সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ, যা নিয়ে ক্রিকেটমহলে তখন ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল। মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ পড়া এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে দলের কঠোর অবস্থান—সব মিলিয়ে বিষয়টি বিতর্কের জন্ম দেয়। বিশ্বকাপ শেষ হলেও বাংলাদেশ দলের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে।
তবে বিষয়টিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বললেও এখন আর তা নিয়ে ভাবতে চান না বলে জানিয়েছেন শামীম পাটোয়ারী। তিনি বলেন, অতীত নিয়ে না ভেবে সামনে এগোনোই গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবার (২ মে) নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তার আগে সংবাদ সম্মেলনে শামীম বলেন, দল হিসেবে তারা ভালো পারফর্ম করছে এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিশ্বকাপ মিস হওয়াকে এখন অতীত হিসেবে দেখছেন এবং বর্তমান সিরিজে ইতিবাচক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে চান।
সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী এই ব্যাটার বলেন, দল জয়ের জন্যই খেলবে এবং সুযোগ কাজে লাগাতে চায়।
ব্যক্তিগত পরিকল্পনা নিয়ে শামীম জানান, তিনি সবসময় আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চান এবং ঘরোয়া লিগ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগকে (ডিপিএল) আগামীতে ওয়ানডে ফরম্যাটে ফিরে আসার ভালো সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
কবে দেশে ফিরবেন, জানালেন সাকিব
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বাইরে থাকা সাকিব আল হাসান অবশেষে বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাব্য সময় নিয়ে কথা বলেছেন। সাবেক এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ দেশে ফিরতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার পর আর দেশে ফেরা হয়নি সাকিবের। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য হওয়ায় তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক আইনি জটিলতা তৈরি হয়। এরপর থেকেই তিনি পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ে ‘ইইউ টি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম ২০২৬’-এর জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘স্পোর্টস্টার’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সাকিব।
তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে বছরের শেষ দিকে সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে। আপাতত ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছি। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত- আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে। প্রশ্ন শুধু এটাই যে কত দ্রুত তা ঘটতে পারে।’
সাকিব আরও বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে বছরের শেষ দিকে ফিরতে পারব। কিভাবে ঘটবে জানি না। তবে আমি সত্যিই আশাবাদী।’
চলতি বছরের শুরুতে সাকিবকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তখন আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড তার আইনজীবীদের কাছ থেকে মামলার কাগজপত্র সংগ্রহ করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল।
সে সময় বিসিবির কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান সিরিজ দিয়েই জাতীয় দলে ফিরতে পারেন সাকিব। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।
সাকিবের দাবি, আগের বোর্ড ফেরানোর আগ্রহ দেখালেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
তিনি বলেন, ‘আগের বোর্ড সত্যিই আমাকে ফেরানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছিল। কিন্তু মুখে বলা আর সেটাকে বাস্তবায়িত করা- দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে। এখনও আমি শুনি যে সবাই আমাকে ফেরাতে চায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো- সত্যিকার অর্থে কেউ তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।’
এদিকে বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালও সাকিবের দেশে ফেরার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সাকিবকে নিয়ে যেমন আলোচনা হচ্ছে, আমাদের আরও দুই সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি ও দুর্জয় ভাইও একই অবস্থায় আছেন। তাদের নিয়েও ভাবা উচিত।’
তামিম আরও বলেন, ‘ওর যে বিষয়টা আছে, ক্রিকেটিং যেকোনো সুযোগ-সুবিধার জন্য আমাদের দুয়ার সবসময় খোলা। আইনগত বিষয়গুলো আমাদের মন্ত্রী (যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী) মহোদয় দেখছেন, তারা নমনীয় হওয়ার কথা বলেছেন। আইনি সমস্যা সমাধান করে তারা ফিরলে আমরা তাদের দুই হাত বাড়িয়ে স্বাগত জানাব।’
বাংলাদেশের হয়ে সর্বশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্ট খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান। এরপর আর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামেননি তিনি। তবে এর আগে একাধিকবার দেশের মাটিতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার।





