জুতা রক্ষায় জানা থাকা চাই যত্নের সঠিক কৌশল।
পোশাকের সঙ্গে মানানসই এক জোড়া জুতা শুধু পায়ের সৌন্দর্য বাড়ায় না- পাশাপাশি রুচি, ব্যক্তিত্ব ও জীবনধারার পরিচয়ও বহন করে।
চামড়াজাত পণ্য ও জুতা প্রতিষ্ঠান ‘অরোরা’র স্বত্বাধিকারী আশরাফ উদ্দিন বলেন, “আজকাল ফাস্ট ফ্যাশনের যুগে জুতা ছিঁড়ে গেলেই ফেলে দিয়ে নতুন কেনার চেষ্টা করি। তবে সঠিক যত্ন নিলে প্রিয় এক জোড়া জুতা বছরের পর বছর নতুনের মতো টিকে থাকতে পারে।”
এটি শুধু টাকা বাঁচানো নয়— পরিবেশের প্রতি দায়িত্ব পালনও বটে।
জুতা ভালো রাখতে যেসব কাজ করতে হবে
জুতার আয়ু বাড়াতে সচেতনতা ও নিয়মিত যত্নই মূল চাবিকাঠি। আশরাফ উদ্দিনের পরামর্শে এখানে কিছু ব্যবহারিক উপায় তুলে ধরা হল।
মুচির ওপর আস্থা
জুতার তলা ফেটে গেলে বা সেলাই খুলে গেলে অনেকে ভাবেন— এটা বাতিল। তবে দক্ষ মুচিরা সামান্য আঠা, তালি বা সোল বদলে মাত্র কয়েকশ’ টাকায় জুতা আরও এক-দুই বছর ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে পারেন।
এমনকি প্রিয় স্নিকারের তলা বদলানোর সুবিধাও এখন সহজলভ্য।
কেনার সময় সচেতনতা
জুতা কেনার সময় আরামের পাশাপাশি উপাদানের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ‘ইনসোল’ যদি কার্ডবোর্ডের হয়, তাহলে তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়।
চামড়ার জুতা হলে ভেতরের আস্তরণও চামড়ার কি-না যাচাই করতে হবে। চামড়ার তলার জুতা কিনলে শুরুতেই পাতলা রাবারের সোল বসিয়ে নেওয় উপকারী— এতে টেকসই হয় দ্বিগুণ, পিচ্ছিল মেঝেতে পড়ার ঝুঁকিও কমে।
চামড়াকে ‘খাবার’ দিন
প্রাণীর ত্বকের মতো চামড়ার জুতারও পুষ্টি দরকার। নিয়মিত ভালো মানের চামড়ার তেল বা কন্ডিশনার লাগালে চামড়া নমনীয় থাকে, ফাটে না।
প্লাস্টিক বা সিনথেটিক জুতার ক্ষেত্রে শুধু ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে রাখলেই যথেষ্ট।
অদলবদল করে পরা
একই জুতা টানা দুদিন পরা ঠিক না। পায়ের ঘাম জুতার ভেতরে শোষিত হয়। ২৪ ঘণ্টা বিশ্রাম দিলে জুতা শুকায়, আগের আকারে ফিরে আসে। এতে আয়ু বাড়ে, দুর্গন্ধও কমে।
নিয়মিত পরিষ্কার করা
জুতার ভাঁজে রাস্তার ধুলোবালি জমে ঘর্ষণ তৈরি হয়— এটি দ্রুত ছিঁড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
প্রতিদিন ব্যবহারের পর ভেজা কাপড় দিয়ে হালকা মুছে রাখতে হবে। স্নিকার হলে সাবান-পানি আর স্পঞ্জ দিয়ে হাতে পরিষ্কার করা যায়।
ওয়াশিং মেশিনে দেওয়া যাবে না, আঠা ও গঠন নষ্ট হয়ে যাবে।
নিয়ম মেনে পালিশ করা
জুতার উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ভালো মানের পালিশ ব্যবহার করা জরুরি। আবার অতিরিক্ত পালিশ হিতে বিপরীত হতে পারে।
সামনের অংশ ও গোড়ালিতে বেশি পালিশ করুন, ভাঁজের জায়গায় সামান্য।
সরাসরি তাপ এড়িয়ে চলা
ভেজা জুতা কখনও রোদে বা চুলার পাশে শুকানো যাবে না। আঠা আলগা হয়, চামড়া শক্ত হয়ে ফেটে যায়। ছায়ায় বা ঘরের তাপমাত্রায় শুকাতে দিতে হবে।
জুতা পরার সরঞ্জাম ব্যবহার করা
জুতার পেছন দুমড়ে যাওয়া ঠেকাতে ‘শু-হর্ন’ ব্যবহার করা উচিত। ফিতে না খুলে জোর করে পা ঢোকালে গঠন নষ্ট হয়।
লেস বা ফিতা নিয়মিত বদলান
পুরানো জুতা ঝকঝকে দেখাতে চাইলে শুধু ফিতা বদলালে, নিমেষে নতুনের মতো লাগবে।
সংরক্ষণ পদ্ধতি
দীর্ঘদিন তুলে রাখতে চাইলে আসল বাক্সে রাখাতে হবে। ধুলোবালি ও সূর্যালোক থেকে সুরক্ষা পাবে।
ভেতরে জুতার ট্রি বা পুরোনো খবরের কাগজ ভরে রাখলে আকার ঠিক থাকে।





