটি একক বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি। বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হয়। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রিটটি আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত বলেন, অবকাশ শেষে রিটটি শুনবেন। অবকাশ শেষে ৪ জানুয়ারি নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি শুরু হয়।
মঙ্গলবার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী হেলাল চৌধুরী শুনানিতে অংশ নেন। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আনোয়ার হোসেন। শাহাদাত হোসেন সেলিমের পক্ষে আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী একেএম ফয়েজ এবং শ্রমিক নেতা তসলিম উদ্দিনের পক্ষে আইনজীবী সাকিব মাহবুব শুনানিতে ছিলেন।
‘হাইকোর্টের দ্বিধাবিভক্ত রায় সত্ত্বেও এনসিটির চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে’ শীর্ষক বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন যুক্ত করে স্থিতাবস্থা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনকারীর আইনজীবী আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, বিভক্ত রায়ের পর রুলের ওপর বিষয়বস্তুতে ৪ ও ৮ জানুয়ারি এবং আজ শুনানি হয়। তৃতীয় বেঞ্চে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাই চলমান প্রক্রিয়ার ওপর স্থিতাবস্থা চেয়ে আজ আবেদনটি দাখিল করা হয়, যা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পৃথক ব্যক্তি-সংগঠনের পক্ষে রিটে বিবাদী হিসাবে পক্ষভুক্ত হতে তিনটি আবেদন দাখিল করা হয়েছে, যা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
শ্রমিক নেতা তসলিম উদ্দিনের আইনজীবী সাকিব মাহবুব বলেন, রিটে বিবাদী হিসাবে পক্ষভুক্ত হতে আবেদন দাখিল করা হয়েছে। আবেদনটি নথিতে রেখেছেন আদালত। পক্ষভুক্ত হতে করা আবেদনকারীদের বক্তব্য শুনবেন বলেছেন আদালত। সেজন্য মঙ্গলবার দিন রেখেছেন। রিট সমর্থন করে শুনানিতে অংশ নেবেন বলে জানান এ আইনজীবী।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক হয়। এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এ কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি-সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসেন গত বছর ওই রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৩০ জুলাই হাইকোর্ট রুল দেন। রুলের ওপর শুনানি শেষে ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে বিভক্ত রায় হয়।





