বর্তমান সরকার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। সংবিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি এ ভাষণ দেন।
ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার সব কার্যক্রমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও চর্চার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সরকার একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে চলছে। এ ক্ষেত্রে নবগঠিত সরকারের সামনে দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতি দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পথ কঠিন হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এসব বাধা অতিক্রম অসম্ভব নয়। সরকারি ও বিরোধী দলগুলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করলে খুব দ্রুত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। যেসব পরিকল্পনাকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার জনরায়ের ভিত্তিতে সরকার গঠন করেছে, সে অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দেশকে এগিয়ে নিতে পারবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলীয় সম্মানিত সংসদ সদস্যরা জাতির কাছে দায়বদ্ধ।
ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, আর দলের চেয়ে দেশ বড়; এই বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব হবে, ইনশাআল্লাহ।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনআস্থা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা আবার ফিরে এসেছে। নির্বাচন কমিশন যাতে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অটুট রাখতে পারে, সে জন্য ভবিষ্যতের নির্বাচনী কার্যক্রমেও সরকার সেটি সমুন্নত রাখবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যাতে আইন অনুযায়ী স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সরকার তা নিশ্চিত করবে।
রাষ্ট্রপতি জানান, বর্তমানে দেশে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ‘পোস্টাল ব্যালট অ্যাপ’র মাধ্যমে ১৫ লাখের বেশি প্রবাসী ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। তিনি এটিকে নির্বাচন কমিশনের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।





