বাংলাদেশসহ ১৬ দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

16-69b329dd5f46d

বিশ্ববাজারে পণ্যের অতিরিক্ত উৎপাদন মার্কিন উৎপাদন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে কি-না, তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ, ভারত, চীনসহ ১৬টি বাণিজ্য অংশীদারের বিরুদ্ধে নতুন করে বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১-এর অধীনে এই তদন্ত শুরু করে।

সাধারণত কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের ‘অন্যায্য বাণিজ্য আচরণ’ মোকাবিলায় ওয়াশিংটন এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাতিল করার পর সরকারের পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান যুগান্তরকে বলেন, ইউএসটিআরের বিবৃতিতে মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। যেমনটা তারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে পারস্পারিক শুল্ক আরোপ করেছিল। যেই ১৬ দেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেসব দেশে পণ্য উৎপাদনে অন্যায্য চর্চা, শ্রম অধিকার লঙ্ঘন, অতিরিক্ত রপ্তানিতে প্রণোদনা এবং মেধাস্বত্বের লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটছে কি-না, সেসব খতিয়ে দেখতে তারা শুনানি করবে। অভিযোগের প্রমাণ পেলে হয়তো তারা বাড়তি শুল্ক বসাতে পারে। এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় অন্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের নাম আসাটা অস্বস্তিকর। তবে এতে খুব চিন্তিত হওয়ার কিছুই নেই। কারণ, বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদনে মেধাস্বত্বের চর্চা এখনো সীমিত এবং বাংলাদেশ যেই ধরনের পণ্য (তৈরি পোশাক) উৎপাদন করে তা যুক্তরাষ্ট্র উৎপাদন করে না। তিনি আরও বলেন, তদন্তের বিষয়টি যেহেতু সামনে এসেছে, সেহেতু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, সেকশন ৩০১-এর অধীনে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা নিয়ে যে তদন্ত শুরু হয়েছে, তার ভিত্তিতে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকোর মতো দেশের ওপর এই গ্রীষ্মের মধ্যেই নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এই তদন্তে যদি কোনো দেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেই দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আমদানি শুল্ক আরোপ করতে পারবে।

গ্রিয়ার বলেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ট্রাম্প যে অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা। এর আগেই তিনি এ তদন্ত শেষ করার আশা করছেন।

বাংলাদেশের পাশাপাশি তদন্তের তালিকায় রয়েছে-চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার কানাডার নাম এ তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্ট রায় দিয়ে বলেছেন, গত বছর এপ্রিলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা অবৈধ। এ রায়ের পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। তিনি আদালতের ওই রায়কে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেন এবং তার বাণিজ্যনীতি বাতিল করা বিচারকদের ‘মূর্খ’ বলে সমালোচনা করেন।

উচ্চ আদালত তখন রায় দিয়েছে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। রায়ে বলা হয়েছে জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য সংরক্ষিত আইনকে ব্যবহার করে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে ট্রাম্প তার কর্তৃত্বের সীমা লঙ্ঘন করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী, এ ধরনের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে বলেন, প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের মতো অসাধারণ ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন দেখাতে হবে। তিনি তা করতে পারেন না।

গত বছরের এপ্রিলে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের পণ্য আমদানির ওপর ১০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Pin It