ইরানের এই হামলার জবাব দেওয়ার ‘পূর্ণ ও বৈধ অধিকার’ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম প্রধান তেল স্থাপনা ফুজাইরাতে ইরানের ড্রোন হামলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আহত হয়েছে তিন ভারতীয় নাগরিক। তাদেরকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নগরীর গণমাধ্যম কার্যালয়।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ড্রোন হামলার পাশাপাশি ইরান থেকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করা হয়েছে।
ফুজাইরা পেট্রোলিয়াম কমপ্লেক্সে এই হামলার জন্য ইরানকে ‘সম্পূর্ণ দায়ী’ করে এক বিবৃতিতে আমিরাত একে আন্তর্জাতিক আইনের মূলনীতি ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। এই হামলার জবাব দেওয়ার ‘পূর্ণ ও বৈধ অধিকার’ রয়েছে বলেও জানায় তারা।
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদও (জিসিসি) আমিরাতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। মহাসচিব জসিম মোহাম্মদ বলেন, এই হামলা জিসিসি’র সদস্য একটি সদস্যদেশের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, আমিরাতকে লক্ষ্যবস্তু করার কোনো পরিকল্পনা তেহরানের ছিল না। তবে ইরান এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘অ্যাডনক’-এর একটি ট্যাংকারেও হামলার খবর পাওয়া যায়। কাতার এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে হরমুজ প্রণালি শর্তহীনভাবে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে মার্কিন বাহিনী ইরানের সাতটি ‘ছোট নৌকায়’ হামলা চালিয়েছে।
তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকেও এই মিশনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে মঙ্গলবার সকালে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সংবাদ সম্মেলন করবে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।





