আবার হামলা হলে আরব দেশগুলোর জ্বালানি ধ্বংস করে দেব: ইরান

Iran-missile-attack-670003a8a869f-69bb28b52a61b

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা বলেছে, নিজেদের জ্বালানি খাতে আবার হামলা হলে উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের তেল-গ্যাস অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলে, ‘আমরা আবারও সতর্ক করছি যে তোমরা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা করে বড় ভুল করেছ। এর জবাব দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। আবার হামলা করা হলে তোমাদের এবং তোমাদের মিত্রদের জ্বালানি অবকাঠামোয় আক্রমণ থামানো হবে না, যতক্ষণ না তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়। এবারের জবাব আরও অনেক বেশি কড়া হবে।’

ইসরায়েল ইরানের বিশাল সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালানোর পর এই হুঁশিয়ারি আসে। এই খবরে তেলের বাজারে ধাক্কা লাগে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়।

আইআরজিসি সৌদি আরবের সামরেফ রিফাইনারি ও জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হোসন গ্যাসক্ষেত্র এবং কাতারের মেসাইয়িদ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স ও রাস লাফান রিফাইনারিকে লক্ষ্যবস্তু করার সতর্কবার্তা জারি করে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি সাউথ পার্সে ইসরায়েলি হামলাকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বহীন পদক্ষেপ’ বলে নিন্দা করেছেন।

এদিকে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কুয়েতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই সংঘাতে ইরান ইরাকে গ্যাস সরবরাহও বন্ধ করে দেয়। ইরাক তার মোট গ্যাস ও বিদ্যুতের এক-তৃতীয়াংশ থেকে ৪০ শতাংশ ইরান থেকে পায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় হরমুজ প্রণালী নিয়ে মার্কিন মিত্রদের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘মার্কিন মিত্রদের এখনই সক্রিয় হতে হবে এবং হরমুজ প্রণালী খুলতে সাহায্য করতে হবে।’

এই সংঘাতের শুরু থেকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের ভেতরে পাঁচ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে দৈনিক জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।

Pin It